Updated on : 3 April 2026 | 02:36:52 pm
Updated on : 3 April 2026 | 02:36:52 pm
বাংলাদেশের প্রাচীন রাজধানী মুর্শিদাবাদ। নবাবের রাজধানী মুর্শিদাবাদ। সোনার চিরিয়া মুর্শিদাবাদ। ১8শ শতকে এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম ধনী শহর । বর্তমানে কোন দিকে হাওয়া বইছে মুর্শিদাবাদের? মুর্শিদাবাদের রাজনীতির হাজার অভিমুখ। এখানে ভোট হয় ধর্মের মেরুকরণে। এখানে ভোট মানে বাতাসে বারুদের গন্ধ। মুর্শিদাবাদের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করব তার আগে জেনে নেব জেলার সীমানাrnrnজেলার সীমানা rnrn কথিত আছে পলাশীর যুদ্ধের পর রবার্ট ক্লাইভ মুর্শিদাবাদের কোষাগার থেকে প্রায় ২০০ টি নৌকা বোঝাই করে রত্ন, সোনা, রুপা ও মূল্যবান সম্পদ কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামে নিয়ে যান। ১৭০৪ সালে মোগল দেওয়ান মুর্শিদকুলি খাঁ ঢাকা থেকে রাজধানী এখানে স্থানান্তরিত করেন এবং নিজের নামে নাম রাখেন মুর্শিদাবাদ। সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর এই শহরেই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। হাজারদুয়ারি প্রাসাদ, কাটরা মসজিদ,ইমামবাড়া, মতিঝিল এবং জগৎ শেঠের বাড়ি এখানকার প্রধান পর্যটন ও ঐতিহাসিক আকর্ষণ। একটা সময় মুর্শিদাবাদ তার রেশম,হাতির দাঁতের খোদাই এবং সোনারূপার কাজের জন্য পরিচিত ছিল। এই জেলার উত্তরে মালদা জেলা, পূর্বে বাংলাদেশের রাজশাহী, দক্ষিণে নদিয়া ও বর্ধমান এবং পশ্চিমে বীরভূম এবং ঝারখণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলা অবস্থিত। গঙ্গা নদী মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে দুই ভাগে ভাগ হয়েছে। নদিয়া ও বর্ধমান জেলার সঙ্গে সীমানা ভাগ করেছে ভাগীরথী ও জলঙ্গী। বড় জেলা মুর্শিদাবাদ। আয়তন কমবেশি ৫,৩২৪ বর্গকিলোমিটার। গোটা জেলাকে ২২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভাগ করা হয়েছে।
rnমুর্শিদাবাদে মোট ২২ টি বিধানসভা রয়েছে। ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অনেক পালাবদল দেখেছে এই জেলা। এক নজরে বিগত দুবারের বিধানসভা ফল দেখে নেওয়া যাক। দেখে নেওয়া যাক হ্যাপেনিং কিছু কেন্দ্র।rnrnভোট ইতিহাস, ফোট ফল কার্ডrnrnজঙ্গীপুর rnrnজঙ্গীপুর বিধানসভা থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জিতেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জাকির হোসেন।rnrnলালগোলাrnrnলালগোলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের আবু হেনা। তবে ২০২১ সালের বিধানসভায় পটপরিবর্তন হয়ে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের মোহাম্মদ আলী।rnrnভগবানগোলা
২০১৬ সালে ভগবানগোলা বিধানসভায় উড়েছিল লাল পতাকা। জিতেছিলেন সিপিআইএম এর মহসিন আলি । ২০২১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ইদ্রিস আলি।rnrnরানিনগর
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের ফিরোজা বেগম। হারিয়েছিলেন তৃণমূলের হুমায়ুন কবিরকে। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে ঘাসফুলের পতাকা উড়িয়েছিল তৃণমূল। জিতেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের আব্দুল সৌমিক হোসেন।rnrnমুর্শিদাবাদrnrn২০১৬ সালে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের তরফে শাওনি সিংহ রায়। । ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে যদিও উড়েছে বিজেপির পতাকা। জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির গৌরীশংকর ঘোষ।rnrnনবগ্রাম
২০১৬ র বিধানসভা নির্বাচনে নবগ্রাম কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম এর কানাইচন্দ্র মণ্ডল। ২০১৮ সালে কানাইচন্দ্র মণ্ডল তৃণমূলে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে ঘাসফুল প্রতীকে লড়াই করে জয়লাভ করেন।rnrnকান্দিrnrn২০১৬ সালে জাতীয় কংগ্রেসের তরফে অপূর্ব সরকার কান্দি কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন। হারিয়েছিলেন তৃণমূলের ডাঃ শান্তনু সেনকে। এরপর ২০১৮ সালে তৃণমূলে যোগ দেন অপূর্ব সরকার। ২০২১ সালে কান্দি থেকে তৃণমূলের পতাকায় লড়েন তিনি। এবং জয়লাভ করেন।rnrnভরতপুরrnrn২০১৬ সালে ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন জাতীয় কংগ্রেসের কমলেশ চট্টোপাধ্যায়। ২০২১ সালে ভরতপুর থেকে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের হুময়ুন কবীর। বর্তমানে হুমায়ুন কবীর তৃণমূল ত্যাগ করে জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বর্তমানে তাঁর দলের নাম আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। হয়তো বা ২০২৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে নিজের দলের হয়ে দাঁড়াবেন হুমায়ুন কবীর।rnrnরেজিনগরrn২০২১ সালে রেজিনগর বিধানসভা থেকে জয়লাভ করেন তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী। ২০১৬ সালেও এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন । হারিয়েছিলেন নির্দল হুমায়ুন কবীরকে।rnrnবেলডাঙাrnrn২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বেলডাঙা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের শেখ সফিউজ্জামান ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বেলডাঙা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের হাসানুজ্জামান শেখ।rnrnবহরমপুরrnrn২০১৬ সালে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের মনোজ চক্রর্তী। বহরমপুর কেন্দ্র থেকে ২০২১ সালে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির সুব্রত মৈত্র।rnrnনাওদা
নাওদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের আবু তাহের খান। ২০২১ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাহিনা মমতাজ বেগমrnrnডোমকলrnrn২০১৬ সালে ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএমএর আনিসুর রহমান সরকার ।২০২১ সালে ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের জাফিকুল ইসলাম rnrnজলঙ্গিrnrnজলঙ্গি কেন্দ্র থেকে ২০১৬ র বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন সিপিআইএম এর আব্দুর রাজ্জাক।২০১৮ সালে আব্দুর রাজ্জাক তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২১ সালে তৃণমূলের পতকায় জয়ী হন আব্দুর রাজ্জাক rnrnবিধানসভা এবং লোকসভার ইস্যু ভিন্ন প্রকৃতির। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিগত দুটি লোকসভা নির্বাচনে পাল্লা ভারি কোন দিকে?rnrnলোকসভার হিসেবrnrnমুর্শিদাবাদ জেলাটিকে মোট তিনটি লোকসভায় ভাগ করা যায়। মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর ও বহরমপুর। ২০১৯ সালে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের আবু তাহের খান। হারিয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের আবু হেনা কে। ২০২৪ সালেও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে জয়ী হন আবু তাহের খান। হারিয়েছিলেন সিপিএম এর মহম্মদ সেলিমকেrnrn২০১৯ সালে জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের খলিলুর রহমান। ২০২৪ সালে জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের খলিলুল রহমান।rnrn২০১৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হন কংগ্রেসের অধীররঞ্জন চৌধুরী। কিন্তু ২০২৪ সালে ইন্দ্রপতন ঘটে এই কেন্দ্র থেকে অধীর চৌধুরীকে হারিয়ে জয়ী হন তৃণমূলের ভারতীয় জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান।rnrnকখনও এসআইআর কখনও সিএএ। জেলার মানুষ ভুগছে অনুন্নয়ন নিয়ে, পেশা নিয়ে, যদিও একটি অংশ খুশি তাঁদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায়। এবারে বিধানসভা নির্বাচনে ঠিক কোন কোন ইস্যুর ওপর ভিত্তি করে জনগন তাদের পতাকা বেছে নেবে চলুন দেখে নেওয়া যাক।rnrnএবারের ভোট ইস্যু rnrnমুর্শিদাবাদের এবারে ভোট ইস্যু অবশ্যই ধর্মীয় বিভাজন। ২০২৫ সালে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে জঙ্গিপুর ও পার্শবর্তী এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের মত ঘটনা ঘটেছিল। ফরাক্কা, সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান এবং লালগোলার মতো ব্লকগুলিতে গঙ্গা ও পদ্মার তীব্র ভাঙন একটি প্রধান সমস্যা। প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি এবং বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকেও বেশ কিছু গ্রাম এবং প্রাচীন মন্দির নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলায় বড় শিল্পের অভাব থাকায় কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে মুর্শিদাবাদ থেকে রাজ্যের বাইরে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলার অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে এবং এটি ভারতের অন্যতম অনগ্রসর জেলা হিসেবে চিহ্নিত । ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় দেখা গেছে, মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১.০১ লক্ষ ভোটারের নথি, যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে, যা রাজ্যে সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে তৃণমূল এই অঞ্চলে ব্যাপক জয় পেলেও বর্তমানে বা আইএসএফ বা হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের একক প্রভাব তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে পারে। সম্প্রতি জেলায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যপালও এই জেলায় উগ্রপন্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গ্রামীণ এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব রয়েছে, যার ফলে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বাসিন্দাদের বহরমপুর বা কলকাতায় আসতে হয়rnক্ষোভ রয়েছে। সন্তুষ্টি রয়েছে। রয়েছে একাধিক প্রশ্ন। সবকিছু মিলিয়ে মুর্শিদাবাদের মানুষ এবার কোন দিকে তাদের আস্থা রাখবেন তা অবশ্য সময় বলবে। অন্যান্য জেলার ইকোয়েশন জানতে নজরে রাখুন বাংলা তুমি কার।