অসীম সেন: দেড়দশকের ফল বিশ্লেষণ করে বলা যেতেই পারে শাসকদলের মজ্জায় ভোট হতে চলেছে দ্বিতীয় দফায়। সাতটি জেলা, ১৪২ টি আসন। গতবার পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপি ছিল শূণ্য। দক্ষিণ...
অসীম সেন: দেড়দশকের ফল বিশ্লেষণ করে বলা যেতেই পারে শাসকদলের মজ্জায় ভোট হতে চলেছে দ্বিতীয় দফায়। সাতটি জেলা, ১৪২ টি আসন। গতবার পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপি ছিল শূণ্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শিবরাত্রির সলতের মত টিমটিম করে জ্বলছিল শাসক বিরোধী অবিজেপি নওশাদ সিদ্দিকি। সাতটি জেলার চাল যদি টিপে যে ফলটি পাওয়া যায় তা হল ২০২১ এ কলকাতার এগারোটা আসনের মধ্যে সবকটিই তৃণমূলের দখলে। হাওড়াতেও দাঁত বসাতে পারেনি বিরোধীরা। ১৬ য় ১৬ তৃণমূল। পূর্ব বর্ধমানের হালও একই রকম ১৬ য় ১৬ তৃণমূল। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একটি বাদে সব তৃণমূল। হুগলিতে ১৮ টার মধ্যে ৪ টি বিজেপি, উত্তর ২৪ পরগনার ৫ টি আসনে বিজেপি। এরমধ্যে বিরোধীদের বলার মত ফল একমাত্র নদিয়ায়। ১৭ টি আসনের মধ্যে ৮ টি তৃণমূল ৯ টি বিজেপি। মোটের ওপর ১৪২ টি আসনের মধ্যে ১২৩ টি আসন তৃণমূল, ১৮ টি আসন বিজেপি এবং একটি আইএসএফ এর দখলে ছিল।
দক্ষিণবঙ্গ বরাবরই শাসকদলের। এর মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায় মতুয়া কাঁটা জ্বালা দিয়েছে শাসকদলকে। উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া সংখ্যাগুরু রয়েছেন বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ এবং বাগদায়। গাঁইঘাটায় হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দির ও আশ্রম রয়েছে। এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রেই জয় পেয়েছে বিজেপি। উত্তর ২৪ পরগনার শিল্পাঞ্চল ভাটপাড়াতেও অবশ্য উড়েছিল বিজেপির পতাকা। তবে সে আলাদা ইকোয়েশন। নদিয়ার কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, শান্তিপুর, চাকদা মতুয়া অধ্যুষিত। এই এলাকাতে উড়েছিল বিজেপি পতাকা। ২০১৯ লোকসভা, ২০২১ বিধানসভা, ২০২৪ লোকসভা কোনও নির্বাচনেই মতুয়াভোটের ট্রেন্ড বদলায়নি। বর্তমানে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রভাব রয়েছে। তেমনই এসআইআরের ফলে বহু লোকের নাম বাদও গিয়েছে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষ করে নজরে আসে তা হল গত লোকসভায় এই সাত জেলায় কিছু হলেও বেড়েছে বিজেপির শক্তি। এমনকি কলকাতার জোড়াসাঁকো শ্যামপুকুরের মত দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়েছিল বিজেপি। এবারের ভোট দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটাদের পাখির চোখ করেছে সব শিবির। এই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক বহু বিধানসভার নিয়ন্ত্রক। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে চাঁদের হাট। নেতা অভিনেতা প্রায় প্রত্যেকেরই ভীড় এদিন। লাভলি মৈত্র, রূপা গাঙ্গুলি, অদিতি মুন্সি, সোহম চক্রবর্তী, রাজ চক্রবর্তী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী রিল লাইফের একাধিক নাম। রাজনীতির হেভিওয়েটরাও রয়েছেন। রয়েছেন ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, দীপ্সিতা ধর, মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় রাও। চোখ থাকবে ভবানীপুরে। গতবার ছোট বোনের কাছ থেকে খালি হাতে ফিরলে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল বড় বোন। এবারে বড়বোনের কাছে ভোট চাইতে এসেছেন শুভেন্দু। টানটান উত্তেজনার মেগাশো। রাশবিহারী কেন্দ্র হতে পারত নির্বিষ। কিন্তু ভোট আবহে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে ইডি হানা গল্পের প্রেক্ষাপট চেঞ্জ করেছে।
আরএকটি বিষয় নতুন করে সমীকরণ তৈরি করেছে। দুই ২৪ পরগনায় এসআইআরে বাদ গিয়েছে প্রায় ২৩ লক্ষ। এই ভোট যে ফলাফলের অন্যতম সূচক হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু প্রশ্ন একটা, কার কপালে ভাঁজ পড়বে? কার মুখেই বা স্বস্তির হাসি? আরএকটি বিষয় যেখানে আলো না ফেললে অলোচনা সম্পূর্ণ হবে না। গত লোকসভায় রাজ্যের ৭৭ টি পুর এলাকায় পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। শহরকেন্দ্রিক ভোটার মুখ ফেরাচ্ছে শাসকদলের থেকে। তার ওপর আরজিকর কাণ্ডের একটি বড় অভিঘাত তো রয়েছেই। আরজি করের নির্যাতিতার মা বিজেপির টিকিটে পানিহাটি থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও তৃণমূলের বিশ্লেষণ, আরজিকর ইস্যু শুধুমাত্র একটি ঘটনার বিরোধিতা, এতে সরকার বিরোধিতা ছিল না। কিন্তু সত্যিই কি তাই? এরপর অনেক জল বয়ে গিয়েছে মমতা আরজিকরের দুঃখ ভুলে উৎসবে ফিরতে বলেছেন। কিন্তু সেই আগুন কোথাও ধিকি ধিকি জ্বলছে নাতো? জবাব মিলবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।rnrnrnrnrnrnrn