রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার। কিন্তু রাজনৈতিক সংঘর্ষের পুরনো ছবিটা যেন এখনও বদলায়নি। উত্তর ২৪ পরগনার নীলগঞ্জের মোচপোল এলাকায় এক বিজেপি বুথ সভাপতির উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগের তির তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতার দিকে। আক্রান্ত বিজেপি নেতা নুরুল হোসেনের দাবি, ২০২৩ সালে মোচপোলের ভয়াবহ বাজি বিস্ফোরণের পর তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘটনাস্থল ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় থেকেই এলাকার বাসিন্দা এবং কথিত অবৈধ বাজি কারখানার মালিক আবদুল মহিত তাঁর এবং তাঁর পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।
নুরুলের অভিযোগ, গত ৭ জুন তাঁর বাবা আবদুল্লার উপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় তিনি দত্তপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি তাঁর। বিজেপি নেতার অভিযোগ, গত ১২ জুন দুপুরে তাঁকে লক্ষ্য করে ফের হামলা চালানো হয়। আবদুল মহিত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় আহত নুরুলকে চিকিৎসাও করাতে হয়।
ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। নুরুল হোসেনের দাবি, থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর কয়েক দিন কেটে গেলেও মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হয়নি। এর জেরে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মহিত বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় মানুষ। নীলগঞ্জের এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে— রাজনৈতিক পালাবদল হলেও, তৃণমূল-বিজেপির দীর্ঘদিনের সংঘাতের সংস্কৃতি কি সত্যিই বদলেছে, নাকি ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও মাঠের লড়াই একই রয়ে গেছে?