এদিন কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ আরজিকর কাণ্ডে নতুন করে আশার আলো দেখাল। হাইকোর্ট জানাল, সিবিআই ফের প্রথম থেকে মামলার তদন্ত শুরু করতে পারবে। এবং, কোনও দ্বিধা ন...
এদিন কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ আরজিকর কাণ্ডে নতুন করে আশার আলো দেখাল। হাইকোর্ট জানাল, সিবিআই ফের প্রথম থেকে মামলার তদন্ত শুরু করতে পারবে। এবং, কোনও দ্বিধা না-করে সাজাপ্রাপ্ত ও সন্দেহভাজনদের ফের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। এমতাবস্থায় প্রশ্ন একটাই, সিবিআই চাইলে পারবে ঠিকই, কিন্তু চাইবে কি?
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নতুন করে তদন্ত হলে তা এবার হাইকোর্টের নজরদারিতে হবে। সে ক্ষেত্রে গা-ছাড়া মনোভাব দেখাতে পারবে না তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক। যেমনটা দেখিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে।
২০২৪-এর ৯ অগস্ট আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পড়ুয়া-চিকিৎসকের খুন-ধর্ষণের ঘটনায় গোটা রাজ্য তথা গোটা দেশে তোলপাড় পড়ে যায়। এমনকি, দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ে। কলকাতা-সহ বাংলায় লাখো-লাখো মানুষ ন্যায়বিচারের দাবিতে 'রাতদখল' করে। হাইকোর্ট এই ঘটনায় তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে দেয়। সিবিআই তদন্ত শুরুও করে। এমতাবস্থায়, সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় আরজিকর নিয়ে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেন। এবং, পুরো মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে হয়। শেষ অবধি, সঞ্জয় রায় নামে জনৈক সিভিক ভলান্টিয়ার ছাড়া আর কারুকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। শিয়ালদহ আদালতের বিচারক মামলার দীর্ঘ রায়ের এক জায়গায় লেখেন, কলকাতা পুলিস যেটুকু যা তদন্ত করার তা করেছিল, তারপর আর তদন্তই হয়নি (No Further Investigation)!
সিবিআই তদন্ত নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন নির্যাতিতার মা-বাবা। ওই সময়ে প্রতিবাদী ডাক্তার থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশই প্রশ্ন তোলেন, নেপথ্যে কেন্দ্র-রাজ্যের সেটিং নেই তো?
সময় বইতেই থাকে। এবং, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি থেকে বিজেপির প্রতীকে প্রার্থী হন নির্যাতিতার মা। প্রতিবাদী ডাক্তার থেকে শুরু করে বামেদের টার্গেট করে নির্যাতিতার বাবা প্রশ্ন তোলেন, ওঁরা তদন্তের জন্য কী করেছেন? তাঁর এই মন্তব্যে বিস্মিত হয় নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশ। পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দেন, তদন্ত করার কথা ছিল যাদের, সেই সিবিআই কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধীন।
আরজিকর মামলা কেঁচেগণ্ডুষ করলে অনেক প্রভাবশালীর নামই উঠে আসতে পারে এবং সেই কারণে ফের নতুন করে তদন্ত হলেও সেটিং-তত্ত্ব কাজ করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাছাড়া, ওই মামলার তদন্ত কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। কথা ছিল, সঞ্জয় রায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে আরও অনেক প্রভাবশালীর নাম থাকবে। কিন্তু সে পথে হাঁটেনি সিবিআই।
এবার কি সেই পথে হাঁটবে সিবিআই? ভোটের মুখে কি খেলা ঘুরবে?