বাংলায় তখনও এসআইআর শুরু হয়নি। বিহারে পুরোদমে মাঠে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। গণহারে নাম বাদ যাচ্ছে। এবং তা নিয়ে বিতর্ক চলছে দেশজুড়ে। এমতাবস্থায়, ধর্মতলায় একুশের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী হুঁশিয়ারি দিলেন, বাংলায় এসআইআর করে যদি বহু নাম দেওয়া হয় তাহলে কমিশনের দফতর ঘেরাও করবে তৃণমূল।
ওই একই দিনে, উত্তরবঙ্গ থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বাংলায় এসআইআর হলে কমবেশি এক কোটি নাম বাদ যাবে। এবং সেই এককোটির একটা বড় অংশই বাংলাদেশি, অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা।
জাম্পকাট ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিধানসভার ভোট কড়া নাড়ছে বাংলার দরজায়-দরজায়। এসআইআর সম্পূর্ণ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এবং তারপরই, ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হবে।
কিন্তু, বঙ্গে বিধি বাম। একদিকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ। অন্যদিকে, তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের লাগাতার বিক্ষোভ। আর তার মাঝে শুনানি-পর্বে তৃণমূল নেতাদের ধমক-চমক। এই পরিস্থিতিতে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন (১৪ ফেব্রুয়ারি) দু-সপ্তাহ পিছিয়ে গিয়েছে (২৮ ফেব্রুয়ারি)। এবং প্রশ্ন উঠেছে, 'বাদে'র খাতায় কত?
এদিন কোলাঘাটের দেউলিয়া বাজারে সস্ত্রীক চা-চক্রে যোগ দিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, "আমরা যেমন দাবি করেছিলাম, তেমনই হচ্ছে। এক কোটিরও কিছু বেশি নাম বাদ যেতে চলেছে"।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সত্যিই এক কোটি নাম বাদ যাবে কি না, তা বড় প্রশ্ন নয় এ ক্ষেত্রে। এখানে প্রশ্ন একটাই, একদা শুভেন্দু যে-দাবি করেছিলেন, এখন দিলীপও সেই দাবি করছেন। গতবছর যখন শুভেন্দুর মুখে এক কোটি অনুপ্রবেশকারীর কথা শোনা যাচ্ছিল, তখন দলে কার্যত কোণঠাসা ছিলেন দিলীপ। চব্বিশের লোকসভায় দিলীপকে নিজের আসনে লড়তে না-দেওয়ার নেপথ্যে শুভেন্দুর হাত ছিল বলেই পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন। এমতাবস্থায়, গত বছরের শেষের দিকে অপ্রত্যাশিতভাবে শাহী-আমন্ত্রণ পান দিলীপ। এবং তারপরই বঙ্গবিজেপিতে 'কামব্যাক' করেন। ফের আগের ফর্মে দেখা যায় তাঁকে।
পর্যবেক্ষকদের কাছে যা লক্ষণীয়, তা হল, একদা শুভেন্দু যে-দাবি করেছিলেন, সেই ১ কোটির দাবি এদিন দিলীপও করলেন। এবং জোর দিয়ে বললেন, "আমরা যা বলেছিলাম, তেমনই"।
এই 'আমরা'র মধ্যে আর কেউ থাকুক-না-থাকুক, শুভেন্দু অধিকারী যে রয়েছেন, তা বুঝতে অসুবিধে হয় না। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দিল্লি থেকে সেনাপতি এসে যেভাবে আদি ও নব্যদের একসঙ্গে চলার কড়া বার্তা দিয়েছেন, তাতেই কাজ হয়েছে। এবং সেই কারণেই দিলীপ-ঘরনি রিঙ্কুর প্রার্থী হওয়ার জল্পনা শোনা যাচ্ছে। এবং সেই জল্পনায় হাওয়া দিচ্ছে বঙ্গ-বিজেপির উপরমহল, তা স্পষ্ট। এবং অন্যদিকে, 'উপরমহলে'র (এক কোটির) দাবিও দিলীপের দাবি হয়ে উঠেছে আজ।