ফের ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু জঙ্গলমহলের যুবকের! ঝাড়খণ্ডে হাতি তাড়ানোর কাজে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাঁকুড়ার রাওতোড়া পঞ্চায়েতের কড়াপাড়া গ্রামের পিন্টু মুদি। বাড়ির একমাত্র রোজগ...
ফের ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু জঙ্গলমহলের যুবকের! ঝাড়খণ্ডে হাতি তাড়ানোর কাজে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাঁকুড়ার রাওতোড়া পঞ্চায়েতের কড়াপাড়া গ্রামের পিন্টু মুদি। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শোকস্তব্ধ পরিবার। মৃতের বাড়িতে পৌঁছেছেন স্থানীয় তৃণমূল ও বিজেপি নেতৃত্ব। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
জানা গেছে, গত শনিবার ঝাড়খণ্ডে গাড়িতে করে প্রায় দশজনের একটি দল হাতি তাড়ানোর কাজে যাচ্ছিলেন। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পিন্টু মুদির। সোমবার সকালে ময়না তদন্তের পর পরিবারের লোকজন তাঁর দেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। দেহ গ্রামে পৌঁছতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের দাবি, রাজ্যে ঠিকমতো কাজ না পাওয়ায় পিন্টু সহ এলাকার আরও অনেক যুবক বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যান। একটু বেশি মজুরির আশায় স্থানীয় এক এজেন্টের মাধ্যমে তিনি ঝাড়খণ্ডের বনদপ্তরের হাতি তাড়ানোর কাজে গিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, দেহ বাড়ি আনার খরচ ছাড়া তেমন কোনো আর্থিক সাহায্য মেলেনি। স্থানীয় প্রশাসনের তরফেও সেভাবে যোগাযোগ করা হয়নি বলেই তাদের দাবি। কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন গোটা পরিবার।
এদিকে সোমবার সকালে মৃত শ্রমিকের বাড়িতে যান রাজনৈতিক দলের নেতারা। তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা এসটি সেলের সভাপতি গঙ্গারাম মুর্মু পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, জঙ্গলমহল এলাকার অনেক যুবক হাতি তাড়ানোর কাজে অভিজ্ঞ। বিভিন্ন সময় এই কাজের জন্য তাদের ডাকা হয়। রাজ্য সরকারের কাছে তিনি আবেদন করবেন যাতে পরিবারটি প্রয়োজনীয় সাহায্য পায়।
অন্যদিকে বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক শান্তনু সিংহও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। দেহ সৎকারের জন্য দলের পক্ষ থেকে সাময়িক আর্থিক সাহায্য করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে কাজের অভাবেই যুবকরা ভিন রাজ্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তার দাবি, অবিলম্বে পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।