ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা বন্ধ করতে স্থায়ী সমাধান সূত্র দিয়েছিলেন তিনি। পুণেতে নিহত পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতো যখন ফের তপ্ত বাংলার রাজনীতি,তখনও তাঁর মুখে শোনা গেল স্থায়ী ...
ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা বন্ধ করতে স্থায়ী সমাধান সূত্র দিয়েছিলেন তিনি। পুণেতে নিহত পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতো যখন ফের তপ্ত বাংলার রাজনীতি,তখনও তাঁর মুখে শোনা গেল স্থায়ী সমাধানের কথা। তিনি বহরমপুর থেকে পাঁচবার নির্বাচিত কংগ্রেস সাংসদ সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী।
কিছুদিন আগেই ওড়িশার সম্বলপুরে নিহত হয়েছিলেন সুতির পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল শেখ। তাঁর নিথর দেহ মুর্শিদাবাদে আসার পর অধীর চৌধুরী প্রশ্ন তুলেছিলেন, "ঘটনা ঘটবে আর তারপর প্রতিবাদ হবে, ব্যস? পরিযায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধান খোঁজা হচ্ছে না কেন"? কিছুদিনের মধ্যে, ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুতে যখন বেলডাঙা উত্তাল, তখনও অধীর চৌধুরীর মুখে সেই একই কথা: স্থায়ী সমাধান। এবং, পুরুলিয়ার বরাবাজারের সুখেন মাহাতোর মৃত্যুর পর সেই একই কথা শোনা গেল তাঁর মুখে, "সমস্যার সুরাহা খুঁজতে হবে"।
কী সেই সমাধান-সূত্র?
স্থায়ী সমাধানের কথা: ১ ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের ইউনিক আইডেনটিটি কার্ড দিতে হবে। ২ সেই কার্ডে স্পষ্ট লেখা থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গের কোথায় থাকেন এবং কোন থানার অধীনে তাঁর বাড়ি। সেই সঙ্গে স্থানীয় থানা ও জেলা পুলিসের ফোন নম্বর দেওয়া থাকবে। বাংলাদেশি কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিলে, ভিনরাজ্যের প্রশাসন যাতে এ রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ পারে। ৩ দেশের প্রায় প্রতিটি রাজ্যে একজন করে ওয়েলফেয়ার অফিসার নিয়োগ করতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। তাঁদের কাজ হবে, সেই রাজ্যে বাংলার পরিযায়ীদের সমস্যার কথা শোনা ও তার সুরাহার জন্য পদক্ষেপ করা। বিপদে-আপদে ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ীরা যাতে ওই অফিসার ও তাঁর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ৪ ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী-হেনস্থার বিষয়টিকে আরও বেশি করে, বিজেপি-সহ দেশের বিভিন্ন দল ও তাঁদের জনপ্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরতে হবে।
পরিযায়ী-ইস্যুতে সক্রিয় অধীর
মুর্শিদাবাদের থেকে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া একের-পর-এক পরিযায়ী শ্রমিকের নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে থাকে গত একবছর ধরে। রণাঙ্গনে দেখা যায় চব্বিশের পরাজিত সৈনিক অধীর চৌধুরীকে। ফের পুরনো মেজাজে পথে নামেন 'মুর্শিদাবাদের রবিনহুড'। জুয়েল শেখের মৃত্যুর পর একেবারে ওড়িশায় গিয়ে সেখানকার প্রশাসন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন অধীর চৌধরী। শুধু তা-ই নয়। মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিক তামিলনাড়ুতে গত ছ-মাস ধরে গরাদের ভিতর রয়েছেন বলে তখন দাবি করেন তিনি। সেখানকার কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে কথাও বলেন একদা লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীর চৌধুরী। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি বলেন, "বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি নন, বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আশা করি, তাঁকে ফিরিয়ে আনতে পারবো। ওড়িশার কেওনঝড়ে সমস্যায় পড়েছেন জেলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাঁরা ঘর থেকে বেরোতে পারছেন না। আমি সেখানকার এসপি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এর একটা স্থায়ী সমাধান খুঁজে বার করা দরকার"।