২০১৭ সালে পূর্ব বর্ধমান থেকে আলাদা হয়ে নতুন জেলা পশ্চিম বর্ধমানের সৃষ্টি হয়।রানীগঞ্জ কয়লাখনি আসানসোলের শিল্প সমূহ জেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কোন পথে বইতে চলেছে পশ্চিম বর্ধমানের হাওয়া? জেলা দিয়ে বয়ে গ...
২০১৭ সালে পূর্ব বর্ধমান থেকে আলাদা হয়ে নতুন জেলা পশ্চিম বর্ধমানের সৃষ্টি হয়।রানীগঞ্জ কয়লাখনি আসানসোলের শিল্প সমূহ জেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কোন পথে বইতে চলেছে পশ্চিম বর্ধমানের হাওয়া? জেলা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অজয় ও দামোদর। কয়লা পাচার, অজয়ের বালি পাচার এই জেলার চেনা ছবি। নজরুলের জন্মভিটে চুরুলিয়া এই জেলাতেই অবস্থিত। এই জেলার ভোট হাওয়া বুঝব। তবে তার আগে দেখে নেব জেলার সীমানা
জেলার সীমানাrnrnশিল্প প্রধান এই জেলা। নাগরিক পরিসেবা এই জেলার প্রধান ভোট ইস্যু। বিহার ও ঝাড়খন্ড সীমান্ত ভাগ করে বলে ভোট পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্খিত অনুপ্রবেশ বাড়তে থাকে। জেলার শৈশবাস্থা এখনও কাটেনি। ভাগাভাগিতে জেলার মধ্যে কিছু ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় স্থান এসে গিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের পশ্চিমে বিহার ও ঝাড়খন্ড উত্তর-পশ্চিমে বীরভূম। দক্ষিণে বাঁকুড়া এবং পূর্বে পূর্ব বর্ধমান। এই জেলার মোট নয়টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলি হল পাণ্ডবেশ্বর, দুর্গাপুর পশ্চিম, দুর্গাপুর পূর্ব, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, আসানসোল দক্ষিণ, আসানসোল উত্তর, কুলটি, বারাবনীrnrnনয়টি বিধানসভা নিয়ে এই জেলা গঠিত। কাদের শক্তি কোন কেন্দ্রে? গত দুই টার্মের বিধানসভা নির্বাচনের ফল এক নজরে দেখে নেওয়া যাক
ভোট ইতিহাস, ভোট ফলrnrnযদিও ২০১৬ সালে আলাদা করে জেলাটা গঠিত হয়নি। তবুও গঠন হবার পরে যে বিধানসভা কেন্দ্র গুলি এই জেলার আওতায় এসেছে, তার ওপর দাঁড়িয়ে এই বিশ্লেষণ করা হল।rnrnপাণ্ডবেশ্বরrn২০১৬ সালে পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের জিতেন্দ্রকুমার তিওয়ারি। এরপরে জিতেন্দ্রকুমার তিওয়ারি বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন জিতেন্দ্রকুমার। কিন্তু কাঙ্খিত জয় পাননি।জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।rnrnদুর্গাপুর পূর্বrn২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জয় পান সিপিআইএম এর সন্তোষ দেবরায়। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে জয় পান তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার।rnrnদুর্গাপুর পশ্চিম rnদুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের বিশ্বনাথ পারিয়াল। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে জয় পান বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই।rnrnরানিগঞ্জrnএই কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন সিপিআইএমের রুনু দত্ত। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয় পান তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়rnrnজামুড়িয়া rnএই কেন্দ্রে ২০১৬ সালে জিতেছিলেন সিপিআইএম এর জাহানারা খান। ২০২১ সালে জেতেন তৃণমূলের হরেরাম সিং।rnrnআসানসোল দক্ষিণrnআসানসোল দক্ষিণে ২০১৬ সালে জিতেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে জয় ছিনিয়ে নেন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল। ২০২১ সালে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে যোগ দিলে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। অগ্নিমিত্রা পরাজিত হন তৃণমূলের শত্রুঘ্ন সিনহার কাছে। ২০২৪ সালেও মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের জুন মালিয়ার কাছে হেরে যান তিনি। সুতরাং আসানসোলের দক্ষিণে বিধায়ক হিসেবে রয়ে যান তিনি।rnrnআসানসোল উত্তরrnআসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের মলয় ঘটক।rnrnকুলটিrnকুলটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হন তৃণমূলের উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয় পান বিজেপির অজয়কুমার পোদ্দারrnrnবারাবনীrnএই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের বিধান উপাধ্যায়
লোকসভার হিসেব
২০১৬ এবং ২০২১ বিধানসভা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে পশ্চিম বর্ধমানে পাল্লাভারি তৃণমূলের। কিন্তু ২০১৬ র তুলনায় আশাতীত ভাবে ২০২১ সালে শক্তি বৃদ্ধি করেছে পদ্ম শিবির। এবার দেখে নেওয়া যাক গত দুটি লোকসভায় এই জেলার ফলrnrnপশ্চিম বর্ধমান জেলায় দুটি লোকসভা আসন রয়েছে। আসানসোল এবং বর্ধমান-দুর্গাপুর। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন বিজেপির বাবুল সুপ্রিয়। ২০২৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয় পান তৃণমূলের শত্রুঘ্ন সিনহা। বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে ২০১৯ সালে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির এস এস আহলুয়ালিয়া। ২০২৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের কীর্তি আজাদ। যার অর্থ। ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি এই জেলার দুটি লোকসভা আসনেই নিজেদের জয়ের পতাকা ওড়ালেও ২০২৪ সালে এই দুটি আসনই জয় করে তৃণমূল।
এবারের ভোট ইস্যুrnrnএই জেলার ভোট রাজনীতিতে হাজার সমীকরণ। দেখে নেওয়া যাক ঠিক কোন কোন ইস্যু বা সমীকরণ এবারের নির্বাচনে মুখ্য হয়ে উঠবে?rnrnপশ্চিম বর্ধমান জেলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক ভাবে বাদ পড়া ভোটার এবারের নির্বাচনে একটি বড় ইস্যু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিম বর্ধমান জেলা দিয়েই দক্ষিণবঙ্গে ভোট প্রচার শুরু করেছেন, বিশেষ করে পাণ্ডবেশ্বরে নির্বাচনী সভা করেছেন। আসানসোলে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল এবং তৃণমূল প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে লড়াই মূল আকর্ষণ। এখানে বহিরাগত তকমা ছেড়ে ভূমিপুত্র ও কন্যার লড়াইয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপুর ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলে কারখানা ও খনির কারণে বায়ু এবং জলদূষণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। রানীগঞ্জ, জামুরিয়া ও সালানপুর এলাকায় বেআইনি কয়লা খনি এবং দামোদর নদ থেকে বালি তোলায় খনি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। জেলায় প্রায়শই রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমাবাজি এবং বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে।পুরনো কয়লাখনি অঞ্চলের বাসিন্দারা ধসের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। শিল্পাঞ্চল হলেও, কলকারখানা বন্ধ বা রুগ্ন হয়ে পড়ায় নতুন কর্মসংস্থানের অভাব এবং যুবকদের বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা। এছাড়াও পশ্চিম বর্ধমান জেলার নাগরিক পরিষেবার মানও এবারের ভোটের বড় ইস্যু।rnrnলোকসভার ফল বলছে এই জেলায় তৃণমূলের পাল্লা ভারি। বিধানসভার ফল বলছে শক্তি বাড়াচ্ছে বিজেপি। তবে একটা বিষয় পরিস্কার, এই জেলায় এবার লড়াই হবে দুই ফুলের মধ্যে। কাদের ওপর ভরসা রাখবে জনগন? তা অবশ্য সময় বলবে। সব জেলার চুলচেড়া বিশ্লেষণ দেখতে নজর রাখুন বাংলা তুমি কার। সঙ্গে রাখুন সিএন ডিজিটাল।