তালডাংরা বিধানসভা উপনির্বাচনে এবারে চতুর্মুখী লড়াই। চার প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই উৎকল ব্রাহ্মণ সমাজভুক্ত। তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্নায়ক শক্তি অনেকটাই এই উৎকল সমাজ। তাই কি উৎকল সমাজভূক্ত প্...
তালডাংরা বিধানসভা উপনির্বাচনে এবারে চতুর্মুখী লড়াই। চার প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই উৎকল ব্রাহ্মণ সমাজভুক্ত। তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্নায়ক শক্তি অনেকটাই এই উৎকল সমাজ। তাই কি উৎকল সমাজভূক্ত প্রার্থী বেছে নেওয়া? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। তবে কি তালড্যাংরা নির্বাচনে ফিরল ৩৭ বছর আগের সমীকরণ! বিবার্দা, ফুলমতি, হারমাস্রা, খালগ্রাম, পাঁচমুড়া , তালডাংরা, ব্রজরাজপুর, গৌরবাজার ও সিমলপাল নিয়ে তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্র। গতবার বাম কংগ্রেসে জোট বাঁধলেও উপনির্বাচনে তালডাংরায় উপনির্বাচনে চতুর্মুখী লড়াই।
এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূলের প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহবাবু, সিপিএমের প্রতীকে দাঁড়িয়েছেন দেবকান্তি মোহান্তি। কংগ্রেসের প্রার্থী তুষারকান্তি ষন্নিগ্রহি। আর বিজেপির প্রার্থী অনন্যা রায়। তালডাংরা বিধানসভায় মোট ভোটার ২ লক্ষ ৬০ হাজারের কিছু বেশি। এই ভোটারদের একটি বড় অংশ উৎকল সমাজভুক্ত এবং সিমলাপালের বাসিন্দা। বিজেপি প্রার্থী অনন্যা রায়কে বাদ দিলে বাকি তিনজনও উৎকল ব্রাহ্মণ। ভোট রণনীতি বলছে যেহেতু তালডাংরা বিধানসভা নিয়ন্ত্রণ করে উৎকল সমাজের ভোট। তাই বাম- কংগ্রেস ঘাসফুল তাদের প্রার্থী বেছে নিয়েছে উৎকল সমাজের মধ্য থেকেই। যদিও তৃণমূল সহ বাকি দুই দলের বক্তব্য যোগ্যতার নিরিখেই তাদের প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। তবে অঙ্ক বলছে অন্য কথা। বিগত কয়েকটি ভোটে তালডাংরায় বামেদের ভোট গিয়েছে রামের ঝুলিতে। এমনটাই রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ। ২০১৯ সালে বাঁকুড়া লোকসভা আসনটি যায় পদ্মশিবিরের দখলে। ২০২৪ সালে তৃণমূল তা পুনরুদ্ধার করলেও তালড্যাংরা বিধানসভার উৎকল সমাজের ভোট পড়েছিল বিজেপির বাক্সেই। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে তালডাংরা থেকে জিতেছিল তৃণমূল প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তী। হারিয়েছিলেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দী শ্যামলকুমার সরকারকে। উভয়ের মধ্যে ভোট পার্থক্য ছিল কমবেশি ১৩ হাজার। অরূপ চক্রবর্তী লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হওয়ায় তিন বছরের মধ্যে উপনির্বাচন হচ্ছে তালডাংরায়। তালডাংরার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবহেলা। পানীয় জল হতে পারে একটি ইস্যু, বেকারত্ব হতে পারে একটি ইস্যু। উন্নয়ন অবশ্যই বিরোধী হাতিয়ার। তবে আরজি কর আবহে সব থেকে বড় ইস্যু মহিলাদের সুরক্ষা। এমনটাই জানালেন গ্রামবাসীরা।
অরূপ বাবু নিজেও মানেন উৎকল সমাজের ভোট অনেকাংশে গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূলের পাখির চোখ উৎকল সমাজের ভোট।অপর দিকে নিজেদের শক্তিক্ষয় এবং বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি রুখতে সিপিএম আপ্রাণ চাইছে হিন্দু ভোটের মুখ ফেরাতে। তাই তাদেরও লক্ষ উৎকল সমাজের ভোট। এবারের উপনির্বাচন চার দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ কী বলছেন তারা
তালড্যাংরার ভোট চিত্রটি বিশ্লেষণ করলে এই যুক্তি আরও স্পষ্ট হবে ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তালডাংরার বিধায়কদের প্রত্যেকেই ছিলেন উৎকল ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের। ১৯৮৭ সালে এই প্রথায় ছেদ পড়ে । সিপিএম এর হয়ে জেতেন অমিয় পাত্র। অমিয় পাত্র এবং পরবর্তী কালে মনোরঞ্জন পাত্র কেউই উৎকল সমাজভুক্ত ছিলেন না। এরপরে সিপিএমের হাত থেকে আসনটি ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। সমীর চক্রবর্তী এবং অরূপ চক্রবর্তী উভয়ের কেউই উৎকল সমাজের মুখ নন। এবারের উপনির্বাচনে চার ভোট প্রার্থীর তিন জনই উৎপল সমাজভূক্ত। স্বাভাবিক ভাবেই ৩৭ বছর পর তালড্যাংরার ভোট বাক্সে ফের উৎকল সমাজের প্রভাবের কথা বলছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।