পরিযায়ী-মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি নয়। পুণেতে খুন হওয়া পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।পুরুলি...
পরিযায়ী-মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি নয়। পুণেতে খুন হওয়া পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুরুলিয়া থেকে বিজেপি সাংসদকে বার্তা
পুরুলিয়ার বরাবাজারের সুখেন মাহাতো পুণেতে খুন হয়েছেন। ৩১ বছরের সুখেন পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন মহারাষ্ট্রে। সোমবার দুপুরে কাজে বেরিয়ে আর ফেরেননি তিনি। খোঁজখবর শুরু হয়। তারপর তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। রীতিমতো কুপিয়ে খুন করা হয় তাঁকে। বৃহস্পতিবার এই খবর পাওয়ার পর শুক্রবার শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পুরুলিয়া যান লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং সেখান থেকে পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোর উদ্দেশে বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলার প্রাপ্য টাকা বন্ধের জন্য যাঁরা দরবার করেন, তাঁরা অন্তত মহারাষ্ট্রের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে একবার ফোন করে বলবেন, সুখেন মাহাতোর খুনের তদন্ত যেন দ্রুত হয়। ওই ঘটনায় যারা যুক্ত, তাদের যেন গ্রেফতার করেই জামিন দেওয়া না-হয়।
বাংলায় কর্মসংস্থান নেই, তাই পরিযায়ী?
গত বছরের মাঝামাঝি থেকে বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার খবর আসতে শুরু করে। এবং শুধু বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে সেখানকার পুলিস প্রশাসন। বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সুনালি খাতুনকে দিল্লীর রোহিনী থেকে আটক করে, অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। সুনালি যেহেতু ভারতীয়, তাই বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার করে জেলে পুরে দেয় সুনালিকে। তারপর হাইকোর্ট থেকে সু্প্রিম কোর্ট অনেক লড়াইয়ের পর কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সুনালিকে ফিরিয়ে আনার বন্দোবস্ত করে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সুনালীর ভাগ্য ভালো যে তাঁকে গণপিটুনির শিকার হতে হয়নি বিজেপি-শাসিত রাজ্যে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল মুর্শিদাবাদের জুয়েল শেখকে। এমতাবস্থায়, বাংলার পরিযায়ী-নিগ্রহ নিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া বিজেপি হাতিয়ার করে কর্মসংস্থানকে। রাজ্যে কাজের সুযোগ নেই বলেই এতজন ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে বলে পাল্টা ভাষ্য তৈরি করে গেরুয়া শিবির। এদিন পুরুলিয়া থেকে সেই ভাষ্যকেই চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, "গত ১৪ বছরে দেশ ছেড়েছেন সাড়ে ৩ কোটি মানুষ। বাংলায় কর্মসংস্থান নেই বলেই বাইরে যেতে হচ্ছে, বিজেপির এই যুক্তিতেই প্রশ্ন তোলা যায়, কেন ১৪ বছরে সাড়ে ৩ কোটি মানুষ দেশ ছেড়ে ভিনদেশে গিয়েছেন রুজি-রুটির সংস্থান করতে"?
মোদী জামানায় 'ভারত ছাড়ো'?
পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর জামানায় রীতিমতো 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলন শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন মেহুল চোকসি, বিজয় মাল্যেরা বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারি করে বিদেশে গিয়ে বসে রয়েছেন, অন্যদিকে শিক্ষিত যুবক-যুবতীরাও দেশ ছাড়ছেন ক্রমাগত। এমনকি, কোটিপতিরাও (যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ নেই) ব্যবসায়ীরাও এ দেশ ছেড়ে ভিনদেশে বসত করতে শুরু করছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পরিযায়ী-প্রশ্নে বাংলার কর্মসংস্থানকে যেভাবে ঢাল হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে বিজেপি, এদিন সেই ঢাল অতিক্রম করে নিজের তরবারি চালান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।