বাংলার তৃণমূলের মহাবিপর্যয়ের কারণ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করছে দলের আদি-গোষ্ঠী। এমনকি, নব্য গোষ্ঠীর অনেকেও সেই দলেই নাম লিখিয়েছেন। বিধানসভায় ঋতব্রত-তৃণমূল এ-বার্তাও দিয়েছে যে, ‘নেত্রী’কে তাঁরা মানতে পারেন এখনও, কিন্তু ‘সেনাপতি’কে নয়। এমতাবস্থায়, একদিকে দলের অভ্যন্তরে যেমন অভিষেকের ডানা ছাঁটা হচ্ছে, অন্যদিকে, নিত্যদিন ইডি-সিআইডি ডেকে পাঠাচ্ছে তাঁকে। এমনকি, কলকাতা পৌরসভাও বাদ যাচ্ছে না। নামে, বেনামে, অনামে তাঁর বাড়ি বা ফ্ল্যাটে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফিরহাদ হাকিম উত্তর দিচ্ছেন, “আমি কারুর ইজারা নিইনি”।
এমনই ঘোর দুর্দিনে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে চব্বিশের লোকসভায় জয়ী তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী পুরনো ক্ষতে ফের খোঁচা দিলেন। মনে করিয়ে দিলেন, নিজের বাড়িতে আচমকা পড়ে গিয়ে মমতার আহত হওয়ার রহস্যময় ঘটনা।
প্রসঙ্গত, কয়েকবছর আগে নিজের বাড়িতেই আচমকা পড়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতিমতো রক্তপাত হয় তাঁর। আহত অবস্থায় এসএসকেএম-এ নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূল নেত্রীকে। আঘাত সে অর্থে গুরুতর না-হলে, আঘাতের কারণ নিয়ে জোর রাজনৈতিক জল্পনা চলে। প্রশ্ন ওঠে, নিজের বাড়িতে কি নিজে থেকেই পড়ে গেলেন মমতা, নাকি তাঁকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হল? পর্যবেক্ষকদের অনেকেই দ্বিতীয় সম্ভাবনার উপর জোর দেন বেশি। ঘরের লোকই মমতাকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করা হয়।
এরপর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকবছর। লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনসিপিআই নামক অখ্যাত দলে যোগ দিয়েছেন। এবং, সংসদে তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলেও জানিয়েছেন। এই বিদ্রোহীদের মধ্যে রয়েছেন অরূপ চক্রবর্তীও। পুরনো স্মৃতি উস্কে দিয়ে অরূপের প্রশ্ন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজের বিবেচনা মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন? পারতেন না। কারণ, তাঁর ঘরের ভিতরেই রয়েছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বাধ্য হয়েই অভিষেকের হাতে দলের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। আর সেই কারণেই তৃণমূল আজ বিপর্যস্ত”।