বাংলায় বলার অপরাধ! মহারাষ্ট্রের পুণেতে খুন হতে হল পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের এক পরিযায়ী শ্রমিককে। এবার মহারাষ্ট্রে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনায় বিবৃতি দিল পুণের পুলিস। তাদের দাবি, নিহত শ্রমিক ...
বাংলায় বলার অপরাধ! মহারাষ্ট্রের পুণেতে খুন হতে হল পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের এক পরিযায়ী শ্রমিককে। এবার মহারাষ্ট্রে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনায় বিবৃতি দিল পুণের পুলিস। তাদের দাবি, নিহত শ্রমিক মত্ত অবস্থায় ছিলেন। মত্ত অবস্থায় দু’জনের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন পুরুলিয়ার ওই পরিযায়ী শ্রমিক। সেই বিবাদের জেরেই সুখেন খুন হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে বলে দাবি মহারাষ্ট্রের পুলিসের।
কিন্তু মহারাষ্ট্র পুলিসের এই দাবি মানতে চাইছে না পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। পুলিস নিজের ‘মুখ বাঁচাতে’ এই তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তৃণমূলের। শুক্রবারই নিহতের পুরুলিয়ার বাড়িতে যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুরে হেলিকপ্টারে পুরুলিয়ায় যাবেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। এরপর সুখেন মাহাত-র পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।
জানা গিয়েছে, মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম সুখেন মাহাতো। পুরুলিয়া জেলার বরাবাজার ব্লকের তুমড়াশোল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন যুবক। পেটের টানে রাজ্যের বাইরে কাজে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলায় কথা বলার কারণে যে এত বড় 'শাস্তি' পেতে হবে, তা হয়ত স্বপ্নেও কল্পনা করেননি যুবক। সুখেনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া এলাকায়। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তিন ভাই মহারাষ্ট্রের পুণেতে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন তাঁরা। গত ১০ তারিখ প্রতিদিনের মতোই কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন সুখেন। কিন্তু তারপর আর বাড়ি ফেরেননি। এরপরেই খোঁজখবর শুরু হতেই তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর সামনে আসে। উদ্ধার হয় সুখেনের রক্তাক্ত দেহ। তাঁর শরীরে একাধিক গভীর ক্ষত পাওয়া গিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।