অসীম সেন: বাংলার ভাইজান বলতে ইয়াব্বড় হাতের গুলি, লোমহীন বুকের সুবিস্তৃত উপত্যকা বোঝায় না। বাংলার ভাইজান রোগা প্যাটকা, পাঠান স্যুট পড়া, মাথায় ফেজ টুপি। এককালে জাতীয় স্তরে ভলিবল খেলতেন। সেখান থেকে সোজ...
অসীম সেন: বাংলার ভাইজান বলতে ইয়াব্বড় হাতের গুলি, লোমহীন বুকের সুবিস্তৃত উপত্যকা বোঝায় না। বাংলার ভাইজান রোগা প্যাটকা, পাঠান স্যুট পড়া, মাথায় ফেজ টুপি। এককালে জাতীয় স্তরে ভলিবল খেলতেন। সেখান থেকে সোজা রাজনীতিতে। দাদা আব্বাস সিদ্দিকির দল সামলাতে সামলাতে কেটে গেল পাঁচ বছর। এখন বয়স ৩২। মাঠ বদলেছেন কিন্তু খেলা ছাড়েননি। বামেদের নাম নিয়ে বিধানসভায় প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন একমাত্র তিনিই। পীরজাদা, ফুরফুরায় রাজপুত্রের জীবন কাটাতে পারতেন। ধর্মের কথা বলে একটা অংশকে নিয়ে সুনামি তুলতে পারতেন। কিন্তু গত পাঁচ বছরে রাজনৈতিক ভাবে কতটা সফল হলেন তা বলা না গেলেও, এটুকু বলা যায়, যতটুকু কথা বলেছেন, তা ভাতের জন্য, জাত উঠে আসেনি কখনও তাঁর বক্তৃতায়।
প্রচারের শেষ দিন নিজের দেওয়া রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরেছেন নওসাদ সিদ্দিকি। খতিয়ান দিয়েছেন বিধায়ক হিসেবে নিজের কাজের। এমএলএ ল্যাডের টাকা নাকি ঘরে তোলেননি, বরং ঘরের টাকা এনে খরচ করেছেন নিজের বিধানসভায়। সন্দেহ থাকতে পারে। যাচাই করে নেওয়া উচিত। যখন ভলিবল খেলতেন। নেটএর ওপরে গিয়ে সজোরে স্ম্যাশ করতেন। রাজনীতিতে সেই অভ্যাসটা ছাড়তে পারেননি। বিরোধীরা তাই যখন আরাবুল কাঁটা নিয়ে আলোচনা করেন, যখন তাঁর জেলযাত্রা এবং আরাবুল প্রসঙ্গ তুলে প্রমাণ করতে চান কোন কাসুন্দি বেশী ঘন, তখনও তিনি নির্লিপ্ত। রাজনীতি তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। সওকত বুনো ওলে যাতে গলা না ধরে তাই আরাবুল। রাজনীতির শিক্ষা। রাজনীতি আর যুদ্ধে আদর্শ বদলায়। আপাতত দক্ষিণ ২৪ পরগনা নয়। দুই ফুলের গন্ধে যেখানেই মাথাব্যথা, সেখানেই বাম হয়ে হাজির হচ্ছেন নওসাদ। এ ভাইজানের হাতের গুলি নেই, তবে জিগর আছে। বলছেন এলাকার মানুষরাই ।