ভাতা নয় চাকরি। রবিবার থেকে রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রে শিবির তৈরি করে যুবসাথী (বেকারভাতা) প্রকল্পের ফর্ম বিলি শুরু হচ্ছে। তার প্রাক্কালে ফের সেই পুরনো প্রসঙ্গ, পুরনো বিতর্ক: ভাতা নয় চাকরি।বেকার...
ভাতা নয় চাকরি। রবিবার থেকে রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রে শিবির তৈরি করে যুবসাথী (বেকারভাতা) প্রকল্পের ফর্ম বিলি শুরু হচ্ছে। তার প্রাক্কালে ফের সেই পুরনো প্রসঙ্গ, পুরনো বিতর্ক: ভাতা নয় চাকরি।
বেকারভাতা পেতে অগস্ট অবধি অপেক্ষা করতে হবে না। এপ্রিলেই চালু হচ্ছে এই ভাতা। গত মঙ্গলবার নবান্ন থেকে আচমকাই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের রাজ্য বাজেটে (কার্যত ভোট অন অ্যাকাউন্ট) এই 'যুবসাথী' প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। যে প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে দেড়হাজার টাকা পর্যন্ত পাবেন রাজ্যের মাধ্যমিক পাশ বেকাররা। বয়স হতে হবে চল্লিশ বছরের নিচে। কথা ছিল, চলতি বছরের অগস্ট মাস থেকে চালু হবে এই প্রকল্প। এমতাবস্থায়, এই প্রকল্পের সময় এগিয়ে আনার কারণ ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এপ্রিল থেকে নতুন অর্থবর্ষ শুরু হচ্ছে, তাই ওই মাস থেকেই চালু করা হবে ওই প্রকল্প।
কারা পাবেন?
পাঁচবছর ধরে প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা করে পাবেন রাজ্যের বেকাররা। সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। ২৯৪ টি বিধানসভায় দুয়ারে সরকারের মতো শিবির হবে। প্রতিটি শিবিরে তিনটি বিভাগ থাকবে। প্রথমটি যুবকদের জন্য। মাধ্যমিক পাশ যে কোনও যুবক(যুবতীও) এই ভাতা পাবেন। তবে, তাঁদের মধ্যে যদি কেউ সরকারি স্কলারশিপ পান, তাঁরা এর আওতায় আসবেন না।
ভাতা নয় চাকরি?
ভোটের মুখে বেকারভাতা চালু নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়। প্রশ্ন ওঠে, বাংলার বেকারদের ভবিতব্য তবে মাস গেলে দেড়হাজার টাকা ভাতা? বিরোধী দল থেকে শুরু করে সমাজমাধ্যম, সর্বত্র দাবি ওঠে: ভাতা নয় চাকরি চাই।
এই পরিস্থিতিতে, শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করলেন, রাজ্যে ১০ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে, সরকার সেই পদে নিয়োগ করছে না। এই ১০ লক্ষের ব্রেক আপ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, "আগামিকাল থেকে একটি বড় নাটকের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলা। এই মাসের ১২ থেকে ২৭ তারিখ অবধি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা রয়েছে। এরই মধ্যে আগামিকাল থেকে রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভায় একটা টেবিল ও দুটো করে চেয়ার পেতে এই ফর্ম (বেকারভাতা) বিতরণের কাজ শুরু হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ভালোই জানেন, ২০১৩ সালে যেভাবে যুবশ্রী প্রকল্পের অপমৃত্যু ঘটিয়েছেন তিনি, এবারও নির্বাচনের জিতে আসতে পারলে, এই প্রকল্পেরও অপমৃত্যু ঘটাবেন তিনি। চাকরি নিয়ে কোনও কথা বলেননি। আমরা জানি, রাজ্যে ৬ লক্ষ রাজ্য সরকারি পদ অবলুপ্ত করেছেন তিনি। আর প্রায় ১০ লক্ষ পদ, যার মধ্যে ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার স্কুল শিক্ষক, কলেজ শিক্ষক, শিক্ষকর্মী, অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ হয়নি। এছাড়া, ১ থেকে দেড় লক্ষ পুলিস কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ লক্ষ পদে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। আমার প্রশ্ন, ২০১৩ সালের আবেদনকারী ১৭ লক্ষর ভবিষ্যৎ কী হল। তাঁদের মধ্যে কতজন চাকরি পেয়েছেন, তা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক কাজ্য। আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন, অনলাইনের বদলে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলার সময়ে কেন শিবির তৈরি করে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা ওঁর পুরনো চাল। আমি পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের বলছি, যে যেখানে পারেন দলে-দলে যান ফর্ম ভরতি করতে। সেখানে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব মোর্চার পোস্টকার্ডও দিয়ে আসবেন (একটি পোস্টকার্ডের প্রতিকৃতি দেখিয়ে), 'চাকরি চায় বাংলা'"।