একুশের বিধানসভায় ফল ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে বিরোধী পরিবারের উপর আক্রমণ নেমে এসেছিল। খাস কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুন হন। অভিযোগ, এলাকার তৃণমূল বিধায়ক ও কাউন্সিলরের উদ্যো...
একুশের বিধানসভায় ফল ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে বিরোধী পরিবারের উপর আক্রমণ নেমে এসেছিল। খাস কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুন হন। অভিযোগ, এলাকার তৃণমূল বিধায়ক ও কাউন্সিলরের উদ্যোগেই ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টচার্যের কথায়, "২০২১ সালের মে মাসে, গণনার দিন থেকে শুরু করে ২৭ দিনের মধ্যে ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন হন। ২৭ জন মহিলা প্রকাশ্যে দাবি করেন, তাঁদের গণধর্ষণ করা হয়েছে। জেসিবি দিয়ে বাড়ি ভাঙা হয়েছে। অবর্ণনীয় অত্যাচার চলেছে বিরোধীদের উপর। সেদিন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন পশ্চিমবঙ্গে শাসকের আইন ছিল, আজ আইনের শাসন।"
ওই ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হয়েছিল গাইঘাটার বিশ্বাস পরিবার। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি হেরে যেতেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বিশ্বাসদের বসতবাড়ি। মারধর, অত্যাচার ও মিথ্যা মামলার মুখে অসহায় অবস্থায় গোটা পরিবার গ্রাম ছেড়েছিল। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়লাভ করতেই পাঁচ বছর পরে বাড়ি ফিরে এল উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার বিশ্বাস পরিবার। বসতভিটেয় পা রাখতেই চোখের জল বাঁধ মানছে না পরিবারের সদস্যদের।
গাইঘাটার সুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পাঁচপোতা আচার্যপাড়া। ওই সময় গ্রামে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। অন্যদিকে, বিজেপির পতাকা ধরেছিল বিশ্বাস পরিবার। অভিযোগ, তৃণমূলের নেতারা বারবার তাদের বিজেপি ছাড়তে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু বিশ্বাস পরিবার তাতে বিশেষ আমল দেয়নি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হয়। ফল ঘোষণার রাতেই শুরু হয়ে যায় বদলা নেওয়ার খেলা। অভিযোগ, বিজেপি সমর্থক শম্ভু বিশ্বাসের স্ত্রী কল্পনা, মেয়ে অতসী ও জামাই গোবিন্দ দাসকে ফল ঘোষণার রাতেই বেধড়ক মারধর করা হয়। ভয়ে সেই রাতে আক্রান্ত বিশ্বাস পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করতে সাহস পাননি প্রতিবেশীরাও । পরের দিন সকালে বিজেপির পাঁচপোতা মণ্ডলের সহ-সভাপতি বাবলু দাস তাঁদের উদ্ধার করে ঠাকুরনগর হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন। ওইদিনই তাঁদের বসতভিটে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া। পরে তাঁরা খবর পান, বসতবাড়িটি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। কল্পনা, অতসী বা জামাই গোবিন্দ কেউ আর গ্রামে ফিরতে পারেননি। উল্টে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে গোবিন্দকে গ্রেফতার করানো হয়েছিল বলে অভিযোগ । সে মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন।
দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতন হয়েছে। ঘরে ফিরে এসেছেন বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা। কল্পনা দাস বলেন, ''তৃণমূলের ভয়ে তখন আমাদের এলাকায় কেউ বিজেপি করতেন না। শুধু আমরাই বিজেপি সমর্থক ছিলাম। ২০২১ সালে ভোটে হেরে যাওয়ার পর তৃণমূলের লোকেরা বুলডোজার দিয়ে আমাদের বাড়ি ভেঙে দিয়েছিলেন। আমাদের মারধর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।''
কল্পনা দাসের জামাই গোবিন্দ দাস বলেন, ''বিজেপি করার অপরাধে ২০২১ সালে ভোটের ফল ঘোষণার রাতে আমাদের ওপর নৃশংস আক্রমণ হয়েছিল। বিজেপি নেতা বাবলু দাস আমাদের উদ্ধার করে ঠাকুরনগর হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছিল। আমাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল।''
যদিও বুলডোজার দিয়ে বিজেপি সমর্থকদের বাড়ি ভাঙা ও মারধর করার অভিযোগ তৃণমূল অস্বীকার করেছে। তৃণমূলের পাঁচপোতা ব্লকের সভাপতি বিকাশ আচার্য বলেন, ''শম্ভু বিশ্বাসের পরিবার পুরোপুরি মিথ্যা কথা বলছেন। রাজনৈতিক কোনও বিষয় ছিল না। জমি নিয়ে পারিবারিক গোলমালে সে সময় তাঁরা বাড়ি ছেড়েছিলেন। এবার বিজেপি ভোটে জেতার পর বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা গ্রামে ফিরে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করছেন।''