বাংলার 'ভোট-কালচার' এবার বদলাচ্ছে, তা অনেক আগেই বুঝিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুধু ভোটের দিন আর বুথের চারপাশ নয়, তার আগেপরেও যাতে কেউ ভোটারদের হুমকি দেওয়ার সাহস না-পায়, সেই লক্ষ্যে কড়া নির্দেশ দেওয়া ছিল পুলিস প্রশাসনকে। এমতাবস্থায়, বিধাননগরে সুজিত-ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতা নির্মল দত্তকে গ্রেফতার করা হল। অভিযোগ, ভোটারদের ধমক-চমক দিচ্ছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, বিধাননগরই সুজিত বসুর বিধানসভা কেন্দ্র।
কিছুদিন আগে বহরমপুরে বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে ভোটারদের শাসাতে দেখা গিয়েছিল এক তৃণমূল নেতাকে। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই সক্রিয় হয় কমিশন। এবং, গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। কিন্তু, চটজলদি জামিন পান ওই নেতা এবং তারপর তাঁর শরীরী ভাষায় ফের শাসানি দেখা যায়। এমতাবস্থায় প্রশ্ন ওঠে, হুমকি দিয়ে এভাবে যদি চটজলদি জামিন পেয়ে যান শাসকদলের মেজ-সেজ-ছোট নেতারা, তাহলে গ্রেফতার করে লাভ কী?
প্রসঙ্গত, কোন ধারায় মামলা দিলে সহজেই জামিন পাওয়া যায়, তা বিলক্ষণ জানা রয়েছে পুলিসের। তাই বহরমপুরের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ে পুলিসের ভূমিকা। এমতাবস্থায়, বিধাননগরে ধৃত তৃণমূল নেতাকে এদিন আদালতে তোলা হলে ২৪ তারিখ অবধি জেল হেফাজত দেন বিচারক। আপাতত দিনদশেক শ্রীঘরেই থাকতে হবে প্রভাবশালী-ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে।
বাংলার 'ভোট কালচার' কি বদলাচ্ছে?
বাংলার 'ভোট কালচার' যে এবার পাল্টাবে তার আগাম ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের কথায়। কালীঘাট থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, "(ভোট) কালচার মানে কি বিজেপির ডান্স করা? উনি (সুব্রত গুপ্ত) এখানকার কালচার কী চেঞ্জ করবেন? বেঙ্গলের কালচার, বাংলার কালচার, বাংলাতেই থাকবে। উনি নিজের কালচার ঠিক করুন আগে"।
পরে যখন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে যখন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বাংরবার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তার উত্তরে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন: ভোট এবার অন্যরকম হবে।
কীরকম ভোট হবে এবার?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, বুথের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের হাতে। তাই ইভিএমে সেলোটেপ (হামেশাই যে-অভিযোগ ওঠে), ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরায় চুইংগাম লাগানো সহজ হবে না"। বাহিনীকে তো পুলিস নিয়ন্ত্রণ করবে, তাহলে? এবার আরও স্পষ্ট উত্তর, "পুলিসের কাজ হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সহায়তা করা। বুথের নিয়ন্ত্রণ আর পুলিসের হাতে থাকবে না। যাঁরা সীমান্তে সর্বদা পাহারা দিচ্ছেন, সেই জওয়ানদের কাছে একটা বুথ নিয়ন্ত্রণ করা কোনও ব্যাপারই নয়"।
বেচাল দেখলেই পপ আপ দেবে এআই
কমিশন এবার এতটুকু বেচাল দেখলে সংশ্লিষ্ট বুথের ভোট খারিজ করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেবে। রাজ্যের সিইও-র কথায়, "আগে রিপোল (পুনর্নির্বাচন) ছিল এক্সসেপশন, এবার এতটুকু সন্দেহ থাকলেই পুনর্নির্বাচন হবে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বুথের ভিতর চারজনের বেশি প্রবেশ নিষেধ। রাজ্যের ৮০ হাজার বুথের কোনও একটিতে যদি চারজনের বেশি লোক ঢুকে পড়ে, তাহলে সঙ্গে-সঙ্গে পপ-আপ দেবে এআই। সেই পপআপ দেখলেই তৎদণ্ডে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কমিশনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে চলে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীও দ্রুত পদক্ষেপ করবে। প্রত্যেক বুথের অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ, গুগল ম্যাপ, প্রিসাইডিং অফিসার, সব রয়েছে (সফটওয়্যারে)"। এরপর কমিশনের সাবধানবাণী, "কেউ গন্ডগোল করলে নিজের দায়িত্বে করবে"।