সোমবারের সু্প্রিম-শুনানির ওপর নির্ভর করবে বাংলার কয়েক লক্ষ মানুষের ভোট-ভবিষ্যৎ। দু-দফা ভোটের আগে ট্রাইবুনালে উতরোতে পারলেই কি বুথমুখী হওয়া যাবে? আর তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, ট্রাইবুনালেও য...
সোমবারের সু্প্রিম-শুনানির ওপর নির্ভর করবে বাংলার কয়েক লক্ষ মানুষের ভোট-ভবিষ্যৎ। দু-দফা ভোটের আগে ট্রাইবুনালে উতরোতে পারলেই কি বুথমুখী হওয়া যাবে? আর তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, ট্রাইবুনালেও যাঁদের নাম উঠবে না, তাঁরা কি ডি-ভোটার চিহ্নিত হবেন? পড়শি রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্পের আবহে এ প্রশ্ন এখন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে এ প্রশ্ন আগেই উঠেছিল, বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)দের মধ্যে যাঁরা বাদ গিয়েও শেষ অবধি ট্রাইবুনালে উতরোতে পারবেন, তাঁরা কি এবার ভোট দিতে পারবেন? বিষয়টি মাথায় রাখলেও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে কিছু জানাননি এখনও। আদালত শুধু সুনিশ্চিত করেছে যে, এবার ভোট দিতে না-পারলেই চিরতরে ভোটাধিকার চলে যাবে তা কিন্তু নয়।
কেন এই সংশয়?
নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন পর্ব শেষ হলেই ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যায়। তখন আর কোনও নাম তোলা যায় না। নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তারপর ফের নাম তোলা যায়, বছরভর। রাজ্যে দু-দফার ভোটে প্রার্থীদের মনোনয়ন পর্ব শেষ হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায়, ট্রাইবুনালে আবেদন করতে জেলায়-জেলায় হাজার-হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন। ফরাক্কা ও রতুয়ার কংগ্রেস প্রার্থী ট্রাইবুনালের রায়ে উতরে গিয়ে একেবারে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রাজ্যে প্রথম দফায় ২৩ তারিখ ও দ্বিতীয় দফায় ২৯ তারিখ ভোটের আগে ট্রাইবুনালের রায়ে অনেকেই বৈধ ভোটার হয়ে উঠতে পারেন। পরে ভোটার তালিকায় নাম উঠলেও এবার তাঁদের নাম ওঠার কথা নয়। এবং, সেই কারণে এবার তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগও থাকার কথা নয়।
ডি-ভোটার?
এমতবস্থায়, আগামী সপ্তাহে ট্রাইবুনাল তার কাজ শুরু করে দিলেও সংশয় থেকে যাচ্ছে দু-জায়গায়। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)দের মধ্যে যাঁদের নাম বাদ দিয়েছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা, তাঁদের মধ্যে যাঁরা উতরোতে পারবেন, তাঁরা এবার ভোট দিতে পারবেন কি না। এবং, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ট্রাইবুনালের বিচারেও যাঁদের নাম বাতিল হবে, তাঁরা কি ডি-ভোটার বলে চিহ্নিত হবেন?