২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল ঝাড়গ্রাম একটি স্বতন্ত্র জেলার সম্মান পায়। এই জেলার বেলপাহাড়ি, লালগড় বিনপুর এবং ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী জঙ্গলমহল এলাকাএকসময়ে মাওবাদী অধ্যুষিত ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই আয়ত...
২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল ঝাড়গ্রাম একটি স্বতন্ত্র জেলার সম্মান পায়। এই জেলার বেলপাহাড়ি, লালগড় বিনপুর এবং ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী জঙ্গলমহল এলাকাএকসময়ে মাওবাদী অধ্যুষিত ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই আয়ত্বে। তবুও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই জেলা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।জেলায় রয়েছে পাহাড় রয়েছে ঝড়না রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস। রয়েছে রাত্রিবেলায় মুখে গামছা চাপা ফিসফিসানি। এবারে বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রামের হাওয়া বইবে কোন দিকে। আমরা আলোচনা করব। তার আগে দেখে নেব জেলার সীমানা
জেলার সীমানাrnrnঝাড়গ্রাম পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এর উত্তরে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া, পূর্বে পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণে ওড়িশা এবং পশ্চিমে ঝাড়খন্ড রাজ্য । জেলার উত্তরে কংসাবতী এবং দক্ষিণে সুবর্ণরেখা নদী প্রবাহিত। এই নদী, জঙ্গল নিয়ে ঝাড়গ্রামের নৈসর্গিক দৃশ্য এই জেলাকে পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে দিয়েছে। জেলায় মোট ৪ টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। এগুলি প্রধানত তফশিলি উপজাতি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। এই চারটি আসন হল ঝাড়গ্রাম, বিনপুর, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম
ভোট ইতিহাস, ভোট ফল
প্রান্তিক জেলা ঝাড়গ্রাম। একটা সময়ে লাল আলতায় লেখা হুশিয়ারি পোস্টার পাওয়া যেত বাড়ির দেওয়ালে। একটা সময় ক্ষেতের ধারে পড়ে থাকতে দেখা যেত ছেঁড়া লুঙ্গি আর স্যান্ডোগেঞ্জি পরা বুর্জোয়া জোতদারদের। গত দেড় শতকে বদলেছে অনেক কিছুই। চলুন দেখে নেওয়া যাক গত দুই বিধানসভায় কী ফল হয়েছে ঝাড়গ্রামে?
rnঝাড়গ্রামrnrn২০১৬ সালের ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুকুমার হাঁসদা। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে জয় পান তৃণমূলের বীরবাহা হাঁসদাrnrnবিনপুর
বিনপুর কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের খগেন্দ্রনাথ হেমব্রম। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন তৃণমূলের দেবনাথ হাঁসদাrnrnগোপীবল্লভপুর
গোপীবল্লভপুর কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের চুড়ামণি মাহাতো। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের খগেন্দ্রনাথ মাহাতোrnrnনয়াগ্রামrnrnনয়াগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ এর নির্বাচনে জিতেছিলেন তৃণমূলের দুলাল মুর্মুrnrn
লোকসভার হিসেব
এবার দেখে নেওয়া যাক ২০১৯ এবং ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে কোন দিকে ছিল ঝাড়গ্রামের হাওয়াrnrnঝাড়গ্রামে মোট একটাই লোকসভা কেন্দ্র রয়েছে। ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রে ২০১৯ সালে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির কুনর হেমব্রম। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পালাবদল ঘটে। এই কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের কালিপদ সোরেন।rnrnমোটের ওপর ঝাড়গ্রাম জেলায় ঘাসফুলের হাওয়া। কিন্তু একটা বিষয় যদি বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে বিগত দুটি বিধানসভা নির্বাচনে নয়াগ্রাম বিধানসভা ছাড়া আর কোনও কেন্দ্রে একই প্রার্থী দু বার দাঁড়াননি। কারণ হতে পারে সাংগঠনিক। তাই ঝাড়গ্রাম নিয়ে এবারে আশাবাদী বিজেপি শিবির।rnrnএবারের ভোট ইস্যু
কারও রিপোর্ট কার্ডে জ্বলজ্বল করছে ভাতা। কেউ বা অভিযোগ পত্রে তুলে ধরছেন অনুন্নয়নের কথা। রাজনৈতিক দলাদলিতে ঝাড়গ্রামের নাগরিক জীবন ব্যহত হয়েছে বহুবার। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। দেখে নেওয়া যাক কোন কোন ইস্যুর দাঁড়িয়ে ভোট হবে এই জেলায় rnrnঝাড়গ্রামের এবারের মূল ভোট ইস্যু স্থানীয় উন্নয়ন, রাজ্যজুড়ে ভোটার কমার প্রবণতা থাকলেও, ঝাড়গ্রামে উলটপুরাণ দেখা গেছে। এসআইআর সংশোধনের চূড়ান্ত তালিকায় ঝাড়গ্রামে নতুন ভোটার যোগ হয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই নতুন ভোটারদের মন জয় করা সব দলের জন্যই প্রধান লক্ষ্য। ঝাড়গ্রামের একটা অংশ তাদের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যা একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল তাদের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো অর্থাৎ বিভিন্ন ভাতার কথা রিপোর্ট কার্ডে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, অন্যান্য বিরোধী দলগুলি আদিবাসী এলাকায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবকে সামনে এনে প্রচার চালাচ্ছে। জঙ্গলমহলের এই জেলায় আদিবাসী এবং কুড়মি ভোটাররা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদিবাসী অধিকার, জমি সংক্রান্ত বিষয় এবং কুড়মি সম্প্রদায়ের তফসিলি উপজাতি মর্যাদার দাবি এবারের ভোটে বড় ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়াও শুখা মরসুমে ঝাড়গ্রামে তীব্র জলসংকট দেখা যায়। জঙ্গল লাগোয়া অঞ্চলগুলিতে হাতির হানা এখানকার একটি বড় সমস্যা। সঠিক তথ্যের অভাবে এখানকার অসংখ্য মানুষ সরকারি প্রকল্পগুলি পায় না সেভাবে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।rnrn কী হতে চলেছে ঝাড়গ্রামে? কোন পতাকায় ভরসা রাখবে ঝাড়গ্রাম বাসী? জানতে অপেক্ষা করতেই হবে। এ পর্ব এ পর্যন্তই। আপনারা দেখতে থাকুন সিএন ডিজিটালে বাংলা তুমি কার।