শুধু কলকাতার নয় গোটা বাংলার সবথেকে আলোচিত বিধানসভা কেন্দ্র অবশ্যই ভবানীপুর। এই কেন্দ্রই মুখ্যমন্ত্রীর চারণক্ষেত্র। গত নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে জয় পেয়ে বিধানসভায় গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কে...
শুধু কলকাতার নয় গোটা বাংলার সবথেকে আলোচিত বিধানসভা কেন্দ্র অবশ্যই ভবানীপুর। এই কেন্দ্রই মুখ্যমন্ত্রীর চারণক্ষেত্র। গত নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে জয় পেয়ে বিধানসভায় গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রের উত্তরে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড, দক্ষিনে বালিগঞ্জ এবং টালিগঞ্জের সংযোগস্থল, পূর্বে হরিশ মুখার্জি রোড এবং পশ্চিমে রবীন্দ্র সরোবর। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ভোটারের প্রায় ৪২ শতাংশ হিন্দু, অবাঙালি হিন্দু ভোটারের সংখ্যা ৩৪ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ। বর্তমানে এসআইআর এ এই কেন্দ্র থেকে মুসলিম ভোটার বাদ গিয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ।
ভোট প্রাক্কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা, এক ভোট হলেও জিতব। এটি আত্মপ্রত্যয় অথবা দ্বিধা বলা মুশকিল। কলকাতার জন্মের আগে ভবানীপুর এলাকাটি গোবিন্দপুর, সুতানটি কিংবা কলকাতার মধ্যে অবস্থিত ছিল না। এলাকাটি ডিহি পঞ্চান্নগ্রামের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভবানীপুরের নামকরণে কয়েকটি যুক্তি উঠে আসে। কিছু মানুষ বলেন, কোনও প্রাচীন ভবানী মায়ের মন্দির ঘিরে এলাকার নাম হয় ভবানীপুর। আবার অনেকে বলেন নাটোরের রাণী ভবানীর প্রভাব ছিল এই অঞ্চলে। সে থেকেও ভবানীপুর নাম হতে পারে। তবে সবথেকে গ্রহণযোগ্য যে যুক্তি, তা হল বাংলার বারো ভুঁইয়ার অন্যতম ছিলেন যশোররাজ প্রতাপাদিত্য। পরবর্তীকালে প্রতাপাদিত্যের খুলনা বাগেরহাট অঞ্চলের যাবতীয় সম্পদ ও প্রশাসনিক বিষয় দেখাশোনা করতেন ভবানী দাস। এই অঞ্চলেও তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব ছিল বলে মনে করা হয়। সেই থেকেই এই অঞ্চলের নাম ভবানীপুর।
এই বিধানসভা কেন্দ্রের ওপর এবার নির্ভর করছে বাংলা রাজনীতির অনেককিছুই। এই কেন্দ্রে এবার মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতবারের এই লড়াইয়ে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। লড়াই অবশ্য হয়েছিল শুভেন্দুগড়ে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘাটিতে শুভেন্দু। এসআইআর পরবর্তী সময়ে সমীকরণ কিছুটা জটিল হয়েছে বটে। এলাকার অবাঙালি ভোটারের আধিক্য এবং উল্লেখযোগ্য হারে মুসলিম ভোটার বাদ যাওয়া বাড়তি অক্সিজেন যোগাচ্ছে বিরোধী শিবিরকে। তবে ভোটে এসব কোনও ফ্যাক্টর হবে না। ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।