চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে দেশজুড়ে যে ধরপাকড় শুরু হয়, তা এখনও অব্যাহত। এবার বিজেপি-শাসিত ওড়িশায় বাংলার পাঁচজন পরিযায়ী শ্রমিককে ডিটেনশন ক্যাম্পে পোরার অভিযোগ উঠল। ওই পাঁচজনই বীরভূম...
চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে দেশজুড়ে যে ধরপাকড় শুরু হয়, তা এখনও অব্যাহত। এবার বিজেপি-শাসিত ওড়িশায় বাংলার পাঁচজন পরিযায়ী শ্রমিককে ডিটেনশন ক্যাম্পে পোরার অভিযোগ উঠল। ওই পাঁচজনই বীরভূমের নলহাটি থানার ভগলদিঘি গ্রামের বাসিন্দা।
উদ্বিগ্ন পরিজনেরা স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পুলিস-প্রশাসনও করতে হয়েছে তাঁদের। ওই পাঁচ শ্রমিকের আধার কার্ড-সহ বিভিন্ন পরিচয় পত্রের নথি প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে ওড়িশা সরকারে কাছে তা পাঠানো হয়েছে। তবুও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন পরিবারের বৃদ্ধ বাবা, মা। দাবি একটাই, নথি যাচাই করে দ্রুত তাঁদের ছেড়ে দেওয়া ছেলেদের। প্রসঙ্গত, বীরভূমের নলহাটি-২ নম্বর ব্লকের একাধিক পরিযায়ী শ্রমিক এখানে ঠিকমতো কাজ না-পেয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেন। পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন বছরের-পর-বছর ।
এই বীরভূমের পরিযায়ী শ্রমিক সোনালি বিবি এখনও বাংলাদেশের জেলে বন্দি। দিল্লির রোহিনী থেকে সোনালি ও তাঁর পরিজনদের আটক করে, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সোনালিদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে জেলে পোরে।
আদতে বীরভূমের বাসিন্দা সোনালি, তাঁর স্বামী দানিশের সঙ্গে একরত্তি বাচ্চাকে কোলে করে 'ভিনরাজ্য' দিল্লিতে পাড়ি দেন রুজিরুটির তাগিতে। বয়স মাত্র ছাব্বিশ হলে কী হবে, পেটের দায়ে যাবতীয় সাধ-আহ্লাদ বিসর্জন দিতে হয়েছে সোনালিকে। যাইহোক, দিল্লিতে গিয়ে এই পরিযায়ী-পরিবার কাগজ-কুড়ানির কাজ করে দু-বেলা দু-মুঠোর বন্দোবস্তও করতে পারে কোনওরকমে। কিন্তু সেই 'সুখ' সয় না বেশিদিন। ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনী অভিযান (SIR) নিয়ে বিতর্কের মাঝে বাংলাদেশি-পাকড়াও অভিযান শুরু হয় দেশজুড়ে। দিল্লির রোহিনী থেকে তাঁদের পাকড়াও করা হয় । বাংলায় কথা বলার 'অপরাধে', আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং অনেক কাকুতি-মিনতি সত্ত্বেও তাঁদের 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' বলে চিহ্নিত করে দিল্লি পুলিস। তারপর, অসমের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে 'পুশব্যাক' করা হয় হয় তাঁদের। এদিকে, সে দেশের 'নাগরিক' না-হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারও তাঁদের 'অনুপ্রবেশকারী' হিসেবে চিহ্নিত করে সোজা জেলে পুরে দেয়। এখন প্রশ্ন একটাই: আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনালির শিশু সন্তান জন্ম নেবে কোন দেশে?
প্রসঙ্গত, শুধু সোনালি আর তাঁর স্বামী-পুত্রই নন, বীরভূমের দুটি পরিবারের ৬ জন এভাবে 'নেই মানুষের দেশে' চলে গিয়েছেন। যাদের মধ্যে ৬ বছরের শিশুও। অনেকটা সেই মালদহের কালিয়াচকের পরিবারের মতোই।
সর্বশেষ আপডেট: শর্ত সাপেক্ষে পাঁচ শ্রমিককে ওড়িশা সরকার মুক্তি দিল বলে খবর।