দু-আড়াই দশক আগের কথা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সস্তার জনপ্রিয়তায় তাঁর রুচি ছিল না একেবারেই। তিনি খবর পেলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন বহু মাদ্রাসা চলছে, যা স্বীকৃত নয়। এবং, ওই সব ম...
দু-আড়াই দশক আগের কথা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সস্তার জনপ্রিয়তায় তাঁর রুচি ছিল না একেবারেই। তিনি খবর পেলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন বহু মাদ্রাসা চলছে, যা স্বীকৃত নয়। এবং, ওই সব মাদ্রাসা কমবয়সিদের মগজধোলাই করে জেহাদি তথা সন্ত্রাসী তৈরির লক্ষ্য নিয়ে চলছে।
গোয়েন্দাসূত্রে এই খবর পেয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে উদ্যোগী হলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু প্রগতিশীল পশ্চিমবঙ্গে একেবারে হইহই-রইরই পড়ে গেলে। বাম, অতিবাম, যাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাস করেন না, তাঁরাই প্রতিবাদ শুরু করলেন। প্রশ্ন তুললেন, কে বলেছে মাদ্রাসা মানেই খারাপ, মাদ্রাসা মানেই জেহাদি তৈরির কারখানা? এমতাবস্থায়, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কার্যত পিছিয়ে এলেন। এবং, যা করবেন বলে ভেবেছিলেন, তা আর করতে পারলেন না।
জাম্প কাট ২০২৬
এর মধ্যে কেটে গেছে আড়াই দশক। সরকার স্বীকৃত নয়, এমন বহু মাদ্রাসায় কী হয় আর না-হয়, তা বিলক্ষণ বুঝেছে বাংলার মানুষ। কিন্তু বুঝলে কী হবে, ততদিনে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। রাজ্যের তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের পথে না-হেঁটে তোষণের পথ ধরল। শুরু হল ইমাম ভাতা। রাতদুপুরে বাইকের সাইলেন্সার খুলে প্রবল শব্দে বাইক বাহিনী পাড়ায়-পাড়ায় ঘুরতে লাগল। যে-বাহিনীর একটা বড় অংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবক।
অবশেষে, বাংলায় ফের পালাবদল হল। ক্ষমতায় এল বিজেপি সরকার। তোষণ নয়, সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়নের পথে হাঁটার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। এই সরকারের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু এদিন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে জানান, বেআইনি মাদ্রাসা চালাতে দেওয়া হবে না। তারপরেও যদি ওই সব চালু করা হয়, তাহলে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।