অসীম সেন: শন কনারি ,জর্জ ল্যাজেনবি , রজার মুর, টিমোথি ডাল্টন, পিয়ার্স ব্রসনন , ড্যানিয়েল ক্রেইগ... হাতে Walther P99 সেমি-অটোমেটিক পিস্তল, ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই। জেমস বন্ড নামেই রোমাঞ্চ জাগে। আমাদেরও কিন্...
অসীম সেন: শন কনারি ,জর্জ ল্যাজেনবি , রজার মুর, টিমোথি ডাল্টন, পিয়ার্স ব্রসনন , ড্যানিয়েল ক্রেইগ... হাতে Walther P99 সেমি-অটোমেটিক পিস্তল, ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই। জেমস বন্ড নামেই রোমাঞ্চ জাগে। আমাদেরও কিন্তু এমন এক জেমস বন্ড ছিল। জেমস বন্ড বলব না। জেমস বন্ডের গুরুঠাকুর। গোটা জীবন স্রেফ মগজাস্ত্রের জোরে সমাধান করেছিলেন একের পর এক জটিল অঙ্ক।

১৯৫৫ সালের ১০ এপ্রিল। মুম্বই থেকে হংকংয়ের কাই তাক বিমানবন্দরে পৌঁছয় কাশ্মীর প্রিন্সেস নামের একটি উড়োজাহাজ। সেখান থেকে চিনা অফিসিয়ালদের নিয়ে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার কথা ছিল সেটির। বান্দুং এ একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ওই ফ্লাইটে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন চিনা প্রধানমন্ত্রী চৌএন লাইয়ের। পরদিন সেই ফ্লাইটে ওঠেননি প্রধানমন্ত্রী কিংবা বরিষ্ঠ কোনও কূটনীতিক। ফ্লাইটের ক্যাপটেন ছিলেন ডি কে জাতার। সব ঠিক চলছিল, জাকার্তা আর এক ঘণ্টা দূরে। হঠাৎই বিস্ফোরণ। আঠার হাজার উপর থেকে সমুদ্রে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তিনজন ক্রু ছাড়া সকলে নিহত হন। এই ঘটনায় চিনা সরকার ভারতের দিকে সন্দেহের আঙুল তোলে। তখন আসরে নামেন ভারতীয় গোয়েন্দা আর এন কাও। তদন্তের খাতিরে দীর্ঘদিন চিন, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনে ঘুরে চিনা প্রধানমন্ত্রীকে একটি রিপোর্ট দেন তিনি। তদন্তে উঠে আসে, তাইওয়ানের কুওমিনতাং পার্টি, চৌ চু নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে উড়োজাহাজটিতে একটি টাইম বোমা রাখিয়েছিল। চৌ চু ছিলেন হংকং এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির টেকনিশিয়ান। এই পুরো বিষয়টির নেতৃত্বে ছিলেন চিয়াং কাইশেক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই চীনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এন–লাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন চিয়াং কাইশেক। কাইশেক ছিলেন কউওমিনতাং দলের সর্বাধিনায়ক। গোটা বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়, এই দুর্ঘটনায় বিন্দুমাত্র দায় ছিল না ভারতের।

রামেশ্বর নাথ কাও বা আর এন কাও পরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা 'র' এর প্রতিষ্ঠা করেন। কাওয়ের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেছেন তৎকালীন বিশ্বের প্রায় সব দেশনায়কই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে চলা ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সাবধানও করেছিলেন এই ভারতীয় গোয়েন্দা। তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে জানান এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে। ইন্দিরার পরামর্শে ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকায় যান। গোপনে বঙ্গবন্ধুকে জানান, তার পরবর্তী কালে একজন কর্মকর্তাকে ঢাকায় পাঠানো হয় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রমাণ সহ। কিন্তু সবকিছু অগ্রাহ্য করেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর ধারণা ছিল ষড়যন্ত্রকারীরা সকলে আপনার মানুষ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ষড়যন্ত্রকারীরা প্রমাণ করেছিল কাও কতটা নিখুঁত ছিল তার তদন্তে। 'র' ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। তখনকার সময়ে 'র' এর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের সকলকে মজা করে বলা হত কাওবয়। এখনও ভারতের এই জেন্টলম্যান স্পাইমাস্টারের নাম জড়িয়ে আছে বিভিন্ন গল্পকথায়।