আবেদন নিবেদনে কাজ না-হওয়ায় অবশেষে নির্বাচন কমিশন সরাসরি ৭ এইআরও-কে সাসপেন্ড করল রবিবার রাতে। প্রসঙ্গত, যে-চারজন আধিকারিকের নামে এফআইআর-এর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন, এই ৭ জনের মধ্যে তাঁরা কিন্তু কেউ ন...
আবেদন নিবেদনে কাজ না-হওয়ায় অবশেষে নির্বাচন কমিশন সরাসরি ৭ এইআরও-কে সাসপেন্ড করল রবিবার রাতে। প্রসঙ্গত, যে-চারজন আধিকারিকের নামে এফআইআর-এর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন, এই ৭ জনের মধ্যে তাঁরা কিন্তু কেউ নেই। যার সহজ সরল অর্থ হল, রাজ্যের উচ্চপদস্থ ১১ জন আধিকারিক জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কোপে পড়লেন।
কেন সাসপেন্ড?
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও কতটা মানতে বাধ্য, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এমনই এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যখন বারংবার নবান্নের শীর্ষমহলে আবেদন নিবেদন করে আসছিল, তখন তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়নি। এদিকে শুনানি-পর্বে রাজ্যজুড়ে চরম নৈরাজ্যের ছবি সামনে এসেছে। রাজ্যের ডিজিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে দেশের শীর্ষ আদালত। তাতেও কাজ হয়নি। এমতাবস্থায় রাজ্যের বিরোধী দল থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশ প্রশ্ন তুলছিল, আইনি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন নির্বাচন কমিশন সরাসরি কঠোর পদক্ষেপ করছে না? জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কি ঢাল তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দার?
এই পরিস্থিতিতে, অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ করতে শুরু করল কমিশন। মনোজ পন্থ মুখ্যসচিব থাকাকালীন যে-চারজন আধিকারিকের নামে এফআইআর করা হয়নি, তাঁদের নামে এফআইআর করতে বর্তমান মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এবং তার বাইরে, রবিবার রাতে ৭ জন এইআরও-কে সরাসরি সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেট?
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, " এই প্রথম কমিশন তার নিজের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করলো। যে-সাতজন এইআরও-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা জেনেশুনেই ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছেন, প্যান কার্ড গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের ১৩ টি নির্দেশিকা অমান্য করেছেন ওঁরা। মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর ইশারাতে। ওঁকে দিয়েই ব়্যাকেট চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। মনোজ পন্থ থেকে শুরু করে নন্দিনী চক্রবর্তী, কমিশন থেকে কোনও নির্দেশ এলে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান আগে। তারপর তাঁর কথা মতো কাজ করেন। অন্যরাজ্যে এমনটা হয় না। এমনকি, লোকসভা নির্বাচনের আগে কমিশনের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীও হস্তক্ষেপ করেন না"।
এক-দেড় কোটি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশির নাম বাদ যাবে বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু এতজন তো বাদ পড়েনি এখনও পর্যন্ত? শুভেন্দুর উত্তর, "বাদ না-গেলে যেখানে যাওয়ার সেখানে যাবো। রাজ্যের সিইও থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন সদন অবধি যাবো। তাতেও যদি কাজ না-হয়, তাহলে আদালতে যাবো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই আদালতে যেতে পারেন, অন্যরা পারেন না"?