তুচ্ছাতিতুচ্ছ ভুল। এবং তা সংশোধনের উদ্দেশ্যে শুনানিতে ডেকে পাঠানো। গত একমাস ধরে পাড়ায়-পাড়ায় এই অভিযোগ শোনা গিয়েছে। এবং সাধারণ মানুষের এই হেনস্থার জন্য কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে রাজ্যের শাসকদল...
তুচ্ছাতিতুচ্ছ ভুল। এবং তা সংশোধনের উদ্দেশ্যে শুনানিতে ডেকে পাঠানো।
গত একমাস ধরে পাড়ায়-পাড়ায় এই অভিযোগ শোনা গিয়েছে। এবং সাধারণ মানুষের এই হেনস্থার জন্য কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে রাজ্যের শাসকদল। এমতাবস্থায়, পাল্টা ভাষ্য তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি: রাজ্য সরকারের আধিকারিকরাই মূলত এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। এবং কমিশনকে বদনাম করতে ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁরা এই ভুল করছেন। যাতে করে, এসআইআর প্রক্রিয়ার উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে রাজ্যের আম জনতা।
এদিন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, "আধিকারিকদের ভুলেই তো এই (নাম বাদ যাওয়ার) সমস্যা হচ্ছে। নইলে কোনও ভারতীয়র নাম বাদ যাবে না। এসআইআর কে করছে? নির্বাচন কমিশন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তো শুধু ১ জন আধিকারিককে (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) কলকাতাতে বসিয়েছে। নিচে সবাই দিদির আধিকারিক, এসডিও, বিডিও, বিএলও, সবাই তো রাজ্য সরকারের অধীনে। ওঁরা যদি ভুল করে, তাহলে তার দায় তো তৃণমূলকে নিতে হবে, বিজেপিকে কেন দোষ দেওয়া হচ্ছে"।
ভুবনের ছেলে আলি!
পাঁশকুড়ার মাইসোরা এলাকার মাংলোই গ্রামের বাসিন্দা বিজয়কৃষ্ণ বেরা বেজায় মুশকিলে পড়েছেন। তাঁর বাবার নাম ভুবন বেরা। এই পর্যন্ত ঠিকই আছে। কিন্তু তাঁর নাম পাল্টে গিয়ে গয়েছে রাজেশ আলি।
এখানেই এ গল্পের শেষ নয়। বিজয়কৃষ্ণই যে ভুবনের ছেলে, তার সাক্ষ্য দিচ্ছে আধার কার্ড। এমননি, ২০০২ সালের ভোটার কার্ডও। তা সত্ত্বেও, 'ভুবনের ছেলে আলি'।
খোঁচা-খোঁচা দাড়ি আর নিষ্প্রভ চাউনি নিয়ে বিজয়কৃষ্ণ বলছেন, "বিএলও কিন্তু ঠিক নামই লিখে আপলোড করছেন। কিন্তু, তারপর যে কী হচ্ছে, কে জানে"!
শুনানিতে ডাক পেয়ে গিয়েছেন বিজয়কৃষ্ণ। যাতে করে তাঁর পিতৃদত্ত নামটি অক্ষত থাকে। কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হবে না বলেই মনে করছেন বিজয়কৃষ্ণ ও তাঁর পরিজনেরা। কিন্তু এই রাজেশ আলি আদতে কে? কোথায় থাকেন তিনি? বিজয়কৃষ্ণ বলছেন, তাঁর ত্রিসীমানায় এই নামে কেউ থাকেন না। কিন্তু তবু, 'ভুবনের ছেলে আলি'।
বিএলও গোপাল সিংহ থেকে শুরু করে বিডিও মোহন ভার্মা পর্যন্ত স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, কোথাও একটা সমস্যা হচ্ছে। আর বিজেপি নেতা অলোক দলুই দলের তৈরি করা ভাষ্য অনুযায়ী বলছেন, এই ভুল ইচ্ছাকৃত। যাতে এসআইআর নিয়ে মানুষ ক্ষুব্ধ হন।