অসীম সেন: যোগ দিবসে সাজছে ভারত, সাজছে বাংলা।রাজনৈতিক তর্ক বিতর্ক চলছে চলবে। তবে জীবনে যোগের উপযোগিতা নিয়ে কিন্তু বিতর্ক না থাকাই ভালো। যোগ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত যুজ্ থেকে। মানে মিলন বা যুক্ত হওয়া। যোগ ...
অসীম সেন: যোগ দিবসে সাজছে ভারত, সাজছে বাংলা।রাজনৈতিক তর্ক বিতর্ক চলছে চলবে। তবে জীবনে যোগের উপযোগিতা নিয়ে কিন্তু বিতর্ক না থাকাই ভালো। যোগ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত যুজ্ থেকে। মানে মিলন বা যুক্ত হওয়া। যোগ অভ্যাস শুধু শারীরিক কসরতের মধ্যে আটকে থাকে না। প্রাচীন বিজ্ঞান এবং জীবন ধারায় উল্লিখিত এই অভ্যাস শরীর মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য ও মেলবন্ধন তৈরি করে।
এবার প্রশ্ন জাগতে পারে এই যোগের উৎপত্তি হল কোথা থেকে? আদি যোগী বলতে আমরা মূলত বুঝি শিবকে। যোগশাস্ত্রে শিব কেবল কোনও ধর্মীয় দেবতা নন, বরং মানব সভ্যতার প্রথম গুরু এবং যোগবিদ্যার মূল উৎস। ধরা হয়, আজ থেকে বহু হাজার বছর আগে, হিমালয়ের বুকে শিব সম্পূর্ণ আত্মোপলব্ধি বা পরম জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি প্রথম উলব্ধি করেন মানুষ চাইলে তার শরীরের ও প্রকৃতির সমস্ত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এক উচ্চতর চেতনায় পৌঁছতে পারে।
শিব যখন গভীর যোগে মগ্ন ছিলেন তখন তাঁর সেই অলৌকিক অবস্থা দেখে সাত মহান সাধক আকৃষ্ট হন। তাঁরা শিবের কাছে এই জ্ঞানের অংশীদার হতে চান। এই সাত সাধকই হলেন সপ্তর্ষি। শিব সরাসরি সংসারকে যোগ শিক্ষা দেননি, সপ্তর্ষিদের মাধ্যমে মানবজাতির কাছে এই বিজ্ঞান পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন।
আধুনিক সভ্যতার দোর গোড়ায় পতঞ্জলি এই যোগঅভ্যাসকে লিপিবদ্ধ করেন। এই যোগসূত্র হল অনুশীলনের উপর সংস্কৃত সূত্র। বেদব্যাস ও কৃষ্ণমাচার্যের মতে এর সূত্রসংখ্যা ১৯৫। যোগসূত্রগুলিতে অষ্টঙ্গের উল্লেখ রয়েছে। সমাধিতে চর্চার আটটি উপাদান। যম অর্থাৎ বিরত থাকা, নিয়ম অর্থাৎ পালন, আসন অর্থাৎ যোগভঙ্গি, প্রাণায়াম মানে শ্বাস নিয়ন্ত্রণ, প্রত্যাহার মানে ইন্দ্রিয়ের প্রত্যাহার, ধারণা অর্থ মনের ঘনত্ব, পরিশেষে ধ্যান এবং সমাধি যার অর্থ শোষণ।
এই পদ্ধতিতে আপনি নিজেকে শূন্যের সঙ্গে একাত্ম করতে পারেন। পাশ্চাত্য যে বিজ্ঞানকে অর্জন করতে এখন নিরন্তর চর্চা চালাচ্ছে, সেই জ্ঞান সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের দেশে। সুতরাং যোগ দিবসকে নেহাত একটি দিন যাপন ভেবে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। যোগ একটা নিরন্তর অভ্যাস, যা শরীর গঠন করে, চরিত্র গঠন করে, সর্বোপরি একটি শক্তিশালী জাতি গঠন করে।