অসীম সেন: একদিকে আদি তৃণমূল একদিকে নব্য তৃণমূল। গোটা ঘাসফুল দলটার ওপর কেমন যেন একনাথ শিল্ডের ছায়া। উভয় গোষ্ঠীই আসল, উভয় গোষ্ঠীই নকল। মুশকিলে পড়ে গেছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। কার চৌকাটে শোবেন, ঠিক করতে প...
অসীম সেন: একদিকে আদি তৃণমূল একদিকে নব্য তৃণমূল। গোটা ঘাসফুল দলটার ওপর কেমন যেন একনাথ শিল্ডের ছায়া। উভয় গোষ্ঠীই আসল, উভয় গোষ্ঠীই নকল। মুশকিলে পড়ে গেছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। কার চৌকাটে শোবেন, ঠিক করতে পারছেন না। চেয়ার দ্বন্দে ভুগছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের থেকে পছন্দ সূর্যকান্ত মিশ্রের চেয়ার। আজ দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি পথে গেছে বেঁকে। শওকত মাছ চোর বুঝলাম। অভিষেক? কয়েকদিন আগেও চিলির সর্বকনিষ্ট রাষ্ট্রপ্রধান গ্যাব্রিয়েল বোরিকের সঙ্গে তুলনা করা হত যে মানুষটার, তাঁকে সরাসরি দুষ্টু বলে দিচ্ছে দলেরই নেতা কর্মীরা।
নির্বাচন ফলের এক মাসের মধ্যে ভব রঙ্গমঞ্চ মাঝে, রঙের নট নটবর হরি যারে যা সাজান সেই তাই সাজে, এ মায়া প্রপঞ্চময়। কুণাল ঘোষ ইতিমধ্যেই ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের কর্মসূচিতে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ব্লাডে প্রেসার কমেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিদির মত শুশ্রূষা করলেন। বজ্রপ্রাণা সবাই কহে, নামেই তুমি মা ভয়ংকরী। প্রাণে স্নেহের গঙ্গা বইছে প্রাক্তন সাংসদ সাংবাদিকের প্রতি। মনে রাখতে ইচ্ছে করছে না একদিন এই কুণাল ঘোষই বলেছিলেন " সারদার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী মমতা"। ভালো তৃণমূল ঋতব্রত সাংবাদিক বৈঠকে বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খারাপ। তবে চাইলে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করতে পারেন।
মমতাই বা কী করেন? একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি নিজের কেন্দ্রেও স্লিপ খায় তখন তো আর লোডশেডিং তত্ব চলতে পারে না। এ পরিস্থিতিতে যে কেউ হাতে হ্যারিকেন ধরালে রুখবে কে? মহাশূণ্যে থাকা একটা দল এবার বিধানসভায় দুটি পা রেখেছে। তারাও আজ বেশি প্রাসঙ্গিক ঘাসফুলের থেকে। নিন্দুকেরা বলত মধু না থাকলে ঘাসফুলের চাকে মৌমাছি থাকবে না। তবে কি আজ নিন্দুকদের কথাই সত্যি হতে চলেছে।
ছত্রখান তৃণমূল। মূল না থাকলে তৃণ শুকিয়ে যাবে এ আর নতুন কী? জয় শ্রী রাম শ্লোগানে এখন আর অ্যালার্জি হয় না। ডিজে , চড়াম চড়াম ঢাক সংস্কৃতি আজ অতীত। এককালে ঘাসফুলের দাপটে টেবিলের তলায় মুখ লোকাত প্রশাসন, আজ প্রশাসনের ভয়ে খাটের তলায় মুখ লোকাচ্ছে তৃণমূল নেতা। এখনও ঢের সময় বাকি। আর কত কী যে দেখতে হবে!