অসীম সেন : ভিআর আম্বেদকরের একটি কথা মনে রাখার মত। পিওন নেই, পানি নেই। একটা ছেলে। স্কুলঘরে যাঁর প্রবেশের অধিকার ছিল না। যাঁকে শিক্ষা দানে বড্ড গড়িমসি ছিল শিক্ষকদের। স্কুলে তৃষ্ণা পেলে যার মুখে, আলগোছে...
অসীম সেন : ভিআর আম্বেদকরের একটি কথা মনে রাখার মত। পিওন নেই, পানি নেই। একটা ছেলে। স্কুলঘরে যাঁর প্রবেশের অধিকার ছিল না। যাঁকে শিক্ষা দানে বড্ড গড়িমসি ছিল শিক্ষকদের। স্কুলে তৃষ্ণা পেলে যার মুখে, আলগোছে ওপর থেকে জল ঢেলে দিত পিওন। সেই পিওনের কথা মনে রেখে অম্বেদকর বলেছিলেন একথা। আব্রাহাম লিঙ্কন প্রথম জীবনে কাঠ কাটার কাজ করতেন। আধপেটা খেয়ে থাকতে হয়েছিল অনেকদিন।
এদের সঙ্গে কলিতা মাজির উদাহরণ টানা কতটা যুক্তিযুক্ত তা তর্কের বিষয়। কিন্তু পিছিয়ে পড়া মানুষদের মুখ এই মুহূর্তে বাংলায় কলিতা মাজি। লোকের বাড়িতে বাসন মাজা থেকে রাজ্যের মন্ত্রী। স্বামী কলমিস্ত্রি। খাওয়া দাওয়া হয়তো জুটে যেত, কিন্তু ছেলেটাকে লেখাপড়া শেখানো যেত না। লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ শুরু করেন কলিতা। মাসে কয়েকটা হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় মানে সংসারে একটু হলেও হাসি। এভাবেই চলছিল।
২০১৪ সালে বিজেপির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নেওয়া। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাসটা আরও পুরানো। ২০২১ সালে প্রথম বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তৃণমূলের কাছে প্রায় এগারো হাজার ভোটে হেরেছিলেন সেবার। হারলেন বটে, কিন্তু ততদিনে তিনি লাইমলাইটে। হেরো পার্টির প্রার্থীদের অনেকেই ভোজবাজি জানেন। কেউ দামি গাড়ি চড়েন, কেউ বা হঠাৎ করে ব্যবসায় ফুলে ফেঁপে ওঠেন। কিন্তু কলিতা ভোজবাজি জানেন না।
চালিয়ে যেতে থাকলেন অন্যের বাড়িতে ঘরমোছা বাসনমাজার কাজ। একটা পাকা বাড়ি তুলতে শুরু করেছেন স্বামী আর নিজের উদ্যোগে। কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টাতেও সেই উদ্যোগ সম্পূর্ণ হয়নি এখনও। ২০২৬ সালে আউসগ্রাম থেকে বিধানসভা ভোটে জিতেছেন কলিতা। সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষগুলির জন্য একটি আওয়াজ হতে চান তিনি। মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ায় সেই আওয়াজ নিশ্চই আরও জোরালো হবে।
নিজের বাড়িটা কি এবার পাকা হবে? একটা নিজের গাড়ি, বিদেশে ছেলের উচ্চশিক্ষা? কত মানুষ তো ডিয়ার লটারির ভাগ্যে চালকল কিনলেন, রোল-চাউমিনের দোকান থেকে রাজা হলেন কত মানুষ। কীর্তন গাইতে গাইতে হঠাৎ করে কেউ হয়ে উঠলেন শত কোটির মালিক। কলিতা কি পারবেন না? ওই যে, সকলে ভোজবাজি শিখতে পারে না। কলিতা অন্তত থেকে যান সেই দলে।