১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল , উত্তর আটলান্টিক সাগরের হিমশীতল জলে সমাধি হল প্রায় ১৫০০ মানুষের। ডুবল টাইটানিক। এতবড় একটা জাহাজ জলে ডুবে যাওয়ার পর কেউ বলল দুর্ঘটনা, কেউ বা বলল এ এক মমির অভিশাপ। জাহাজে যে কয়েকজ...
১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল , উত্তর আটলান্টিক সাগরের হিমশীতল জলে সমাধি হল প্রায় ১৫০০ মানুষের। ডুবল টাইটানিক। এতবড় একটা জাহাজ জলে ডুবে যাওয়ার পর কেউ বলল দুর্ঘটনা, কেউ বা বলল এ এক মমির অভিশাপ। জাহাজে যে কয়েকজন মানুষ বেঁচে ছিলেন, তাঁদের মুখ থেকেই পরবর্তী কালে শোনা গিয়েছিল জাহাজে উইলিয়াম টি স্টিড নামে এক যাত্রী, যিনি এক ব্রিটিশ সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, টাইটানিক করেই নাকি একটি মমি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। টাইটানিক ডুবে যাওয়ার নেপথ্য়ে রয়েছে সেই মমির অভিশাপ।
জানা যায় টাইটানিকে থাকা মমিটি মিশরের প্রাচীন দেবতা আমুনের এক ভক্তের। লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে মমিটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। মমিটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে দান করেছিলেন লন্ডনের ওয়ারউইক হান্ট। মমিটি একজন মহিলার। বাক্সের গঠন দেখে অনুমান করা হয়েছিল মহিলা উচ্চবংশীয়। মমিটির তৈরি হয়েছিল ৯৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে। পরবর্তীকালে টাইটানিকের খোঁজে পাঠানো হয়েছিল একটি ডুবো জাহাজকে। সেটিরও সলিল সমাধি ঘটে। এরফলে ফের তাজা হয়ে ওঠে মমির অভিশাপের কাহিনি। তবে অনেকে এই অভিশাপের বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন।
রিপোর্ট অনুসারে ওই মমিটি আজও ব্রিটিশ মিউজিয়ামেই রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে মমি অন্যত্র সরানো হয়েছিল। তখনই কোনওভাবে রটে গিয়েছিল মমিটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল টাইটানিকে। তবে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রাখা মমিটি নিয়ে গবেষণা করেছিলেন বার্টরাম ফ্লেচার রবিনসন নামে এক সাংবাদিক। তিনিও বলেছিলেন যে মমিটি অভিশপ্ত। তাঁর গবেষণার কাজ প্রকাশ পাওয়ার আগেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় বার্টরামের। বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের ৬২ নম্বর ঘরে সংরক্ষিত রয়েছে মমিটি। টাইটানিকে আদৌ কোনও মমি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিনা তার যথার্থ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই রটনার পিছনে কী কারণ ছিল সেটাই ধোঁয়াশা।