কুণাল ঘোষ: আমি কেন এখনও তৃণমূলের হয়ে বলছি, অনেকে প্রশ্ন করছেন। সমালোচিতও হচ্ছি বিস্তর। আমি তৃণমূলের হয়ে বলছি, কারণ আমি তৃণমূলের সৈনিক। আমি আরজিকরের ঘটনা ডিফেন্ড করছি না। প্রথম পোস্ট আমার ছিল, দোষীদে...
কুণাল ঘোষ: আমি কেন এখনও তৃণমূলের হয়ে বলছি, অনেকে প্রশ্ন করছেন। সমালোচিতও হচ্ছি বিস্তর। আমি তৃণমূলের হয়ে বলছি, কারণ আমি তৃণমূলের সৈনিক। আমি আরজিকরের ঘটনা ডিফেন্ড করছি না। প্রথম পোস্ট আমার ছিল, দোষীদের শাস্তি চাই। এখনও একই কথা, দোষীদের শাস্তি। যে বা যারা আড়াল করছে, তাদের শাস্তি। প্রশাসনের যে যে পদক্ষেপকে মানুষ ভুল বলেছেন, আমি একটা দল করেও সেই ভুল প্রকাশ্যে বলেছি।
নাগরিক আন্দোলনের আমি সমর্থক। কিন্তু যাদের জমানায় এই ধর্ষণ, খুন বারবার ঘটেছে বা ঘটে, সেইসব রাজনৈতিক শক্তির মুখোশ পরা ইভেন্টের আমি বিরোধী। আজকের মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ঠিক/ভুল/বিকৃত/ অভিমুখকৃত কথা ছড়িয়ে দেওয়া সহজ। তাতে অনেক মানুষ একসঙ্গে আমাকে ভুল বুঝতে পারেন, কিন্তু আমার কাছে আমি পরিষ্কার এবং স্পষ্ট অবস্থানে দাঁড়িয়ে। এই সময়ে ব্যক্তিগত রাগ মেটাতেও অক্ষম ঈর্ষার কিছু আক্রমণ আসে, সেসব হয়েই থাকে।
আমি তৃণমূলের সৈনিক। দলের কিছু ব্যক্তির প্রতি আমার কিছু অভিমান, অভিযোগ থাকলেও আমি আনুগত্যের প্রমাণ দিয়েছি। দলের বিরুদ্ধে এখন সম্মিলিত বিপক্ষ শক্তির আক্রমণ; কিছু পদক্ষেপের কারণে নাগরিকদের স্বাভাবিক বিরক্তি, ক্ষোভ; এই সময় আমি দলের পক্ষে সৈনিকের ভূমিকা পালনই কর্তব্য বলে মনে করছি। দলের মধ্যেই ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে, এখনও তাতে আস্থা রাখি। মমতাদির নেতৃত্বে, অভিষেকের সেনাপতিত্বে আমি এবং আমার মত আরও সৈনিকরা সাধ্যমত লড়ছে।
আবার বলি, আরজিকরে দোষী/রা, মদতদাতারা শাস্তি পাক। দুর্নীতিচক্র ভেঙে যাক। নাগরিক সমাজের আন্দোলনে সমর্থন। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দলের অরাজনৈতিক মুখোশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টার বিরোধিতা করব। কারণ, একবার অরাজকতা লাগামছাড়া হলে সেটা হবে বাংলার সুদূরপ্রসারী ক্ষতি। এবারে জানাই সেই ভয়ঙ্কর ঘটনা।
আরজিকর। দুর্ঘটনায় জখম রোগী পড়ে রইল। ভর্তি হল না। মৃত্যু।সংবাদমাধ্যম সূত্রে এখনই পাওয়া খবর: আরজিকরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ২৮ বছর বয়সী যুবকের। কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার। অভিযোগ, সকাল ন\'টা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত পেশেন্ট পড়েছিল। তারপরও তাকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। কোন্ননগরে এক্সিডেন্ট হয় ওই যুবকের। দুই পায়ের উপর থেকে লরি চলে যায়। শ্রীরামপুর হসপিটাল এ নিয়ে গেলে সেখান থেকে রেফার করা হয় কলকাতায়।
কিন্তু আরজি করেন নিয়ে আসার পরও পরিষেবা মেলেনি। হসপিটালের তরফ থেকে বলা হয় ডাক্তার নেই, রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে। ততক্ষণে নাগাড়ে রক্তপাতে ঝিমিয়ে পড়ছিল রোগী। অবশেষে ১২ টার সময় মৃত্যু হয় তাঁর। পরিষেবা সচল রেখে আন্দোলন চালু থাকুক, আর্জি পরিবারের লোকেদের।