ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নামে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা! কোম্পানির আড়ালে চলত অন্য খেলা। কাজের টোপ দিয়ে তরুণীদের এনে বার ডান্স, পর্নোগ্রাফি বানানোর কাজে ব্যবহার করত মা-ছেলে। সোদপুরের তরুণীর উপর অত্য...
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নামে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা! কোম্পানির আড়ালে চলত অন্য খেলা। কাজের টোপ দিয়ে তরুণীদের এনে বার ডান্স, পর্নোগ্রাফি বানানোর কাজে ব্যবহার করত মা-ছেলে। সোদপুরের তরুণীর উপর অত্যাচারের ঘটনা ফাঁস হতেই মা শ্বেতা খান ও ছেলে আরিয়ানের নানা কুকীর্তি সামনে এসেছে। এখনও বেপাত্তা মা-ছেলে। মনে করা হচ্ছে, ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন শ্বেতা।
প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শ্বেতা খান ও আরিয়ান খান বছরে একাধিকবার বিদেশে গিয়েছেন। কেন বারবার ব্যাঙ্ককে যেত সে, কার সঙ্গেই বা যেত তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কাদের সঙ্গে শ্বেতা ব্যাঙ্ককে যেতেন, কেনই বা যেতেন, এই সবটাই জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। ব্যাঙ্ককে যাওয়ার খরচই জোগাড় করত কীভাবে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পানিহাটির নির্যাতিতা। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, নির্যাতিতার গোপনাঙ্গে গভীর ক্ষত রয়েছে। আঘাত রয়েছে মাথাতেও। এখনও তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। পর্নোগ্রাফিকাণ্ডে শ্বেতা খান ও তাঁর ছেলে আরিয়ান খানের একাধিক কার্যকলাপ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় পুলিস।
জানা গিয়েছে, আরিয়ান ও শ্বেতা রিলস বানিয়ে মোটা টাকা আয় করত। সেই রিলস বানিয়েই কাজের টোপ দিত তারা। সোশাল মিডিয়ায় আরিয়ানের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর মা-ছেলের সেই টোপ গিলেই সোদপুরের তরুণী আরিয়ানের ডোমজুড়ের ফ্ল্যাটে যান। কিন্তু সেখানে গিয়েই ভুল ভাঙে তরুণীর। শুরু হয় নির্মম অত্যাচার। দিনের পর দিন তাঁকে আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হয় বলেও অভিযোগ।
জ্বলত সিগারেটের ছ্যঁকা দেওয়া, মাথায় চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে কোনওরকম প্রান হাতে নিয়ে বাড়িতে পালিয়ে আসে সোদপুরের নির্যাতিতা যুবতী। বর্তমানে, ওই তরুণী সাগর দত্ত হাসপাতালে ভর্তি। অবস্থা যথেষ্ট আশঙ্কাজনক। যদিও তরুণীর মা খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরও পুলিস এখনও পর্যন্ত আরিয়ান খানকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
পানিহানির তরুণীর উপর নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হতেই ফ্ল্যাট তালাবন্ধ করে গা ঢাকা দেয় শ্বেতা ও তার ছেলে আরিয়ান। সোমবার সকাল পর্যন্ত তাদের কোনও খোঁজ মেলেনি। হাওড়া সিটি পুলিসের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, ডোমজুড় থানা এফআইআর গ্রহণ করেছে। ২ জনকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করা হবে।