আন্দোলনরত চিকিত্সকদের প্রতি বিধায়ক-অভিনেতার কাঞ্চন মল্লিকের টিপ্পনীপূর্ণ মন্তব্যে গর্জে উঠল টলিজগত থেকে নাট্যজগত। তৃণমূলের উত্তরপাড়ার বিধায়কের বন্ধুবৃত্তে থাকা অভিনেতাদের মুখে সমালোচনার সুর। বাতিল ঘো...
আন্দোলনরত চিকিত্সকদের প্রতি বিধায়ক-অভিনেতার কাঞ্চন মল্লিকের টিপ্পনীপূর্ণ মন্তব্যে গর্জে উঠল টলিজগত থেকে নাট্যজগত। তৃণমূলের উত্তরপাড়ার বিধায়কের বন্ধুবৃত্তে থাকা অভিনেতাদের মুখে সমালোচনার সুর। বাতিল ঘোষণা আগামী দিনে কাঞ্চন অভিনীত নাটকের শো।
সরকারের বিরুদ্ধে যাঁরা কর্মবিরতি করছেন, তাঁরা বেতন নিচ্ছেন তো। বোনাস নেবেন তো, না নেবেন না। আন্দোলনের যাঁরা অংশ, তাঁরা সরকারি পুরস্কার পেয়ে থাকলে ফেরত দেবেন তো! এভাবেই আন্দোলনরত চিকিত্সক-সহ কাদম্বিনী-কাণ্ডে পথে নামা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে রবিবার টিপ্পনীপূর্ণ মন্তব্য অভিনেতা-বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের। ঘটনাচক্রে এই আন্দোলনের অংশ বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা-সহ নাট্য জগতের ব্যক্তিত্বরাও। কাঞ্চন মল্লিক যখন হুগলিতে বসে এই মন্তব্য করছেন, তখন নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ যাত্রায় পা মেলাতে দেখা গিয়েছে কাঞ্চনের বন্ধু, সহ-অভিনেতাদের। এবার তাঁদের মধ্যে থেকেই গর্জে উঠলেন একাধিক চলচ্চিত্র-সহ নাট্যব্যক্তিত্ব।
বন্ধু কাঞ্চনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্ন করার ঘোষণা অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, একসময়ের বন্ধু/সহকর্মী কাঞ্চন মল্লিক তোকে ত্যাগ দিলাম। অনুপ্রেরণার লকারে চোখ, কান, মাথা, মনুষ্যত্ব, বিবেক,বুদ্ধি, বিবেচনা, শিক্ষা সব ঢুকিয়ে চাবিটা হারিয়ে ফেলেছিস মনে হয়। চাবিটা খুঁজে খবর দিস বন্ধু, তখন আবার কথা হবে, আড্ডা হবে। কাঞ্চনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্ন করার প্রসঙ্গ সামাজিক মাধ্যমে কেন উত্থাপন, সে ব্যাখ্যাও দেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। নাট্যব্যক্তিত্ব তথা অভিনেতা সুজন নীল মুখোপাধ্যায়ের পোস্ট, বন্ধুত্বের হয় না পদবী??? হয় সরকারি শিলমোহর। এই পোস্টের ঘণ্টাখানের পরেই সুজন মুখোপাধ্যায়ের ঘোষণা, মাগন রাজার পালা আমার আর কাঞ্চন অভিনীত নাটকের আমন্ত্রিত অভিনয় বাতিল হলো। কারও নাম না করে খোঁচা অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীর। তিনি লিখেছেন, ঘাঁটা মল্লিক, চাটা মল্লিক, ফাটা মল্লিক, টাটা মল্লিক।
অভিনেতা পরিচালক তথাগত মুখোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, মর্কটটাকে কেউ বোঝাক সরকারের টাকা বলে কিছু হয় না। সরকারী বেতন হিসেবে যেটা সরকারী চাকুরীজীবীরা পান সেটা সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা। অভিনেতা ঋদ্ধি সেনও সুর চড়িয়েছেন কাঞ্চন মল্লিকের বিরুদ্ধে। তিনি লেখেন, যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারকে প্রশ্ন করতে গেলে সরকারি মায়নে ফেরত দিয়ে করতে হয় তাহলে সেই একই নিয়মে কাঞ্চন মল্লিকের বাজে বকার জন্য বিধায়ক-সহ যেকোনও রাজনৈতিক পদ ফেরত দিয়ে অবিলম্বে স্কুলে ফেরত চলে যাওয়া উচিৎ। ভারতীয় সংবিধান না জেনে রাজনীতি করা তো দূর ঠিক করে মোসাহেবিও করা যায় না।
অভিনেতা অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, কাঞ্চন মল্লিক আপনি এই কথাগুলো বলতে পারলেন? একবার নিজের কথাগুলো কানে শুনেছেন? শুনে কি লজ্জা পেয়েছেন? আপনারা জনগণের অভিভাবক, আপনাদের ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস, ভরসা সরে যেতে দেবেন না। কাঞ্চন মল্লিকের মন্তব্যে সমালোচনার সুরে জবাব শুধু তাঁর সহ-অভিনেতা বা বন্ধুবৃত্ত থেকে এসেছে এমনটা নয়। সরব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও।