দার্জিলিং যদি পাহাড়ের রানি হয়, তাহলে কালিম্পং অবশ্যই পাহাড়ের রাজপুত্র। চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জ যেন শায়িত বুদ্ধ। কিছুদিন আগেও কালিম্পং দার্জিলিং এর ছত্রছায়ায় ছিল, এখন স্বাধীন জেলা। নতুন জেলা সম...
দার্জিলিং যদি পাহাড়ের রানি হয়, তাহলে কালিম্পং অবশ্যই পাহাড়ের রাজপুত্র। চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জ যেন শায়িত বুদ্ধ। কিছুদিন আগেও কালিম্পং দার্জিলিং এর ছত্রছায়ায় ছিল, এখন স্বাধীন জেলা। নতুন জেলা সমস্যা রয়েছে, রয়েছে হাজার রাজনৈতিক সমীকরন। এরই মধ্যে দুয়ারে বিধানসভা। নির্বাচন সম্পর্কে জানব, তার আগে জেনে নেওয়া যাক কালিম্পং জেলা সম্পর্কে।
জেলার সীমানা
হিমালয়ের পাদদেশে একটি জনপ্রিয় হিল স্টেশন কালিম্পং। ডেলো এবং দুরপিন হিলের মাঝে অবস্থিত কালিম্পং বিখ্যাত এর একাধিক ভিউপয়েন্ট, পুরানো মঠ, পাইনের জঙ্গল, ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যের জন্য। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কালিম্পং পূর্ণ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কালিম্পং এর উত্তরে সিকিমের পাকইয়ং জেলা, পূর্বে ভুটান, পশ্চিমে দার্জিলিং এবং দক্ষিণে জলপাইগুড়ি জেলা ও তিস্তা নদী। কালিম্পং এর আয়তন মাত্র ১০৫৩ বর্গ কিলোমিটার, যা হাওড়ার থেকেও কম। ২০১৭ সালের আগে কালিম্পং দার্জিলিংয়ের একটি মহকুমা ছিল। পাহাড়ি এলাকা হওয়ার জন্য কালিম্পংয়ের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দার্জিলিং গিয়ে কাজ করা কষ্টসাধ্য ছিল। নতুন জেলা হওয়ার পর মানুষের দরজায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হয়েছে। কালিম্পং জেলায় একটি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। বিধানসভা কেন্দ্রটির নাম কালিম্পং বিধানসভা কেন্দ্র।
ছোট জেলা কালিম্পং। গোটা জেলায় মাত্র একটিই বিধানসভা কেন্দ্র। যেহেতু নতুন জেলা তাই এখানকার ভোট ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করার খুব একটা বেশি কিছু নেই। তবে পাহাড়ের রাজনীতি সমতলের রাজনীতির থেকে সবসময় আলাদা।
ভোট ইতিহাস, ভোট ফল
কালিম্পং বিধানসভা কেন্দ্র
২০১৬ সালে কালিম্পং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তরফে সরিতা রায় হারিয়েছিলেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দী হরকা বাহাদুর ছেত্রীকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার তরফে রুদেন সদা লেপচা। হারিয়েছেন সুভা প্রধানকে। কালিম্পং এর কোনও লোকসভা কেন্দ্র নেই। এই ভৌগলিক অঞ্চলটি দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লোকসভা ভোটে এখানে গেরুয়া পতাকা উড়েছে। ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এখান থেকে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্ত।
হিমালয়ের কোলে কালিম্পং এর অবস্থান। এখানে প্রকৃতি প্রতিদিন ভাঙাগড়ার খেলা চালাচ্ছে। এই ভূ বিপর্যয় কালিম্পং এর সবথেকে বড় সমস্যা সুতরাং পরিকাঠামো গত তর্জা এই জেলার প্রধান ভোট ইস্যু। তাছাড়া আর কী কী ইস্যুর ওপর দাঁড়িয়ে এখানকার ভোট?
এবারের ভোট ইস্যু
কালিম্পং জেলার একটি বড় সমস্যা প্রাকৃতিক বিপর্যয়। ভৌগোলিক কারণে কালিম্পং একটি দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল সিসমিক জোন ৪ এর আওতায় পড়ে। এই বিপর্যয়ের ফলে পরিকাঠামোগত দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠেছে। এছাড়াও গোটা জেলায় পানীয় জলের সংকট প্রবল। শহরের পাইপলাইনগুলো অত্যন্ত পুরানো। এছাড়া এখানে জলের সরবরাহ নিয়মিত নয়। তারওপর চলতি বছরে শীতকালে জলস্তর নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্ষাকালে দশ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামলে জেলাটি সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ২০২৪-২০২৫ সালে তিস্তার পাড় ভেঙ পড়ার ফলে পর্যটকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য এখনো অনেক দূর অর্থাৎ প্রায় ৭০ কিলোমিটার নিচে শিলিগুড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়। শিলিগুড়ি-রংপো রেল প্রকল্পের সুড়ঙ্গ তৈরির কাজের সময়, ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং বৃষ্টির কারণে অনেক গ্রামে ফাটল ধরার অভিযোগ উঠেছে।
নতুন জেলা, সমস্যা রয়েছে প্রচুর। ভৌগলিক অবস্থান এই জেলাকে আর পাঁচটা জেলার থেকে পিছিয়ে রেখেছে। পর্যটনের ওপর নির্ভর করে জেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। আগামী নির্বাচনে জীবনযাত্রার উন্নতির বিশ্বাস যারা জোগাতে পারবে, তাদেরকেই বেছে নেবে কালিম্পং এর মানুষ। ফল জানতে অপেক্ষা করতেই হবে ।