নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে নাটকীয় মোড়। কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শুক্রবার মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, এবার নন্দীগ্রামে তাঁরা কংগ্রেস প্রার্থী ...
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে নাটকীয় মোড়। কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শুক্রবার মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, এবার নন্দীগ্রামে তাঁরা কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবেন। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। শনিবার তাঁকে হলদিয়া আদালতে তোলা হতে পারে।
পুলিস সূত্রে খবর, পুরনো একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন মিলন। তাঁর নামে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই মামলার ভিত্তিতেই শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে শনিবারই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। আর তার আগেই এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে তুমুল চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। বিজেপি নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। সম্প্রতি তাঁর সমর্থনে হলদিয়ায় একটি সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই তাঁকে বিপুল ভোটে জেতানোর জন্য এলাকাবাসীর কাছে আবেদন জানান। সঙ্গে বলেন, 'আমি ভোট করতে জানি।'
অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূল, যা শুক্রবার থেকে 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নামে পরিচিত, নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী করেছিল তাদের পুরনো জনপ্রতিনিধি সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির প্রার্থী করেছে মহম্মদ এহেতাশ মুল হককে। সিপিআই এবং আইএসএফ-ও নন্দীগ্রামে প্রার্থী দিয়েছে। কিন্তু শুক্রবার হঠাৎ করেই সঞ্চিতা জানিয়ে দেন তিনি উপনির্বাচনে লড়ছেন না। কার্যত মনোনয়ন বাতিল করে দেন তিনি। দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে।
এরপরেই এই ঘটনায় বিজেপি তথা মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে মমতা ঘোষণা করেন, নন্দীগ্রামে তাঁরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবেন। কিন্তু সেই ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পাল্টে গেল সব। প্রার্থী হারাল কংগ্রেসও। ইতিমধ্যেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুকে বিরোধী প্রার্থীর এই গ্রেফতারি নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের আগে বিরোধীশূন্য করার চেষ্টা করছে বিজেপি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, 'হঠাৎ করে মামলা হল! এই ভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। বিরোধী রাজনীতি বলে কি কিছু থাকবে না এই দেশে?' তাঁর দলের প্রার্থীর গ্রেফতারির পিছনে বিজেপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শুভঙ্কর।যদিও বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, পুলিস তাদের কাজ করেছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।