অসীম সেন: উত্তাপ বাড়ছে, বেড়েই চলেছে। বসন্তের কোকিলটা চরিত্র বদলে একবার ডাকার চেষ্টা করে ঢোক গিলে নিল। ধূষর রাজপথে দীর্ঘশ্বাসের মত শুকনো হাওয়া বয়ে গেল। হায় ভোটার তুমি কার? সেবা পরম ধর্ম। সেবা যাতে যথ...
অসীম সেন: উত্তাপ বাড়ছে, বেড়েই চলেছে। বসন্তের কোকিলটা চরিত্র বদলে একবার ডাকার চেষ্টা করে ঢোক গিলে নিল। ধূষর রাজপথে দীর্ঘশ্বাসের মত শুকনো হাওয়া বয়ে গেল। হায় ভোটার তুমি কার? সেবা পরম ধর্ম। সেবা যাতে যথাযথ ভাবে সকলে করার সুযোগ পান, তাই রাজ্য জুড়ে হাজার হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী। সজাগ রাজ্য পুলিশ। তারই মধ্যে দুম করে গুলি চলল তৃতীয় পাণ্ডবের বাড়িতে। অর্জুনও একজন সেবক। সেবার জন্য এদোর ওদোর ঘুরেছেন বারবার।
এই তো দুদিন আগেও ভাঙড়ে বোমা উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। পরম সেবক হুমায়ুন কবীর ও ঘাসফুলি সমর্থকদের মধ্যে বোমাবাজি এবং লাঠি পেটার ঘটনা ঘটেছে। মালদা ও কোচবিহারেও প্রথম দফার ভোটে উত্তেজনার খবর এসেছে। অভয়ার বাড়ির সামনেও তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। সেবা পরম ধর্ম। সেই অধিকার কেউই সহজে ছাড়তে নারাজ।
অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বাংলায় এক নির্বাচন হয়েছিল। সেই রাতেও সেবা করার মনোভাব নিয়ে বিছানায় ছটফট করেছিলেন গোপাল। সেবারের নির্বাচনটা অবশ্য হয়েছিল একশ বছরের অরাজগতা বা মাৎস্যন্যায়কে দূর করার জন্য। বড় বড় মাছ গুলি যেমন ধরুন রাঘব বোয়াল খেয়ে নিচ্ছিল ছোট ছোট মাছগুলিকে। এপরিস্থিতি দূর করতে বাংলার মানুষ ঘুম থেকে জেগেছিল অষ্টম শতাব্দীতে। প্রতিষ্ঠা করেছিল পাল বংশের।
বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের পরিস্থিতি যদিও অনেকটা আলাদা। একপক্ষ বাংলার নাগরিক জীবনের সুরক্ষাকে লেটার মার্কস দিচ্ছেন, রিপোর্ট কার্ড বলছে বাংলায় বেকারি সব থেকে কম। অপর পক্ষ এই সব যুক্তিই খণ্ডন করছে আরও মোক্ষম যুক্তিতে। একদল যে আর্থিক সুবিধাকে উন্নয়ন বলে মনে করছেন, অন্য পক্ষ তাকেই ভিক্ষা বলছে। সেবার জন্য সব দরজা খটখটাচ্ছে মানুষজন।
রুদ্রপ্রয়াগে গঙ্গা আর মন্দাকিনী মিলেছে। খালি চোখেই দুটি জলধারাকে আলাদা করতে পারা যায়। সবই মিলনের ধরণের ওপর নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে মিলন এতটাই গভীর হয় যে, কে গঙ্গা কে মন্দাকিনী বোঝা যায় না আলাদা করে। সবই মায়া , সবই সেবা। শুধুই সেবা।
এ প্রতিবেদন লেখা হচ্ছে দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে। প্রথম দফার সিংহভাগ আসন ইতিমধ্যেই নিজেদের বলে ঘোষণা করে দিয়েছেন রাজনীতির কারবারিরা। এবার দ্বিতীয় দফার ভোট। এ দফার ভোট অনেকটাই ভাগ্য নির্ধারণ করবে বাংলার। কার হাতে থাকবে বাংলার মসনদ তা সময়ের হাতেই ছেড়ে দেওয়া যাক। শুধু একটাই কথা বলার, সেবার অধিকার কেড়ে নিতে যেন রক্ত না ঝরে।rn