অসীম সেন: কাঁটার মুকুট মাথায় পড়া কি অতই সহজ? যাহার অমর স্থান প্রেমের আসনে ক্ষতি তার ক্ষতি নয় মৃত্যুর শাসনে। শ্রীনগরের অন্ধকার জেলের ছোট জানালা দিয়ে পাখি দেখা যায় না। হঠাৎ মৃত্যু তুলে ধরল একাধিক প্রশ্...
অসীম সেন: কাঁটার মুকুট মাথায় পড়া কি অতই সহজ? যাহার অমর স্থান প্রেমের আসনে ক্ষতি তার ক্ষতি নয় মৃত্যুর শাসনে। শ্রীনগরের অন্ধকার জেলের ছোট জানালা দিয়ে পাখি দেখা যায় না। হঠাৎ মৃত্যু তুলে ধরল একাধিক প্রশ্ন। এই মৃত্যু কি নেহাতই স্বাভাবিক ছিল? নাকি অন্ধকার জেলে তৈরি হয়েছিল কখনও না জানা এক ষড়যন্ত্র? ১৯৫৩ সালের ১১ মে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিনা পারমিটে কাশ্মীর প্রবেশ করেন, এবং সেখানেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রচারিত হয় ফুসফুসে ড্রাই প্লুরিসির জন্য তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ ধীর বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল শ্যমাপ্রসাদকে। পরবর্তীকালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো নেতারা অভিযোগ করেন যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ও শেখ আবদুল্লার যৌথ রাজনৈতিক আক্রোশের বলি হয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। নেহেরুকে চিঠি লিখে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিচারের দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।
কিন্তু কেন কাশ্মীরে যেতে তখন পারমিট প্রয়োজন ছিল? ১৯৪৭ সালে কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ভারতে যোগদানের সময় ৩৭০ ধারাকে ঢাল করেছিলেন। ভারতের অখন্ডতা রক্ষার জন্য এই পারমিট প্রথা ভাঙতে চেয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। এক দেশ মে দো বিধান নীতির বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত স্লোগান ছিল এক দেশ মে দো বিধান, দো প্রধান অউর দো নিশান নেহি চলেঙ্গে। কাশ্মীর ভারতেরই এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ সেটা প্রমাণ করার জন্যই তিনি নেহেরুর বিরুদ্ধে সমালোচনার তোপ দেগেছিলেন। প্রতিবাদ সহ্য হয়নি কংগ্রেস সরকারের। প্রতিবাদ সহ্য হয়নি আবদুল্লা সরকারের। ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন এক মহান আত্মবলিদান দেখে গোটা দেশ। বুকে পাথর চেপে চোখের জল আটকেছিল দেশ রাজনৈতিক চোখ রাঙানিতে।
প্রশ্ন জাগতেই পারে কেন শ্যমাপ্রসাদ এত চক্ষুশুল বাম-কংগ্রেসের মত রাজনৈতিক শিবির গুলির কাছে? কংগ্রেস গোটা ভারতের কাছে শ্যামাপ্রসাদকে দাগিয়ে দিয়েছিল উগ্র চরমপন্থী নেতা হিসেবে। যা কিনা ভারতের মত বহুত্ববাদী দেশের ভারসাম্য নষ্ট করছিল। নোংরা চিত্রনাট্য রচনা করা হয়েছিল শ্যামাপ্রসাদের বিরুদ্ধে, ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় শ্যামাপ্রসাদ ব্রিটিশ গভর্নরকে চিঠি লিখে এই আন্দোলন দমনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সত্যটা কী? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাপানি সেনারা ভারতের পূর্ব সীমান্তে নিশ্বাস ফেলছিল। এ আবহে দেশের ভিতর এমন একটি আন্দোলনে ভারতে জাপানের প্রবেশ পথ সুগম করত।
রমেশচন্দ্র মজুমদারের নথি অনুসারে শ্যামাপ্রসাদ তাঁর চিঠিতে লিখেছিলেন নিছক বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। ব্রিটিশদের উচিত অবিলম্বে ভারতীয়দের হাতে প্রকৃত শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তাহলেই ভারতীয়রা নিজের দেশ রক্ষায় প্রতিরক্ষায় অংশ নেবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একটি উপন্যাস যার প্রতিটি অধ্যায়ে বাংলার অস্তিত্ব রক্ষার কাহিনী লিপিবদ্ধ রয়েছে। পরবর্তী কালে এই উপন্যাসের এক একটি অধ্যায়কে নিজেদের মত ব্যাখ্যা করেছে রাজনীতির বেসাতিরা। রাজনীতির পালা বদলে অন্তত দেশনায়ককে নতুন ভাবে চিনল বর্তমান প্রজন্ম। জানল আত্মবলিদান দিবসের মর্মার্থ।
rnrnrn