Updated on : 9 April 2026 | 01:13:40 pm
Updated on : 9 April 2026 | 01:13:40 pm
বিস্ফোরক ভিডিয়ো প্রকাশ্যে!
তাহলে কি আমজনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করে শুধু তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোই লক্ষ্য নয় হুমায়ুন কবীরের? প্রকাশ্যে বিজেপি-র বিরোধিতা অথচ তলে-তলে বিজেপির বি-টিম হিসেবে কাজ করাই এক ও একমাত্র উদ্দেশ্য তাঁর? যে গোপন ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি সিএন ডিজিটাল) প্রকাশ্যে এনেছে তৃণমূল, সেখানে হুমায়ুন কবীরকে বলতে শোনা যাচ্ছে : ১০০০ কোটির টাকার কথা হয়েছে, বিজেপি জিতলে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হবে তাঁকে। শুধু তা-ই নয়। বিজেপি যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এবং সে ক্ষেত্রে তাঁর দল যত আসন পাবে তা সরকার গড়তে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে।
ওই ভিডিয়োর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন যিনি (যাঁকে দেখা যাচ্ছে না) তিনি প্রশ্ন করেন, মুসলিমদের বোকা বানাতে হবে? উত্তরে হুমায়ুনকে ইতিবাচক ভাবে মাথা নাড়তে দেখা যায়, এমনকি হাসতে-হাসতে বলতে শোনা যায়: হ্যাঁ।
ভিডিয়োটি 'পেশ' করে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল।
ভিডিয়োতে কথোপকথন
হুমায়ুন---আজকের দিনে যে ইস্যু তুলেছি, বাবরি মসজিদ, তা হবে কি না-হবে তা পরে দেখা যাবে, গোটা ভারতের মুসলিম আমাদের সঙ্গে।
প্রশ্নকর্তা--- শুধু মুর্শিদাবাদের মুসলিমরা আপনার সঙ্গে নাকি গোটা বাংলার...
হুমায়ুন--- গোটা রাজ্যের মুসলিমদের সমর্থন পাচ্ছি। দেখুন না, ৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার, কাউকে আহ্বান করা হয়নি, তবু ২ লক্ষ মানুষ জুম্মার নামাজ পড়তে চলে এলেন। তাঁদের বাড়িতে মার্বেল দিয়ে তৈর মসজিদ আছে, তবুও...মানুষ এত আবেগপ্রবণ হবে তা আশা করতে পারিনি। পাশের রাজ্য থেকেও লোক আসছে। ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম, ত্রিপুরা। সব রাজ্য থেকেই কেউ-না কেউ। ২ লক্ষ মানুষ নামাজ পড়তে এসেছেন। মসজিতের নির্মাণের কাজই শুরু হয়নি, তবু, এত আবেগপ্রবণ যে নামাজ পড়তে চলে এসেছেন।
প্রশ্নকর্তা--- ধরুন ভাজপা...
হুমায়ুন--- আমি যত মুসলিমদের ভোট টানবো, তত বেশি করে ভাজপা হিন্দুদের ভোট পাবে।
প্রশ্নকর্তা--- কিন্তু কী করে যাবে
হুমায়ুন--- হিন্দুদের মধ্যে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভরসা করেন, তাঁরা ভালো করেই জানেন যে, ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ মুসলিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সমর্থন করেন। এবার যদি মুসলিম ভোট সেখান থেকে সরে আসে, তখন হিন্দুরা বুঝে যাবে মমতাকে ভোট দিয়ে লাভ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসবেন না। তাই তাঁদের কাছে তখন একটাই উপায়, বিজেপিকে ভোট দেওয়া। আমি সোজাসুজি একটাই কথা বলবো, আমার দলকে ভোট দাও, যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হোন-না কেন, নির্ণায়ক ভূমিকা নেওয়ার ক্ষমতা আমার হাতে আসবে। হিন্দুদের মধ্যেই কেউ মুখ্যমন্ত্রী হোন, আমার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার টার্গেট নেই। আমার কাছে ৮০-৯০ টা আসন থাকলে যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হোন, তাঁকে সমর্থন করার ক্ষমতা থাকবে আমার।
প্রশ্নকর্তা--- তাহলে ভাজপা থেকে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলেও আপনি সাপোর্ট দেবেন?
হুমায়ুন--- পুরো সাপোর্ট দেবো। কোনওভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসতে দেবো না।
প্রশ্নকর্তা--- ধরুন এমন হল, আপনার কাছে ৫০-৬০ টা আসন রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি ও তৃণমূল প্রায় সমান-সমান আসন পেয়েছে, তখন আপনি তৃণমূলকে সমর্থন করবেন নাকি...
হুমায়ুন--- উনি (তৃণমূল নেত্রী) আমার সাপোর্ট চাইবেন। কিন্তু আমি বিজেপিকে সাপোর্ট দেবো। পরে যা হওয়ার তা হবে, কিন্তু প্রথমে বিজেপির বিরুদ্ধেই কথা বলবো...
প্রশ্নকর্তা--- আপনি বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলবেন (প্রচারে)?
হুমায়ুন--- হ্যাঁ বলবো, না-হলে আমার কাছে ভোট আসবে কী করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ভোট দেবে (মুসলিম সম্প্রদায়)। আমি যতটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বলবো, ততটাই বিজেপির বিরুদ্ধে বলবো। বিরোধী দলনেতার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।
প্রশ্নকর্তা--- শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে?
হুমায়ুন--- হ্যাঁ। শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, আপনি দিল্লি যান, ২২ তারিখের পর আমিও যাবো, আপনার সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলাপ করিয়ে দেবো। তারপর আমার সঙ্গে সরাসরি কথা হয় মোহন যাদবের সঙ্গে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। উনি বললেন, পিএমও অফিস (প্রধানমন্ত্রীর দফতর) সঙ্গে কথা হয়েছে, আপনার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে বলা হয়েছে আমাকে।
প্রশ্নকর্তা--- তাই! আমরা ভেবেছিলাম অসমের মুখ্যমন্ত্রী আপনার সঙ্গে আছেন।
হুমায়ুন--- অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই প্রথমে, কিন্তু তারপর পিএমও অফিস মোহন যাদবকে বলে আমার সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে। দুজনেই আমার সঙ্গে কথা বলেন। দেখুন, বিজেপি ১০০ থেকে ১১০ বা ১২০ টা আসন পর্যন্ত পেতে পারে, কিন্তু ১৪৮ (ম্যাজিক ফিগার) পাবে না। যতবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা হয়েছে, ততবার আমি তাঁকে এই কথাই বলেছি। উনি বলেছেন, ঠিক আছে, মোহন যাদবের সঙ্গে কথা হয়েছে, ৭০ বা ৮০ যতগুলো আসন আপনি পাবেন, আপনাকে উপ মুখ্যমন্ত্রী করা হবে।
প্রশ্নকর্তা--- উপমুখ্যমন্ত্রী!
হুমায়ুন--- হ্যাঁ।
প্রশ্নকর্তা--- দারুণ ব্যাপার তো! আমরা তো এটাই চাই। আমার একটাই কথা বলার আছে, যত মুসলিম রয়েছেন (রাজ্যে) তাঁদের তো গুমরাহ বানাতে হবে
হুমায়ুন--- হ্যাঁ।
প্রশ্নকর্তা--- ওঁদের বেওকুফ বানাতেও হবে
হুমায়ুন--- হ্যাঁ।
প্রশ্নকর্তা--- আপনি যদি ওঁদের বেওকুফ না-বানান, তাহলে ওঁরা ওঁদের কাছে (তৃণমূলের কাছে) চলে যাবেন।
হুমায়ুন--- হ্যাঁ।
প্রশ্নকর্তা--- এটা করতে আপনার পলিসি কী?
হুমায়ুন--- পলিসি একটাই, আমি বলেছি, শুভেন্দুকে বলেছি, আমার টাকা দরকার। মুসলিমদের এককাট্টা করতে, ভোট পেতে। এক-একটা আসনে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা লাগবে। তৃণমূল বেশি টাকা দেয় না। আজকের দিনে, নতুন-নতুন মুসলিম প্রার্থীদের দাঁড় করাবো। তাঁরা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির হবেন। আমার টাকার দরকার।
প্রশ্নকর্তা--- এই পুরো কাজটার জন্য কত টাকা দরকার আপনার?
হুমায়ুন--- ১ হাজার কোটি দরকার।
প্রশ্নকর্তা--- এই সবকিছু কী করে করবেন, প্ল্যান কী? মুসলিম ভোট কী করে ভাঙাবেন?
হুমায়ুন--- গ্রামেগঞ্জে আমার লোক আছে। আমি এতদিন ধরে ভোটে লড়ছি। আমার বিরুদ্ধে প্রার্থী যিনি, তিনি এত টাকা খরচ করতে পারবেন না। গ্রামের লোকেদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে না। কিন্তু তৃণমূল স্তরে আমার এত লোকজন আছে, তারা সবাই ঘরে-ঘরে গিয়ে টাকা দিয়ে আসবে। টাকা পেয়ে কেউ বেইমানি করবে না।
প্রশ্নকর্তা--- তার মানে টাকা আপনার কাছে এলে, মুসলিম ভোট আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে?
হুমায়ুন--- দেখুন ১হাজার কোটি যে চেয়েছি, প্রথমেই তার থেকে ৩০০ কোটি সরিয়ে রাখবো। বিহারে নীতীশ কুমার যা করেছিলেন। মাসে ১ হাজার করে হলে বছরে ১২ হাজার টাকা হয়, বিহারে প্রত্যেকটা পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। এইভাবেই তো সব ভোট আপনার কাছে চলে আসবে।
প্রশ্নকর্তা--- তাহলে এভাবেই মুসলিমদের বেওকুফ বানাবেন। কিন্তু তারা বেওকুফ বনবে কি?
হুমায়ুন--- নিশ্চয়ই বনবে।
প্রশ্নকর্তা--- আপনিতো পালস ভালো বোঝেন।
হুমায়ুন--- আমি বেশি কথা বলবো না। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে শুধু এটুকু বলবো, আপনি যদি ১ হাজার কোটি টাকা দেন, তাহলে আপনার পুরো ফায়দা হবে। আমি এগ্রিমেন্টে লিখে দিতে রাজি আছি। আমার ৭০-৮০ টা আসন থাকবেই। আপনারাও (বিজেপি) ১০০ থেকে ১২০ টি আসনে পৌঁছে যাবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০-র নিচে আসন পাবেন। তখন আমি মুসলিমদের বোঝাবো, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার রয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩ বারের শাসনে মুসলিমদের জন্য কোনও উন্নয়ন করেননি, ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টিও চলে গেছে, আপনাদের পাওনা টাকাও আপনারা পাননি। আমার ওপর মুসলিমদের পুরো ভরসা আছে।
প্রশ্নকর্তা--- তৃণমূলস্তরের মুসলিমরা আপনার সঙ্গে আছেন ঠিকই। কিন্তু তাঁরা যদি বলেন, বাবরি মসজিদ ভেঙেছিল বিজেপি, ওদের কী করে সমর্থন করবো আমরা?
হুমায়ুন---আরে আমি তো প্রথম থেকেই এটা বলছি, আজকের দিনে তৃণমূল ১৫০-র বেশি আসন পেলেও বাবরি মসজিদ বানাবে না। এইজন্যই আমি বলেছি, ২৯৪-এর মধ্যে আমাকে ১০০ টা আসনে জেতাও, ৯৪ টা আসন যাক তৃণমূলের ঘরে, তাহলে যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হোন-না কেন, আমি নির্ণায়ক ভূমিকা নেবো। সরকার তৈরিতে আমার ভাগ থাকবে।
প্রশ্নকর্তা--- তারমানে আপনি যদি ৭০-৮০ টা আসন পেয়ে যান...
হুমায়ুন--- যে-ই মুখ্যমন্ত্রী হোন বিজেপি থেকে, আমার সাপোর্ট তো নিতেই হবে।
প্রশ্নকর্তা--- ধরুন তৃণমূল আর বিজেপি সমান-সমান আসন পেল, তাহলে আপনি যদি তৃণমূলের দিকে চলে যান তখন?
হুমায়ুন--- কোথাও যাবো না। দেখুন আপনাকে যদি সাপোর্ট দিতে অসুবিধা হতো, তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতাম না। আমার বয়স ৬২ বছর, এটুকু সত্যি বলবো। আমি ইমানদার আদমি। আমি টাকা নিয়ে কোনও দুর্নীতিতে জড়াইনি কখনও।
প্রশ্নকর্তা--- তাহলে দাদা, আমরা একটা সিদ্ধান্তে চলে আসি তাহলে, আমরা কনফিডেন্সের সঙ্গে (উপরমহলকে) জানিয়ে দিচ্ছি, আপনার ধনরাশি দরকার। যদি আপনি এই টাকাটা পেয়ে যান, তাহলে কমকরে ৫০-৬০ টা আসনে জিতবেন আপনি।
হুমায়ুন--- আপনাকে যে টাকাটা দিতে বলছি, তা একলপ্তে নয়, আপনি ভাগ-ভাগ করে দিতে পারেন। এই বাবরি মসজিদের শিলান্যাস, তখন আমাকে কেউ টাকা দেয়নি, আমি নিজের থেকেই ৮২-৮৪ লক্ষ টাকা খরচ করেছিলাম। আমার ব্যবসা থেকে এই টাকাটা খরচ করেছিলাম। এখন ৬-৭ কোটি টাকা এসে গেছে। অনেকে টাকা দিয়েছেন।
প্রশ্নকর্তা--- আমরা ভিডিয়োতে দেখেছিলাম।
হুমায়ুন--- যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ২০০ কোটি টাকা আমাকে দিয়ে দেন, দিল্লির কোনও নেতাকে কনফিডেন্স দিতে হলে সেটাও করিয়ে দিন, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার ফেস-টাইমে কথা হয়। আপনি জিজ্ঞেস করে নেবেন, তাহলে জেনে যাবেন।
প্রশ্নকর্তা--- আপনি টাকাটা শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে পেতে চান নাকি ডায়রেক্ট পেতে চান?
হুমায়ুন--- না না, ডায়রেক্ট চাই। শুভেন্দু অধিকারী আমাকে দিল্লি নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন, বাংলার ইলেকশন হেডের সঙ্গেও কথা বলিয়ে দেবেন। মোহন যাদব আমাকে জানিয়েছিলেন, তিনি ডায়রেক্ট কথা বলেছিলেন, পিএমও-র সঙ্গে ডায়রেক্ট যোগাযোগ রেখে চলছেন তিনি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও জানেন। পিএমও থেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছিল।
প্রশ্নকর্তা--- তাহলে আপনি একটা কাজ করুন, যখন টাকা নিয়ে কাউর সঙ্গে কথা হবে তখন এই অ্যামাউন্টটাই বলবেন। নাহলে...
হুমায়ুন--- হ্যাঁ, অ্যামাউন্ট এদিক-ওদিক হলে খারাপ দেখাবে।
প্রশ্নকর্তা--- আমরা এই অ্যামাউন্টটাই রাখছি আমাদের প্রোপোজালে। এখানে যে-যে আসন রয়েছে, প্রতিটাতেই তো মুসলিম ভোটারই মেজরিটি নয়। কোথাও ১০ শতাংশ, কোথাও ২০ শতাংশ, কোথাও ৮০ শতাংশ।
হুমায়ুন--- সেই সুবিধাও আপনারা পাবেন। যেখানে ২০ শতাংশ মুসলিম ভোটার, সেখানে আমি প্রার্থী দেবো না। ওই আসনেও দেখবেন, মুসলিম ভোট কংগ্রেস, সিপিএম পাবে। তাহলে আপনাদেরই তো সুবিধা।
প্রশ্নকর্তা--- তাহলে আপনি আমাদের সমর্থন করবেন তো?
হুমায়ুন--- হ্যাঁ। তবে ভোটের সময়ে এই কথা যেন বাইরে না-আসে কোনওভাবে।
প্রশ্নকর্তা--- মানে আপনার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক আছে,
হুমায়ুন--- হ্যাঁ, এটা জানাজানি হয়ে গেলে মুসলিম ভোট পাবো না।
প্রশ্নকর্তা--- তাহলে ভোট পর্যন্ত আপনি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ভেতরে-ভেতরে রাখবেন আর বাইরে গালি দেবেন।
হুমায়ুন--- হ্যাঁ, গালি দেবো। বলেই রেখেছি। উনিও আমার বিরুদ্ধে বলবেন। উনি বলবেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী হলে বাংলায় বাবরি মসজিদ হতে দেবো না।
প্রশ্নকর্তা--- মুসলিম মানুষজন বেসিক্যালি খুব ইনোসেন্ট হোতা হ্যায়। উসকো বেওকুফ বানানা বহুত আসান ...
হুমায়ুন-- বহুত আসান... ওই জন্যই তো বলছি। আজকের দিনে আমার বিরুদ্ধে ১০০ জন মুসলিমকে কিছু বললে, ৮০ জনই আপনাকে মারবে। যাচাই করে দেখে নিন।
প্রশ্নকর্তা--- আপনি মুসলিমদের ইমোশনটা ধরে ফেলেছেন। বাবরি মসজিদের পুরো আবেগটাই ধরে ফেলেছেন।
হুমায়ুন--- হ্যাঁ, ধরে ফেলেছি। তাই তো জেনেবুঝেই অন্য নাম দিইনি, কেউ বলেছিল হুমায়ুনের নামে করো, বা অন্য নামে, কিন্তু আমি অন্য নামে করিনি। বাবরি মসজিদ নামটাই রেখেছি, নইলে ওই আবেগ থাকতো না। বাবরকে নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই।
প্রশ্নকর্তা--- আচ্ছা দাদা, ধরুন বাবরি মসজিদ নির্মাণ শেষ হলো না, তাহলে আগামী দিনে কী হবে?
হুমায়ুন--- দেখুন, ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু করবো। সবটা তো একসঙ্গে করবো না। ফেব্রুয়ারি থেকে শুধু বাবরি মসজিদের কাজ শুরু করবো। ৫ শতাংশ কাজ হবে মাত্র, তারপরই ভোট এসে যাবে। ভোট শেষ হলে আবার কাজ শুরু হবে। তখন সরকার আটকাতে পারে, আমি বলবো, সরকারের ব্যাপার, আমাকে করতে দিচ্ছে না। কেউ কোর্টে কেস করে যদি আটকে দেয়, তাহলে কাজ বন্ধ থাকবে। আমার ওপর ক্ষুব্ধ হবে না কেউ। বলবে, লোকটা চেষ্টা তো করেছিল।
প্রশ্নকর্তা--- মানে ৫ শতাংশ কাজ হওয়ার পর ভোট, তারপর কেউ কেস করে দিলে কাজ বন্ধ। আপনি ভালো পলিটিশিয়ান দেখছি।
হুমায়ুন--- (হাসতে-হাসতে) এটা তো আমার ইলেকশনের ফায়দা। আমার মাথা এভাবেই কাজ করে।