অসীম সেন: পরাজয়ের পর নিজেকে নিজের মত গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারলেন আর কোথায়? বামেদের ডাস্টবিন থেকে তুলে এনেছিলেন। ছেলেটার জিভের কাজ ভালো। কিন্তু চটি চাটতে চাটতে দলটাই গাপ করে দিল! একের পর এক ন...
অসীম সেন: পরাজয়ের পর নিজেকে নিজের মত গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারলেন আর কোথায়? বামেদের ডাস্টবিন থেকে তুলে এনেছিলেন। ছেলেটার জিভের কাজ ভালো। কিন্তু চটি চাটতে চাটতে দলটাই গাপ করে দিল! একের পর এক নেতা, মহা নেতা গ্যারেজ হচ্ছেন, কোতোয়ালিতে আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে তাঁদের। কিছুজন সাইজ হল ভোটের আগে, বাকিরা এখন খাবি খাচ্ছে। যেখানে পাইবে ছাই উড়াইয়া দেখো তাই। পাজা পাজা নোট, ত্রিপল, লুঙ্গি, ফুটবল, বিছানা, বালিশ মিলছে যত্র তত্র। ইউনিয়ন রুম অথবা লীলা ক্ষেত্র বোঝার উপায় নেই। ক্লাবের বিছানার চাদরে নানাবিধ কর্মের উজ্জ্বল উপস্থিতি।
গৌতম বাণী ছিল, তৃণমূল দলটা হাইফেন হয়ে যাবে একদিন। কী দারুণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। উল্কার মত তৃণমূলের সূচনা, উল্কার মত শেষ হতে চলেছে। একের পর এক পঞ্চায়েত ভাঙছে। ভাঙছে পুরসভা। যারা এতদিন তৃণমূলের নামে দু ঢোক জল বেশি খেত, তারাই বিজেপির জয়ে রাস্তায় লাড্ডু বিলিয়েছে। চারিপাশে কাউকেই খুব একটা বিশ্বাস করতে মন চাইছে না। ডিম খাওয়ার পর অভিষেকের তেজও অস্তমিত। বাধ্য হয়ে জুড়ে দিতে হল দোলা সেন আর ডেরেক ও ব্রায়েন কে। কিছু দিন আগেও কালী ঘাটে মায়ের পুজো দিতে গেলে একটা হৈহৈ কাণ্ড হয়ে যেত। এখন মিনিমাম পাত্তাও পাচ্ছেন না।
একের পর এক দুঃসংবাদ। মাছচোর দিয়ে শুরু, শেষ হল কোতোয়ালিতে। সওকতের বোমার জোর , তার সেই প্রবল প্রতাপ সব শুকিয়ে গেল। পালাতে গিয়ে ক্যাচ কট কট। ঘাসফুল আজ অতীতের ছায়া। যে মানুষটা বাম জগদ্দল পাথরকে সরিয়েছিলেন বিরোধী ক্যারিশমায়। সেই মানুষটাই আজ হারিয়ে ফেলেছেন বিরোধিতার দম। ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন গল্পের মত দুর্নীতির দৈত্য পালন করেছেন সযত্নে। আজ তারই দাম চোকাতে হচ্ছে। এখন আচমকা ঘুম ভাঙে, ভাঙে শুধু স্বপ্নের কাচ। তবুও তো বেঁচে থাকা জীবনের দায়, অশ্রু হয়ে ঝরে দীর্ঘশ্বাস।