নভেম্বরে শাপমুক্তি হল স্মৃতি-হরমনপ্রীতদের। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে বিশ্বজয়ী ভারতকন্যারা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেশের মাঠে ইতিহাস গড়েছে ভারতের মেয়েরা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উইমেন ইন ব্লু। তবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ...
নভেম্বরে শাপমুক্তি হল স্মৃতি-হরমনপ্রীতদের। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে বিশ্বজয়ী ভারতকন্যারা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেশের মাঠে ইতিহাস গড়েছে ভারতের মেয়েরা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উইমেন ইন ব্লু। তবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েও পুরস্কারমূল্য পুরুষদের থেকে কম মেয়েদের! তা নিয়ে শুরু হয়েছে বহু আলোচনা-সমালোচনা। অতীতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর মোট ১২৫ কোটি টাকা পুরস্কার পেয়েছিল ভারতীয় পুরুষ দল। রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল ঠিক এই পরিমাণ অর্থই পেয়েছিল। সেখানে গত রবিবার প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছে উইমেন ইন ব্লু। তারপরই বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ঘোষণা করে দিয়েছেন, 'ভারতীয় মহিলা দলকে পুরস্কার স্বরূপ ৫১ কোটি টাকা দেওয়া হবে।' এখানেই উঠছে প্রশ্ন। পুরুষদের সঙ্গে মহিলাদের পুরস্কারমূল্য নিয়ে কেন এত বৈষম্য? তাহলে কি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদেরকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা? এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকেই।
মহিলাদের পুরস্কারমূল্য অনেকটাই বাড়িয়েছে আইসিসি। পুরুষদের পুরস্কারমূল্যর থেকে যে অনেকটাই বেড়েছে সেই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যদি একটা উধাহরন দিয়ে বলা যায়, তাহলে বলতে হয় ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পেয়েছিল। এদিকে গত রবিবারে বিশ্বজয় করার পর ভারত প্রায় ৩৭.৩ কোটি টাকা পেয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। যার হিসেবে করলে ২.৩ কোটি টাকা বেশি। আইসিসি টাকার মূল্য বাড়িয়েছে এমনকি মহিলাদের জন্য বাড়তি পুরস্কারও দেওয়ার কথাও জানিয়েছে।
তবে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কিন্তু উল্টো পথ ধরেছে। আইসিসির দেখান পথে একেবারে হাঁটেনি বিসিসিআই। বোর্ডের যে কেন্দ্রীয় চুক্তি রয়েছে সেখানে কেন এত বৈষম্য? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রিকেটমহলের অনেকেই। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কবে যে এমন বৈষম্য দূর হবে? মেয়েদের বিশ্ব জয়ের পরও কেন পাল্টালো না ছবিটা? এমন প্রশ্নের সদর্থক উত্তর কি সত্যি মিলবে?
উল্লেখ্য, এদিনের ফাইনালের ময়দানে টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রোটিয়া বাহিনী। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৯৮ রান করে ভারত। স্মৃতি মান্ধানা (৪৫) শেফালি বর্মা (৮৭) ভালোই শুরু করে। ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়াতে শুরু করেন দুজনেই দুরন্ত খেলে শতরানের জুটি তৈরি করেন তাঁরা। হরমনপ্রীত ২০ রান এবং জেমাইমা ২৪ রান। তারপরেই আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে। পরবর্তীতে রানের গতি বাড়ান রিচা ঘোষ। এদিনের ম্যাচে ২৪ বলে ৩৪ রান করেন তিনি। দীপ্তি শর্মার ৫৮ বলে ৫৮ রান। অন্যদিকে ২৪৬ রানেই স্কোরবোর্ড থেমে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার। বিশ্বজয় করল ভারতের মেয়েরা।