সত্যি না মিথ্যে? বলা কঠিন। তবে, নির্বাচন কমিশনের হাতে সিপিএম-নেতা শমীক লাহিড়ী এমন একটি অডিয়ো ক্লিপ তুলে দিয়েছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন প্রবল জল্পনা। তার কারণ একটাই, রাজ্যের ২২০৮ টি বুথে একজনও মৃত ভোটার নেই, স্থানান্তরিত ভোটার নেই!
ওই অডিয়ো ক্লিপ কিন্তু নামগোত্রহীন হয়ে সমাজ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা নয়। খোদ সিপিএম নেতা তা নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছেন।
কী শোনা যাচ্ছে অডিয়োতে?
"আমাদের সমস্ত বিএলও এবং বুথ সভাপতি, অঞ্চল কমিটির যাঁরা মেম্বার আছেন, দলীয় সমস্ত নেতৃত্বকে জানাচ্ছি, যে সমস্ত এসআইআর ফর্ম বিএলও ফেরত নিয়ে গেছে, মৃত বা স্থানান্তরিত, সেগুলোর কোনও প্রমাণ দিতে হবে না। যদি মৃত হয়, ডেথ সার্টিফিকেট দিলে তা কাটবে। সেজন্য আমাদের দলের যত মৃত লোক আছে, ডেথ সার্টিফিকেট জমা দেবে না কেউ। ওই ফর্ম পূরণ করে আবা জমা দেবে। বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফেরত দেবে। যারা শিফট হয়েছে, কোথাও স্থানান্তরিত হয়েছে, তাদের ফর্ম পূরণ করে জমা দেবে। আমাদের যত ভোট সব থাকবে। পারলে নির্বাচন কমিশনার প্রমাণ করে তাদের কাটাবে। যদি-না প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমাদের ভোটার অটুট থাকবে। এই নির্দেশিকা কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সুতরাং এটা আমাদের একদিনের মধ্যেই করে নিতে হবে। বিএলও-রা সব বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফেরত দেবে। সবাইকে জানাচ্ছি, যার আন্ডারে যত ফর্ম আছে, মৃতদের ও স্থানান্তরিতদের ফর্ম পূরণ করতে হবে। সবাই যত্ন সহকারে দেখে নিয়ো, কারণ আমাদের ভোটার কমানো যাবে না। এটা দলীয় নির্দেশ। সবাইকে পালন করতেই হবে"।
প্রসঙ্গত, ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে সম্মতিসূচক 'হ্যাঁ, হুঁ' কিছুই শোনা যায়নি। এবং, এই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি সিএন ডিজিটাল।
এদিকে কমিশন-সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে মোট ২২০৮ টি বুথে একজনও মৃত ভোটার নেই, স্থানান্তরিত ভোটার নেই! যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ২০০২-২৫-এর মধ্যে ওইসব বুথে কি একজনও মারা যাননি, একজনও স্থানান্তরিত হননি? এবং, ওই বুথের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এমতাবস্থায়, দুয়ে-দুয়ে চার করে নিচ্ছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকেই।
দূরভাষে এই যিনি এই নির্দেশ দিচ্ছেন, তিনি কুলপির তৃণমূল নেতা বলে দাবি করেছেন সিপিএমের শমীক লাহিড়ী। ওই অডিয়ো ক্লিপ নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। এদিকে, শমীকের নিশানায় যে তৃণমূল নেতা, বাবুরমহল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সেই ধ্যানেশ সর্দার দাবি করেছেন, "এমন কোনও নির্দেশ আমি দিইনি। আমার নিজের বাড়িতে একজন স্থানান্তরিত ভোটার আছে, আমি নিজে সই করে তা জমা দিয়েছি। এটা আমার অডিয়ো নয়। বিরোধীরা দলকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছে। বিডিও সাহেবকে জানিয়েছি। খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। কে করেছে জানলে তাকে ছেড়ে দেবো না"।