ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী অভিযান নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়া এমনিতেই উত্তপ্ত। বুথ লেভেল অফিসারদের উদ্দেশে একদিকে সরকারি-হুঁশিয়ারি, ভোট-পর্ব চুকলে কিন্তু রাজ্যের অধীনেই কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, প...
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী অভিযান নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়া এমনিতেই উত্তপ্ত। বুথ লেভেল অফিসারদের উদ্দেশে একদিকে সরকারি-হুঁশিয়ারি, ভোট-পর্ব চুকলে কিন্তু রাজ্যের অধীনেই কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দলের হুঁশিয়ারি, শাসকদলের কথা মতো ভোটার তালিকায় জল মেশালে জেলে যেতে হবে। এমতাবস্থায়, এই দুই মেরুর আকর্ষণ ও বিকর্ষণের মাঝে ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা হচ্ছে তাঁদের,যাঁরা গলিঘুঁজির মধ্যে ঢুকে ও বহুতলের সর্বোচ্চ তলে গিয়ে দরজায়-দরজায় কড়া নাড়ছেন। এবং, অসহনীয় চাপ সইতে না-পেরে হয় হয় স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছেন, নয়তো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের দরুন মারা যাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে এসআইআর মামলার শুনানি হয়। একদিকে মামলাকারী পক্ষ আর অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি দিয়ে সওয়াল করে। এমতাবস্থায়, সনাতনী সংসদ নামের এক সংগঠনের হয়ে সওয়াল করে আইনজীবী ভিভি গিরি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিএলও-রা রীতিমতো হুমকির মুখে কাজ করছেন, সর্বক্ষণ রাজ্যের নির্বাচনী কার্যালয় ঘিরে রাখছে কিছু লোক। পশ্চিমবঙ্গে ভোট-হিংসার প্রসঙ্গ তুলে বেশ কিছু এফআইআরের দৃষ্টান্ত দেন আইনজীবী গিরি। এবং বিএলও-দের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর আর্জি জানান আদালতের কাছে।
মামলাকারীর আবেদন শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানান, অভিযোগ খুব গুরুতর। এমন একটা দৃষ্টান্ত (বিএলও-দের হুমকি) সামনে এলে কঠোর পদক্ষেপ করবে আদালত। এরপর নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, কোথায় আপনারা বিষয়টি আদালতের নজরে আসবেন, তা নয়, অন্যদের কাছে শুনতে হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি না যে, এ এক বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বিএলও-রা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা না-পেলে তা রীতিমতো ভাবনার বিষয়। এই নৈরাজ্য বরদাস্ত করা হবে না"।
পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনের বক্তব্য কী, তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের মোট ১২ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কীভাবে এসআইআর চলছে, তা নিয়ে এদিন রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় ঘেরাও আর এসআইআর নিয়ে শাসকনেতাদের নিত্য নৈমিত্তিক হুমকি এবার বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে পারে।