'গোপন কথাটি রবে না গোপনে'?
এদিন সকালে যে-ভিডিয়োটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল, সেখানে তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল তিনি উপ মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কীভাবে? সহজ পাটিগণিতের হিসেব কষে তা বুঝিয়েও দিয়েছিলেন। বেলা বাড়তেই বিতর্ক বাড়ে। ওই ভিডিয়ো এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি, "১ হাজার কোটি তো পরের কথা, আমার সঙ্গে ১ কোটি টাকাও লেনদেন হয়েছে প্রমাণ করতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আর না-পারলে মমতা, অভিষেক, কুণাল, ববি-র বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো"।
'তিনি' হুমায়ুন কবীর। গত দু-বছর ধরে রাজ্যের অন্যতম চর্চিত ও বিতর্কিত রাজনীতিক। কখনও হিন্দুদের ভাগীরথীর জলে ফেলে দেওয়ার হুমকি শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে, আবার কখনও-বা নিজে নতুন দল গড়ে ওই মন্তব্যের দায় তৃণমূল সুপ্রিমোর উপর চাপিয়ে হিন্দুদের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা গেছে তাঁকে। সবচেয়ে বড় কথা, ১৯৯২ সালে উত্তরপ্রদেশে যে-বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছিল, সাড়ে তিন দশক পর মুর্শিদাবাদে সেই বাবরির শিলান্যাস করে ইতিহাস-ভূগোল সব মিলিয়ে মিশিয়ে একাকার করে দিয়েছেন তিনি।
'পাপ! পাপ! পাপ!'
"ধর্মের আবেগকে বিক্রি করছে এই কুলাঙ্গারটা, এ অন্যায়, পাপ-পাপ-পাপ, নিজের ধর্মকেও বিক্রি করে দেবো, ছিঃ!", সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুনের প্রতি ঘৃণা উগরে দিলেন ফিরহাদ হাকিম। প্রসঙ্গত, গোপন ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি সিএন ডিজিটাল)-র সারমর্ম: মুসলিমদের বেওকুফ বানিয়ে বিজেপির সঙ্গে ১ হাজার কোটির ডিল করছেন হুমায়ুন কবীর।
'উপ' নয়, পুরো মুখ্যমন্ত্রী?
ওই 'গোপন' ভিডিয়ো এআই নির্মিত বলে হুমায়ুন দাবি করেছেন তিনি ঠিকই। তবে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের গোপন বাসনা আর গোপন রাখতে পারেননি তিনি।
'মুখ্যমন্ত্রী' হুমায়ুন কবীর?
"২৯৪ টি আসনের মধ্যে আমি যদি (আমজনতা উন্নয়ন পার্টি) ১১০ টি আসন পাই, বিজেপি যদি ১০০ পায়, তাহলে বাকি থাকল কত? ৮৪ টি আসন। তৃণমূল, কংগ্রেস, আইএসএফ, সিপিএম এর মধ্যে যত আসনই পাক, সংখ্যার বিচারে আমি সবার থেকে এগিয়ে থাকছি। তাই, আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ডিমান্ড করবো। কে আমাকে সমর্থন করবে, ১৪৮ (ম্যাজিক ফিগার) পৌঁছতে কোন সংখ্যা দরকার হবে, চৌঠা মে ফল ঘোষণা হলে তখন তা বোঝা যাবে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, মে মাসের ৭ তারিখে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মেয়াদ শেষ হবে। তখন কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা মানুষ বলবে"।
প্রসঙ্গত, গোপন ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি সিএন ডিজিটাল)-তে হুমায়ুনকে বলতে শোনা গিয়েছিল, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হলে তিনি উপ মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এবং, তাঁর সঙ্গে তলে-তলে শুভেন্দুর যোগাযোগ রয়েছে। দুজনে মিলে নাকি এমন সিদ্ধান্তও নিয়েছেন যে, প্রকাশ্যে একে অপরের মুণ্ডুপাত করবেন। যদিও ওই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে হুমায়ুন কবীরের প্রশ্ন, "শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কেন যোগাযোগ রাখবো"?