দেশে এক একজন আধ্যাত্মিক গুরু আবির্ভূত হয়েছেন যারা কাল ক্ষণ ভুলে মানুষ কিভাবে মুক্তির পথ খুঁজে পাবে-তার ভাবনায় মশগুল তারা। আমরা প্রায় সকলেই জানি, কলি গ্রস্ত জীবের ত্রিতাপ জ্বালা নিবৃত্তির সহজ উপায় শ্র...
দেশে এক একজন আধ্যাত্মিক গুরু আবির্ভূত হয়েছেন যারা কাল ক্ষণ ভুলে মানুষ কিভাবে মুক্তির পথ খুঁজে পাবে-তার ভাবনায় মশগুল তারা। আমরা প্রায় সকলেই জানি, কলি গ্রস্ত জীবের ত্রিতাপ জ্বালা নিবৃত্তির সহজ উপায় শ্রীচৈতন্যদেব প্রদত্ত ষোলো নাম ৩২ অক্ষর 'হরে কৃষ্ণ' মহামন্ত্র সীতারামজী ভারতবর্ষের প্রায় সর্বত্র প্রচার করেছিলেন। কিন্তু স্বেচ্ছায় প্রচারকের ভূমিকা গ্রহন করেন নি। শুরু দাশরথীদেবের ইঙ্গিত সত্ত্বেও নয়।
স্বয়ং নামীর নির্দেশ ছাড়া তিনি প্রচারের পথে নামেন নি। স্বপ্নেও নয়। দৈববাণীও নয়। তিনি চেয়েছিলেন স্বয়ং নামীর মুখনিঃসৃত স্পষ্ট প্রত্যক্ষ উচ্ছারিত নির্দেশ। -সেই উদ্দেশ্যে নীলাচলের সমুদ্র সৈকতের ধারে ঝাউগাছের জঙ্গলের শান্ত নির্জনতায় মরণপণ সাধনায় বসেন সীতারাম দাসজী, যতক্ষণ না সাক্ষাৎ দর্শন হয়, ততক্ষন আসন ত্যাগ করবো না'- এই ছিল তাঁর কঠিন সংকল্প। দিনটা ছিল ২৪ এপ্রিল ১৯০৭ সাল। সেই রাতে ভগবান রত্ন সিংহাসন থেকে নেমে স্বয়ং এলেন সীতারাম দাসের সামনে।
বিরাট গোলাকার জ্যোতিঃপুঞ্জের মাঝে জগন্নাথ প্রকাশিত হলেন। তার দীর্ঘ ভূজে বেনু, পরনে পীতবাস, কটিতে মেখলা, শিরে শিখিপুচ্ছ। শ্রী চরণে নূপুর। এই সর্বাঙ্গসুন্দর রূপে আবির্ভূত হয়ে যা যা নাম দিগে যা, বজ্রস্বরে এই কথা বলে হাতের ইশারা করে বংশীধারী জগন্নাথ অন্তর্হিত হলেন, 'শ্রী জগন্নাথ দেবের দর্শন ও আদেশ লাভ করে সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ দেব নাম প্রচারে ব্রতী হলেন। যে স্থানে সীতারামদাস সাধনায় বসেছিলেন, শ্রীক্ষেত্রে তা 'লীলাকুঞ্জ নামে খ্যাত। প্রতি বছর, ১০ই বৈশাখে পরমব্রক্ষ্ম ঠাকুর সীতারাম ওঙ্কারনাথ দেব ও শ্রীনামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভক্ত শিষ্য, অনুরাগী মিলিত হন শ্রদ্ধার চিত্তে। (সমাপ্ত)।