অসীম সেন : ভারতকে মুসলিম বিদ্বেষী তকমা দেওয়া যাবে না কোনওদিন। পাকিস্তান তো আমাদের অংশ থেকেই জন্মেছে। দেশভাগের সময় ভারতের দেওয়া ৭৫ কোটি টাকার ভরসায় পাকিস্তানে উনুন জ্বলেছিল। কিন্তু পাকিস্তানের থেকে রিট...
অসীম সেন : ভারতকে মুসলিম বিদ্বেষী তকমা দেওয়া যাবে না কোনওদিন। পাকিস্তান তো আমাদের অংশ থেকেই জন্মেছে। দেশভাগের সময় ভারতের দেওয়া ৭৫ কোটি টাকার ভরসায় পাকিস্তানে উনুন জ্বলেছিল। কিন্তু পাকিস্তানের থেকে রিটার্ন গিফট কী পেয়েছি আমরা? পুলওয়ামা হামলা, বৈসরন ভ্যালি হামলা। চোখের সামনে স্বামীকে গুলি করে মহিলাকে বলা হয়েছিল,' মোদিকে গিয়ে বল'। পিঠে ছুরি আমরা আগেও খেয়েছি।
১৯৭১ সালের অপারেশন খরচাখাতা সব নৃশংসতাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের রেলওয়ে স্টেশনে পাকিস্তান সরকার ও স্থানীয় বিহারী মুসলিমদের সহায়তায় সংঘটিত এক নৃশংস গণহত্যার নাম অপারেশন খরচাখাতা। প্রায় পাঁচশ মাড়োয়ারি এবং হিন্দু যাত্রীকে কার্যত সেদিন জবাই করা হয়েছিল।
একটা গোটা ট্রেন সেদিন ভরা ছিল রক্তাক্ত লাসে। অপারেশন খরচাখাতা যা গোলাহাট গণহত্যা নামেও পরিচিত। দেশভাগের আগে থেকেই নীলফামারীর বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে একটি বড় হিন্দু মাড়োয়ারি সম্প্রদায় বসবাস করত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সেখানে পাকিস্তানি সেনা এবং স্থানীয় মুসলিম বিহারীরা মিলে বাঙালিদের পাশাপাশি মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন শুরু করে। তাঁদের একাংশকে হত্যা করা হয় এবং বাকিদের বাধ্য করা হয় বিমানবন্দরে জোরপূর্বক শ্রম দিতে।
অত্যাচার যখন চরমে। তখন তাদের তরফে হিন্দু পরিবারগুলিকে আশ্বস্ত করা হয় যে তাদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাঁচশ জনের জন্য স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। এর বিনিময়ে ওই পরিবার গুলির থেকে যথেষ্ট টাকা এবং সম্পদ আদায় করা হয়। এরপরেই শুরু হয় সেই নিধন যজ্ঞ। নারী, পুরুষ ও শিশুদের সেই ট্রেনের বগিতে তুলে বাইরে থেকে দরজা লক করে দেওয়া হয়।
সৈয়দপুর স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার পর দু কিলোমিটার দূরে গোলাহাট নামে একটি রেলওয়ে কালভার্টের ওপর থেমে যায়। পাকিস্তানি সেনারা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। এরপর ট্রেনের দরজা খুলে রামদা, তলোয়ার নিয়ে বগিতে ঢুকে পড়ে বিহারী মুসলিমরা। নির্বিচারে হত্যা করা হয়ে প্রায় সাড়ে চারশো মানুষকে। শিশুদের ট্রেনের ট্র্যাকে আছড়ে ও বেয়নেটে গেঁথে হত্যা করা হয়।
ওই পিশাচ গুলি খরচাখাতা খরচাখাতা বলে উল্লাসে চিৎকার করছিল। এই মানুষগুলির অস্তিত্ব তাদের কাছে বাদের খাতায় ছিল। তাই তারা এই অভিযানের কোডনেম রেখেছিল অপারেশন খরচাখাতা। সেই তাণ্ডবের মধ্যেও কয়েকজন যুবক কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। তারা পরবর্তী কালে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ভারতে পৌঁছে এই নৃশংসতার বিবরণ তুলে ধরে বিশ্ববাসীর কাছে। এই ঘটার স্মরণে সৈয়দপুরের গোলাহাটে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।