এবার তৃণমূলের পাল্টা ভিডিয়ো। এবং, সেই ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন ও ঋজু দত্তের দাবি, "ফলতা বিধানসভা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিস অবজার্ভার এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ...
এবার তৃণমূলের পাল্টা ভিডিয়ো। এবং, সেই ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন ও ঋজু দত্তের দাবি, "ফলতা বিধানসভা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিস অবজার্ভার এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হানা দেয়। রাতে যখন বাড়িতে কোনও পুরুষ নেই, যখন মহিলারা বাচ্চাদের নিয়ে রাতে শুতে যাচ্ছেন বাড়ির পোশাকে, সেখানে জোর করে রেড করার নামে অত্যাচার চালাল। মহিলাদের উপর বর্বরোচিত অত্যাচার আমরা দেখলাম। "
কী দেখা যাচ্ছে ওই ফুটেজে?
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি বাড়ির বাইরে এক নীলবাতি দেওয়া গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাড়ির আশপাশে পুলিস, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। বাড়ির ভিতর উঠোনে দেখা যাচ্ছে এক মহিলাকে। লোহার দরজার ওপারে এক পুলিস কর্মী বা আধিকারিকের মুখটুকু শুধু দেখা যাচ্ছে। কিছু কথোপকথন চলছে। দু-পক্ষের মধ্যে কোনও পক্ষই গলা চড়াচ্ছে না। এরপর লোহার দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে। একজন মহিলা পুলিস আধিকারিক বাড়ির ভিতর প্রবেশ করছেন। তাঁর সঙ্গে কোনও পুলিস কর্মীকে দেখা যাচ্ছে না। তিনি একাই খানিক এদিক-ওদিক চেয়ে দেখে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
'মহিলাদের উপর বর্বরোচিত অত্যাচার'?
নাহ্। তৃণমূল প্রকাশিত ফুটেজে তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মহিলাদের গায়ে হাত দেওয়া তো দূর অস্ত, মৌখিকভাবেও কোনও হুমকি শোনা যাচ্ছে না। এবং, একজন মহিলা পুলিস আধিকারিক ছাড়া আর কারুকে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে না বাড়ির ভিতরে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিস বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকছে।
তাহলে?
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকা এই অলীক কুনাট্যের যথার্থ শিরোনাম হতে পারে: ভিডিয়োর পাল্টা ভিডিয়ো।
রবিবার সকালে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল স্বর-গরম হয়ে ওঠে একটি ভিডিয়ো ফুটেজকে কেন্দ্র করে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত একটি জায়গায় রাত ৯টা ৫০ নাগাদের ওই ভিডিয়োতে দেখা যায়, কোনও এক নির্জন পাড়া দিয়ে 'বাইক-বাহিনী' হুমকি দিতে-দিতে চলে যাচ্ছে, "ভয়ঙ্কর খেলব ৪ তারিখ"। প্রসঙ্গত, ৪ মে ভোটের ফল গণনা। তাই হুমকির উদ্দেশ্য খুব স্পষ্ট বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। দ্বিতীয় দফায় ভোট দিতে গেলে অথবা 'তাদের'কে ভোট না-দিলে ফল ঘোষণার পর ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে! বাইক বাহিনীকে আরও বলতে শোনা যায়, "খেলা হবে খেলা হবে। জয় বাংলা, জয় বাংলা"।
দিনভর ওই ভিডিয়ো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলে। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস একটি সাংবাদিক বৈঠক করে। ওই বৈঠক থেকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেন, "ওই ভিডিয়োতে কোথাও কোনও হুমকি দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই দলের কর্মসূচি থেকে ফিরছিলেন সেখানকার কর্মীরা। ওই ভিডিয়োতে কোথায় ভয় দেখানো হয়েছে? জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়েছে। জয় বাংলায় ভয় কী? যারা বাংলা বিরোধী, তারা জয় বাংলা শুনলে ভয় পায়। কমিশন তো বিজেপির হয়ে প্রচারে নামছে। সংবাদমাধ্যমের উচিত ছিল, ওই ভিডিয়ো দেখানোর আগে তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া নেওয়া। ভিডিয়ো দেখানো যেতেই পারে। কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু, ওই ভিডিয়ো নিয়ে আমাদের বক্তব্য কী, তা কেউ জানতে চাইল না। দুঃখজনক।"