একটু ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে শতবর্ষ প্রাচীন পার্টির হাত চিহ্নে কোনও ভাগ্যরেখা নেই। কেন নেই তা বোঝার ক্ষমতা আমজনতার থাকার কথা নয়। কিন্তু নিজেদের ভাগ্য সাজিয়ে নিতে বিতর্কিত পদক্ষেপ রেবন্ত সরকারের। ...
একটু ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে শতবর্ষ প্রাচীন পার্টির হাত চিহ্নে কোনও ভাগ্যরেখা নেই। কেন নেই তা বোঝার ক্ষমতা আমজনতার থাকার কথা নয়। কিন্তু নিজেদের ভাগ্য সাজিয়ে নিতে বিতর্কিত পদক্ষেপ রেবন্ত সরকারের। হায়দরাবাদের একটি রাস্তার নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি।

এরপরেও গরম কড়াইয়ে জলের ছিটে পড়বে না! স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পও হয়তো এই খবর শুনে বিষম খাবেন। অন্তত এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। আসলে সকলই শুধুমাত্র দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। সামনেই তেলঙ্গানা রাইজিং গ্লোবাল সামিট। বিজিনেস চাই বিজিনেস। এমন একটা অনুষ্ঠানের আগে ট্রাম্পের নামে একটি রাস্তা হলে মন্দ কী? বিদেশীদের কাছে তেলঙ্গানার ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলতে এর থেকে সহজ রাস্তা আর আছে নাকি? সাত মণ তেল খরচ করে রাধাকে নাচানোর এই কৌশলকে নেহাতই তোষামুদি বলে মনে করছেন রাজনীতির একাংশ।

হায়দরাবাদের মার্কিন কনসুলেট জেনারেল যেখানে অবস্থিত, সেই রাস্তার নাম হতে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ। ডোনাল্ড ডাক হলে তবুও মানা যেত। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প! যদি এই প্রস্তাব গৃহীত হয়, তাহলে এই প্রথম কোনও মার্কিন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নামে রাস্তার নাম রাখা হবে। নামের আমি নামের তুমি নাম দিয়ে যায় চেনা। হায়দরাবাদ বর্তমানে দেশের প্রযুক্তি হাব। এর আগে গুগল স্ট্রিট, মাইক্রোসফট রোড এমনকি উইপ্রো জংশন নামও রাখা হয়েছে রাস্তার। তেলঙ্গানায় এই কোম্পানিগুলি বিনিয়োগ করেছে একথা সত্য। তা বলে ব্যবসা করতে আসা কোম্পানি গুলিকে এমন সম্মান! ভালো চোখে দেখছেন না অনেকেই।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঞ্জয় কুমারের দাবি হায়দরাবাদের নাম বদলে ভাগ্যনগর রাখা উচিত। এ দাবির পিছনে একটি প্রাচীন যুক্তি রয়েছে। হায়দরাবাদের নামকরণ নিয়ে একটি জনশ্রুতি রয়েছে। শহরের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান কুতুব শাহ ভাগমতী নামে এক নৃত্যশিল্পীর প্রেমে পড়ে শহরের নাম রাখেন ভাগ্যনগর বা ভাগনগর। পরে ভাগমতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে 'হায়দার মহল' উপাধি নিলে শহরের নাম হয় হায়দরাবাদ। কংগ্রেসের নামকরণ বদল অত্যন্ত অর্থহীন বলে দাবি বিজেপির। যে নামের পিছনে ইতিহাস নেই, সংস্কৃতি নেই শুধুমাত্র একজন এসইও ম্যানেজারের মত সেই নামগুলি ট্রেন্ডিং বলে তার পিছনে ছুটছেন রেবন্ত রেড্ডি। আপাতত গোটাটাই পরিকল্পনার স্তরে রয়েছে। কিন্তু যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় তাহলে সামোসা আর মিরচি ভাজি বিক্রেতা মাল্লু রেড্ডির দোকানের ঠিকানা হবে ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ।