রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবারও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এক গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলার ভোটার ...
রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবারও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এক গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলার ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের নাম ঢোকানোর চেষ্টা চলছে এবং তাতে মদত দিচ্ছে বিজেপি। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠির পাশাপাশি এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার জনসভা থেকেও সরব হন তৃণমূল সুপ্রিমো।
রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবারও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, এক গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলার ভোটার তালিকার বহিরাগতদের নাম ঢোকানোর চেষ্টা চলছে এবং এদিন ৩ পাতার চিঠিতে মমতা লেখেন, 'এসআইআর’ বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও ফের একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগ করেছেন, “বিজেপি এজেন্টরা সুকৌশলে কয়েক হাজার ‘ফর্ম ৬’ জমা দিচ্ছে। আমাদের কাছে খবর আছে, যাঁরা বাংলার স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন বহু মানুষের নাম তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে।” বিহার, হরিয়ানা বা মহারাষ্ট্রের মতো বাংলাতেও একই ছক কষা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে কোনও আবেদন গ্রহণ করা উচিত নয়। কিন্তু কমিশন ‘২৭ মার্চ’ একটি মেমো জারি করে ফর্ম ৬ ও ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে শেষ দিন পর্যন্ত নতুন নাম সংযোজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন বিধি ১৯৬০ এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরোধী বলে অভিযোগ। এছাড়া এটি প্রকারান্তরে বিজেপি প্রার্থী ও বহিরাগতদের সুবিধা করে দেবে। মমতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশন কাজ করলেও, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী হওয়া উচিত নয়।
চিঠির শেষে কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অনুরোধের শুরুতে মমতা লেখেন, অবিলম্বে এই ‘বেআইনি’ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা উচিত এবং বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা উচিত। তাঁর দাবি, কমিশনের নিরপেক্ষ থেকে জনমানসে স্বচ্ছতার বার্তা দেওয়া উচিত। এর আগেও একাধিকবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তাতে যে খুব একটা কাজ হয়েছে তা বলা যায় না , এবার তৃণমূল সুপ্রিমোর নতুন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই এখন দেখার। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি প্রসঙ্গে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির।
গেরুয়া শিবির কটাক্ষ করলেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা বার বার স্পষ্ট করেছেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো। বারংবার চিঠি দেওয়া প্রসঙ্গে আগেই জানিয়েছিলেন, চিঠি দেওয়ার অর্থ প্রমাণ রেখে দেওয়া। সেই প্রমাণ রক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে একে বারেই সফল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই কৌশল নির্বাচনে কতটা অক্সিজেন যোগায় এখন সেটাই দেখার।