অসীম সেন: মহাভারত কার রচনা? প্রশ্নটা সহজ উত্তর ততোধিক। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস যাকে আমরা চিনি ব্যাসদেব হিসেবে। মহাভারতের মত এত বিশাল একটি রচনা। যার প্রতিটি ছত্রে তীক্ষ্ণ মেধার উপস্থিতি আমাদের চমকে...
অসীম সেন: মহাভারত কার রচনা? প্রশ্নটা সহজ উত্তর ততোধিক। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস যাকে আমরা চিনি ব্যাসদেব হিসেবে। মহাভারতের মত এত বিশাল একটি রচনা। যার প্রতিটি ছত্রে তীক্ষ্ণ মেধার উপস্থিতি আমাদের চমকে দেয়। এই সিন্ধুসম গভীর রচনা একজনের পক্ষে করা সম্ভব? মহাভারত অধ্য়য়ন করে পণ্ডিতদের মনে এই একটি প্রশ্নই বারবার দেখা দিয়েছে। মহাভারত রচনা ছাড়া লেখক হিসেবে আমরা কৃষ্ণদ্বৈপায়নের উল্লেখ পাই ভাগবত ও ভগবদগীতাতেও। আঠারোটি পুরাণের সিংহভাগই তাঁর রচনা। সুতরাং একটি প্রশ্ন অতি প্রাসঙ্গিক। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন আদৌ কোনও একজন লেখকের নাম?

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের রামমোহন ও তৎকালীন সমাজ ও সাহিত্য গ্রন্থে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে পরিস্কার বেদব্যাস একটি উপাধি। নাম নয়। আর্যদের আদি যুগের মানুষদের রচিত গান কবিতা লোকসঙ্গীত ঋক নামে সংগৃহীত ছিল। যারা সংগ্রাহক ছিলেন তাঁরা সমাজে পরিচিত হতেন বেদব্যাস নামে। এখনও পশ্চিমভারতের অনেকেরই পদবী ব্যাস। এবার আসা যাক রামায়ন,মহাভারত রচনা প্রসঙ্গে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর প্রাচীন সাহিত্য গ্রন্থের ‘রামায়ণ’ অংশে। রবীন্দ্রনাথ এখানে লিখেছেন,' বস্তুত ব্যাস-বাল্মীকি তো কাহারো নাম ছিল না। ও তো একটা উদ্দেশে নামকরণ মাত্র। এত বড়ো বৃহৎ দুইটি গ্রন্থ, আমাদের সমস্ত ভারতবর্ষ-জোড়া দুইটি কাব্য, তাহাদের নিজের রচয়িতা কবিদের নাম হারাইয়া বসিয়া আছে ' রবীন্দ্রনাথের এই বক্তব্য অস্বীকার করা যায়নি। মহাভারত এবং অন্যান্য পুরাণে কৃষ্ণদ্বৈপায়নের বংশ তালিকা দেওয়া আছে।

সত্যবতী হলেন কৃষ্ণদ্বৈপায়নের মাতা, পিতা হলেন পরাশর। পরাশরের ঠাকুরদা ঋষি বশিষ্ট। বশিষ্ট সপ্ত ঋষির একজন। কৃষ্ণদ্বৈপায়নকে বেদব্যাস বলার অর্থ কি তবে তিনিও একজন ঋক সংগ্রাহক ছিলেন? এর আগে বেদকে শ্রুতি বলা হত। যার অর্থ বেদকে শুনে শুনে মনে রাখতে হত। তিনি গনেশের সহায়তায় প্রথম বেদ কে চার ভাগ করেন এবং লিপিবদ্ধ করেন। যদিও এই গণেশ স্বয়ং সিদ্ধিদাতা কিনা সে বিষয়েও তর্ক রয়েছে।

হয়তো ভবিষ্যতে কৃষ্ণদ্বৈপায়নের মহাকবি হিসেবে প্রমাণ মিলবে। যাঁর হাত ধরেই আবির্ভূত হয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ। সেক্ষেত্রে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন একজন ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা হিসেবে মহাভারত রচনা করেছিলেন অথবা কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরে একজন চিরঞ্জীবী হিসেবে মহাভারত রচনা করেছিলেন সে বিষয়টিও পরিস্কার হবে।