শূন্যহাতে ফিরতে হল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বাংলায় বিধানসভার ভোট নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই শীর্ষ স্থানীয় আমলা ও পুলিস কর্তাদের অদল-বদল করতে শুরু করে নির্বাচন কমিশন। যা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্সপোস্টে তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, "নির্বাচন কমিশন যেভাবে বেছে বেছে বাংলাকে নিশানা করেছে, তা শুধু নজিরবিহীনই নয়, অত্যন্ত উদ্বেগজনকও। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারসহ ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে অপসারণ করা হয়েছে। এটি নিতান্তই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং চূড়ান্ত পর্যায়ের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ"।
এমতাবস্থায় কলকাতা হাইকোর্টে জনৈক ব্যক্তি জনস্বার্থ মামলা করেন ও সেই মামলায় আইনজীবী হয়ে সওয়াল করেন তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, মামলাটি নামে-মাত্র জনৈক ব্যক্তির, প্রকৃতপক্ষে তা তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবীরই মামলা। সপ্তাহখানেক আগে এই মামলা দায়ের করা হয়। এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল প্রধান ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে এবং পত্রপাঠ তা খারিজ করে দেওয়া হয়। এবং কল্যাণের পরিস্থিতি দাঁড়ায়, 'শূন্যহাতে ফিরি, হে নাথ'। প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টই জানিয়ে দেয়, কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত। শুধু তা-ই নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সঠিক ও বৈধ।
ধাপে-ধাপে রদবদল
রাজ্যে ভোট ঘোষণার অব্যবহিত পরেই নজিরবিহীনভাবে মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেয় কমিশন। সেই সঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্রসচিবকেও। এরপর দফায়-দফায় পুলিস কর্তা ও আমলাদের সরানো হয়। যাঁদের মধ্যে ১১ জন জেলা শাসক রয়েছেন।
এই ঘটনায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্সপোস্ট করে লেখেন, যেভাবে শীর্ষস্থানীয় ৫০ জন আধিকারিককে অপসারিত করেছে নির্বাচন কমিশন, তা আদতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং চূ়ড়ান্ত পর্যায়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। এবং, ফের একবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পত্রাঘাত করেন তিনি। এমতাবস্থায়, ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম দুই শরিক, আপ-এর অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও ন্যাশানাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লাহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ান।
বিডিও বদল
এর পরের ধাপে, ১৭ টি জেলার ৮৩ জন বিডিও-কে বদলি করে কমিশন।
আইসি বদল
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী থেকে শুরু করে বিরোধীদের অনেকেই এতদিন দাবি করে আসছিলেন, "এসপি নন, ভোট করান আইসি-রা"। তাই থানাস্তরে বদল না-হলে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট কখনওই সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, বিরোধীদের অভিযোগ সিলমোহর দিয়ে থানাস্তরে ১৪২ জন আধিকারিককে বদল করল কমিশন। এখনও অবধি তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, মোটের ওপর তাঁরা সবাই ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। যাঁরা বিভিন্ন থানার ওসি বা আইসি পদের দায়িত্ব রয়েছেন। শুধু তা-ই নয়। পর্যবেক্ষকদের কাছে যা আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে, এই বদলের তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদরে মধ্যে অনেকেই সিআইডি বা আইবি-তে কোনও-না-কোনও দায়িত্বে রয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত পুলিস কর্তাদের কেউ কেউ বলছেন, ভোটের আগে পাবলিক-পালস বুঝতে গোয়েন্দাগিরির করে সরকারকে রিপোর্ট দেন আইবি ও সিআইডি-র আধিকারিকরাই।
কলকাতা পুলিসের ওসি বদল
কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলা পুলিস ও পুলিস জেলায় এই রদবদল হয়েছে। এই বদলের তালিকায় রয়েছেন কলকাতা পুলিসের ইনস্পেক্টর পদমার্যাদার ৩১ জন। যাঁরা কলকাতার বিভিন্ন থানার ওসি বা 'বড়বাবু'।