বাংলা সঙ্গীত জগতে প্রখ্যাত গায়ক সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। তাঁর মুখে শোনা ঘটনা সেটা লৌকিক না অলৌকিক- সেটা শোনা যাক। মে মাস, প্রচন্ড গরম, গাড়ি চালায় শিল্পী নিজে। হঠাৎ পথে গাড়ির ডায়নামো জ্বলে যায়। যাচ্ছিলেন গু...
বাংলা সঙ্গীত জগতে প্রখ্যাত গায়ক সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। তাঁর মুখে শোনা ঘটনা সেটা লৌকিক না অলৌকিক- সেটা শোনা যাক। মে মাস, প্রচন্ড গরম, গাড়ি চালায় শিল্পী নিজে। হঠাৎ পথে গাড়ির ডায়নামো জ্বলে যায়। যাচ্ছিলেন গুরুদেবের আশ্রমে। তাই চন্দননগরে ডায়নামো সারানো ছাড়া গতি নেই। শেষে ডায়নামো সারাতে চন্দননগরেই থামতে হয়। যাচ্ছিলেন ওনার গুরু মাধবানন্দ গিরির আশ্রমে, এই সময়ে চন্দনগরে হঠাৎ শিল্পীর অসহ্য ব্যথা শুরু হয়। এমনিই ব্যথা যে, এই যেন কিছু ঘটে গেল। সেই অবস্থায় কি করে যে গাড়ি চালিয়ে আশ্রমে এলেন তা ভগবানই জানেন। আশ্রমে তখন বেদান্ত ব্যাখ্যা চলছে। এদিকে ব্যথাও জমে উঠেছে বেশ। সতীনাথবাবু কোনোরকমে প্রবেশ করলেন। সতীনাথকে দেখে গুরুদেব বলে ওঠেন, 'আয় আয় তুই এদিকে আয়। আর জামা গেঞ্জীটা খোল।' শিল্পী নির্দেশ মতো তাই করলেন।
গুরুদেব একমুঠো ছাই দিয়ে সতীনাথবাবুর বুকে ঘষলেন, 'বললেন, মরে যাবি নাকি রে! আয় আয় দেখি।' কিছুক্ষন পর বললেন, 'যা বসে শোন।' তারপর চার ঘন্টা কিভাবে যে কেটে গেল, শিল্পী বুঝতে পারলেন না।
আর একদিন- গাড়ির গ্যাসকেট কেটে গেছে। গাড়ি চালানো যাবে না। গুরুদেবকে বললেন শিল্পী, এখন যাতায়াত করি কি করে! গুরুদের হেসে উত্তর দিলেন, প্রভু বলছেন- পরে শুধরে নিতে, এখন তো চালা। আশ্চর্যের বিষয়, গাড়ি সেই অবস্থাতেই চলতে থাকলো। কিন্তু পরের দিন 'যযৌ ন তস্থৌ অবস্থা'। এইসব উপলব্ধি ও ঘটনা সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের জীবনে চরম সত্য। তাহলে একে লৌকিক বলবো না অলৌকিক কোনটা? ( সমাপ্ত )