কার্তিক ঠাকুর নিয়ে কনফিউসন নেহাত কম নেই। সুন্দর দেখতে এ বিষয়ে অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। কিন্তু শুধু রূপ আর কোন কালে তারকাসুরকে ঠ্যাঙানো ছাড়া তেমন ভাবে কিছু করে উঠতে পারেননি। ময়ূরের পিঠে চড়ে...
কার্তিক ঠাকুর নিয়ে কনফিউসন নেহাত কম নেই। সুন্দর দেখতে এ বিষয়ে অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। কিন্তু শুধু রূপ আর কোন কালে তারকাসুরকে ঠ্যাঙানো ছাড়া তেমন ভাবে কিছু করে উঠতে পারেননি। ময়ূরের পিঠে চড়ে টেরি বাগিয়ে শুধু ঘুরে বেড়ান। কার্তিককে কখনও বলা হয় চিরকুমার। কিন্তু সত্যই কি কার্তিক চির কুমার। কুমার কথাটা বোধহয় এসেছে অপার সৌন্দর্যের জন্য। কুমার আর আইবুড়ো অর্থ অবশ্যই এক নয়।
শিবের সঙ্গে পার্বতীর মিলন। শিবের বীর্য থেকে শরবনে জন্ম নেন কার্তিক। তাঁকে স্তন দুগ্ধ পান করান ছয় কৃত্তিকা। এই কৃত্তিকাদের প্রতি ঋষিরা সন্দিগ্ধ হয়ে পড়লে কার্তিক তাঁর মায়েদের সম্মান ফেরাতে অবদেবতাদের দিয়ে সমস্ত নারীদের গর্ভস্থ ভ্রুণ নষ্ট করতে থাকেন। মর্তে হাহাকার পড়ে যায়। সন্তান কামনায় কার্তিক পুজো একটা রীতি হয়ে দাঁড়ায়। কার্তিক চিরকুমার, তার একটা গল্প আছে। একবার কার্তিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় অপূর্ব সুন্দরী উষার। এক পলকে একটু দেখা, পরিণত হয় গাঢ় প্রেমে।
কার্তিক বিয়ের জন্য দুর্গার পারমিশন নিতে আসেন। দুর্গা সানন্দে সম্মতি দেন। কার্তিক তো মনের আনন্দে বিয়ের জন্য আসছেন। এমন সময় মনে পড়ল, আরে মায়ের আশীর্বাদটাই তো নেওয়া হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে ইউটার্ন করে ফের কৈলাশ। বাড়ি গিয়ে দেখেন মা একটা গোটা মহিষ চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছেন। এমন বিভৎস দৃশ্য দেখে কার্তিক তার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। দুর্গা বললেন বিয়ের পর যদি বৌমা তাঁকে খেতে না দেন তাই আগে থেকে খেয়ে নিচ্ছেন। ব্যাস বিয়ে থেকে বেঁকে বসলেন কার্তিক।
ওদিকে বীজক্ষেত্রে ওয়েট করছেন উষা। কার্তিক ফিরলেন না। উষাও রয়ে গেলেন বীজক্ষেত্রে কার্তিকের অপেক্ষায়। তবে কোথাও কোথাও বলা হয়েছে কার্তিকের স্ত্রী হলেন ষষ্ঠী দেবী। স্কন্ধ পূরাণে কার্তিকের দুই স্ত্রী। একজন ইন্দ্রের বোন দেবসেনা অপর জন বল্লী বা ভল্লী। দক্ষিণের দেবসেনাই বঙ্গের ষষ্ঠী। তাই কার্তিকের চিরকুমার তত্ত্ব আর বহুবিবাহ নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে চিরকাল।